সাতকানিয়ায় ভোক্তা অধিকারের নামে অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্য: ইউএনও’র কড়া হুঁশিয়ারি
সাতকানিয়া উপজেলায় সম্প্রতি কিছু অসাধু চক্র প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ অবস্থায় সাতকানিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান ফেসবুকে একটি সতর্কতামূলক পোস্ট দিয়েছেন।
সোমবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাত ১১টা ১৪ মিনিটে জনস্বার্থে দেওয়া ওই ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, “কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ভাঙিয়ে ব্যবসায়ীদের নানাভাবে হয়রানি করছে। এ ধরনের প্রতারণার ফাঁদে কেউ পা দেবেন না। এসব চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
ইউএনও আরও জানান, যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি এমন চক্রের হয়রানির শিকার হন, তারা যেন অবিলম্বে উপজেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের এই সতর্কতাকে স্বাগত জানিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতারকরা সাধারণত নিজেদের ভোক্তা অধিকারের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে বাজারে যায়। তারা বিভিন্ন অজুহাতে দোকান বা প্রতিষ্ঠান মালিকদের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করে।
সাতকানিয়া বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, কিছুদিন ধরে হঠাৎ হঠাৎ কিছু লোক এসে ভোক্তা অধিকারর নাম বলে ভয় দেখাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে যাচ্ছিল। ইউএনও সাহেবের উদ্যোগে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, এর আগে এমন প্রতারণার ঘটনা দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটলেও সম্প্রতি সাতকানিয়ায়ও সক্রিয় হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে এসব প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়লেই এই ধরনের প্রতারণা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করা দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ধরা পড়লে প্রতারক চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রতারণা এবং সরকারি পরিচয় ভাঙানোর অভিযোগে মামলা হতে পারে, যা সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডযোগ্য।








