মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

এক দফা আন্দোলনের বিস্ফোরণমুখর দিন

গতবছরের ৪ আগস্ট সাতকানিয়ায় গর্জে উঠেছিল জনতা, কেঁপে উঠেছিল ক্ষমতা

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫, ২:০৯ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গতবছরের ৪ আগস্ট সাতকানিয়ায় গর্জে উঠেছিল জনতা, কেঁপে উঠেছিল ক্ষমতা

এক বছর আগে এই দিনে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় রাজনীতির ইতিহাসে নতুন এক বাঁক রচিত হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা সরকার পতনের এক দফা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাতকানিয়া পরিণত হয়েছিল এক বিশাল আন্দোলনমুখর মঞ্চে। আন্দোলনে কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পথচারী, রিকশাচালক—সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।

এই জনপদের রাজপথে ওইদিন একটা রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি ভেঙে পড়ে। ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ মিছিলে কেবল হুঙ্কারই ছিল না, ছিল জনগণের জমে থাকা হতাশা, ক্ষোভ, অধিকারহীনতার দীর্ঘশ্বাস। এই দিনটি এখন সাতকানিয়ার ইতিহাসে পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘জুলাই দ্রোহের আগস্ট বিস্ফোরণ’ হিসেবে।

সারাদেশে তখন ছড়িয়ে পড়ে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে ছাত্র-জনতার আন্দোলন। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় এর প্রতিধ্বনি পড়ে ৪ আগস্ট। “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন” নামে সংগঠিত একটি নেটওয়ার্ক গোপনে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাতে থাকে। ৩ আগস্ট রাতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি বার্তা ছড়িয়ে পড়ে— “৪ আগস্ট দুপুর ৩টায় মিঠাদিঘী থেকে কেরানীহাট পর্যন্ত জনগণের পদচারণা হবে”।

৪ আগস্ট, ২০২৪। মিঠাদিঘী এলাকায় জমায়েত হতে থাকে তরুণ-তরুণী, কৃষক-শ্রমিক, রিকশাচালক, দোকানদার। দুপুর ৩টায় হাতে হাত ধরে তারা হাঁটতে শুরু করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে। লক্ষ্য ৫ কিলোমিটার দূরে কেরানীহাট স্টেশনে জমায়েত। স্লোগান ওঠে— এক দফা, স্বৈরাচারের পতন চাই। স্বৈরাচার নিপাত যাক, জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা পাক। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এ ছিল বিগত এক দশকে সবচেয়ে জনসম্পৃক্ত এবং শক্তিশালী একটি গণমিছিল।

দুপুর সাড়ে ৩টা বাজতে না বাজতেই প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়ক আন্দোলনকারীদের দখলে চলে যায়। কেরানীহাট হক টাওয়ারের সামনে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তখন অবস্থান করছিল সরকারি দল সমর্থিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

সেদিন ঘটনাস্থলে ছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। গাজী টিভির প্রতিনিধি হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আমরা কয়েকজন সাংবাদিক কেরানীহাট স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের ছাদে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলাম। নিচে দেখি ৪-৫ জন ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মী মোটরসাইকেলে অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে। আমাদের উপর থেকে তাকিয়ে থাকতে দেখে ছাত্রলীগের এক সদস্য মোবাইলে ফোন করে জানতে চায়—আমরা ভিডিও করছি কিনা। হুমকির সুরে জানায়, “পোলাপাইন আপনাদের উপর হামলা করতে চায়, আপনারা উপরে কেন?” আমি তৎক্ষণাৎ সবাইকে অফিসের ভেতরে ঢুকে যেতে বলি।’

তিনি জানান, হুমকির পরপরই সাংবাদিকরা অফিসের জানালার আড়ালে লুকিয়ে পড়েন। তখন তারা প্রত্যক্ষ করেন—এক সাধারণ পথচারীর মোবাইল ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পরক্ষণেই একই পরিণতি ঘটে আরও কয়েকজন রিকশাচালকের।

ঠিক তখনই দূর থেকে এগিয়ে আসে ছাত্র-জনতার বিশাল মিছিল। স্লোগানের গর্জন শুনে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডাররা হক টাওয়ারের সামনে থেকে গুলি ছোঁড়ে। কিন্তু গুলির সামনে থেমে যায় না মিছিল। মিছিলের গণজোয়ার দেখে তারা হক টাওয়ার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মিছিলকারীরা তখনো থামেনি। বরং আরও শক্তিশালীভাবে এগিয়ে আসে। ছাত্রলীগ-যুবলীগের ক্যাডররা গুলি ছুড়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। কেরানীহাট মোড় যেন যুদ্ধক্ষেত্র। বিক্ষোভকারীরা কেরানীহাটে অবস্থান নেয়। এসময় ছাত্রলীগ-যুবলীগের ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেল আগুনে পুড়িয়ে ফেলে জনতা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেরানিহাটে পুলিশের কেউ ছিল না। প্রশাসন পুরোপুরি গায়েব। সন্ধ্যার দিকে বিক্ষোভকারীরা স্থান ত্যাগ করলে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা তখন বলেছিলেন, ‘এক দফা দাবিতে রাস্তায় নেমেছি। ঘরে ফিরব না, স্বৈরাচার পতন না হওয়া পর্যন্ত। আমরা একটি নতুন যুদ্ধ শুরু করেছি।’

তাদের বক্তব্যে ছিল এক ধরনের দৃঢ়তা ও বিশ্বাস—‘গণভবন স্বৈরাচারীর নয়, জনগণের ভবন। সময় এসেছে নতুন দিনের। সময় এসেছে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের।’

আজ, এক বছর পর সাতকানিয়ার মানুষ সেই দিনটির কথা স্মরণ করে বলেন—সেদিন ছিল ভয় আর সাহসের মিশ্রণ। অনেকে বলছেন, সকালেও ভেবেছিলাম আন্দোলন দুর্বল হবে, কিন্তু দুপুরে দেখলাম—শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, আশপাশের গ্রামের মানুষ, দোকানি, রিকশাচালক পর্যন্ত রাস্তায় নেমে গেছে।

তৎকালীন প্রশাসনের নীরব ভূমিকাও ছিল সমালোচনার কেন্দ্রে। একজন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, সকালে ছাত্রলীগ-যুবলীগের অস্ত্রধারীদের দখলে ছিল কেরানীহাট এলাকা। অথচ কোনো পুলিশ ছিল না। বরং পুলিশের অনুপস্থিতিই ইন্ধন জুগিয়েছে তাদের আগ্রাসনে।

আজও একটি প্রশ্ন রয়ে গেছে—কেরানীহাট মোড়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগের গুলির নির্দেশদাতা কে? কারা এনেছে নতুন ধরনের অস্ত্র? কেন প্রশাসন উপস্থিত ছিল না? এই প্রশ্নগুলো উত্তরহীন থেকে গেছে।

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট কেবল একটি বিক্ষোভের দিন ছিল না। সেটি ছিল সরকারি দমন নীতির মুখে জনতার সামষ্টিক প্রতিবাদের এক উজ্জ্বল দিন। সাতকানিয়ার মানুষ সেই দিনটিকে আজও স্মরণ করে আতঙ্ক ও গৌরবের মিশ্র আবহে। ৪ আগস্ট ২০২৪ ছিল রাষ্ট্রের মুখোমুখি হওয়া এক সাহসী তরুণ প্রজন্মের দিন। কেরানীহাটের রাস্তা সেদিন ছিল শুধু এক টুকরো মাটি নয়, ছিল এক বিস্ফোরিত সত্যের রণক্ষেত্র।

জনগণ সেদিন প্রমাণ করেছিল—নিরবতা আর চলে না। সময় এসেছে ঘুরে দাঁড়ানোর। আর তাই এক বছর পর, সাতকানিয়ার মানুষ এখনো বলেন— “আমরা ভুলিনি, ভুলব না—আগস্টের সেই আগুনঝরা দিন।”

টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১১ পিএম
টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

টাকা না দিলে থানায় আটক ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। সেই অর্থ না পেলে থানায় তোলা ছবি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আটক ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো প্রেস রিলিজে আটক ব্যক্তির ছবি ব্লার করা অবস্থায় দেওয়া হলেও, একই ব্যক্তির অব্লার ছবি এর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন ভিন্নতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন থাকে, তবে সেই নীতি সবক্ষেত্রেই সমানভাবে অনুসরণ করা উচিত। অন্যথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাঁর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হয়ে যায়। এতে আদালতে বিচার শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি, ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়া থানায় আটক একাধিক ব্যক্তির ছবি প্রেস রিলিজ প্রকাশের আগেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, থানার ভেতরে তোলা ছবি কীভাবে এত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌঁছে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক স্বজনকে আটকের পর বিভিন্নভাবে টাকার কথা বলা হয়। টাকা দিতে না পারার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি থানায় তোলা তাঁর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পরিচিতজনরা ফোন করে জানতে চান কী হয়েছে। এতে আমরা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, আইনি প্রক্রিয়া চলার আগেই একজনের ছবি এভাবে প্রকাশ করে দেওয়া ঠিক নয়। পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও সমাজের মানুষের কাছে সেই অপবাদ থেকেই যায়।

আরেকজন অভিযোগ করেন, ছবি প্রকাশ করে সামাজিক চাপ তৈরি করা হয় বলে আমাদের মনে হয়েছে। এতে পরিবার ভয় ও মানসিক চাপে থাকে। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া তাঁর সম্মান ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা তাঁর ছবি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সামাজিক ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে এমন ছবি প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যদিও এর আগে কয়েকবার এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেছিলেন, থানা থেকে কোনো ব্যক্তির ছবি ফাঁস করা হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবি ছড়ায়, সেগুলোর উৎস সম্পর্কে  জানা নেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব।

বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান  প্রতিনিধি:

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব মেলাসহ নানা আয়োজনে বান্দরবানে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় যুব ভবনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক অংজাই উই চাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা জামায়াতের আমীর এসএম আব্দুস সালাম আজাদ,বান্দরবান ইসলামিক ফাউণ্ডেশন উপপরিচালক মো সেলিম উদ্দিন,বান্দরবান প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,বিএনপি নেতা মো.আবু তাহের।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বান্দরবান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনায়েত করিম। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিপিসি মোখলেসুর রহমান, বান্দরবানের বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী, বালাঘাটা ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো:আলী’সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, যুব সংগঠক ও তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার লুবু প্রু মারমা।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি যুব মেলায় তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণের চেক বিতরণ ও ৩টি যুব সংগঠনের নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন,দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

মোহাম্মদ আবুল হাশেম লামা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ হলেও বরাবরের মতো এবারও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বোধিছড়াস্থ ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬০ জনেই পাশ করেছে। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পেয়েছে ১৭ জন, এতে পাশের হার শতভাগ। সে মতে জেলার অন্যান্য কলেজের চেয়ে ফলাফলে এগিয়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বান্দরবান জেলার ১৪ টি কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ থেকে ৩টি বিভাগে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪জন, এতে ‘এ’ প্লাস ৫জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৯জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১২জন, এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস ৪জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৮জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় ৩৪জন অংশ গ্রহণ করে ‘এ’ প্লাস ৮জন, ২৫ জন ‘এ’ গ্রেড ও ১ জন ‘এ’ মাইনেস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। প্রকাশিত ফলাফলে শতভাগ উত্তীর্ণ কলেজের মধ্যে শিক্ষার্থী ও ‘এ’ প্লাস সংখ্যায় কোয়ান্টাম কসমো কলেজের অবস্থান জেলায় শীর্ষে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার সরকারী মাতামুহুরী কলেজ থেকে একই পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৫৫জন। এর মধ্যে পাশ করে মাত্র ২৭৮জন। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পায় ৫জন, পাশের হার ৩৬.৮২ । চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পরীক্ষা দেয় ৪৯জন, এর মধ্যে পাশ করে ৬জন, পাশের হার ১২.৭৭। হেফাজতুর রহমান কলেজ থেকে পর এতে পাশের হার শরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২৪জন শিক্ষার্থী, পাশ করে ১১জন, পাশের হার ৪৬.০০। লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৭জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৬জন, পাশের হার ৩৫.২৯।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কলেজের হোস্টেলে ছিলাম। আমাদের শিক্ষকরা যে পরিমাণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সার্বক্ষনিক মনিটরিং এ রেখেছেন তাতে ভালো ফলাফল না করে উপায় নেই। তাই সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

দিক-নির্দেশনা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ক্লাশ পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রদান এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ-এ ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ।
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানায়, সর্বোচ্চ এ প্লাস ও শতভাগ পাশের হারে শীর্ষ স্থান অর্জন করে লামা উপজেলার ভারমূর্তি উজ্জ্বল করেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। কলেজগুলোর এ র‌্যাংকিং করা হয় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জিপিএ-৫ ও পাশের হারের ভিত্তিতে।