মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

২৪’র জুলাই বিপ্লব

ইন্টারনেট শাটডাউনের সুযোগে ‘অপকর্ম সাম্রাজ্য’ গড়েছিলেন এসআই মোস্তাক

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: রবিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৫, ১২:১১ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ইন্টারনেট শাটডাউনের সুযোগে ‘অপকর্ম সাম্রাজ্য’ গড়েছিলেন এসআই মোস্তাক

২০২৪ সালের কোটাবিরোধী আন্দোলনে সারা দেশে তখন তরুণদের চোখে আগুন, কণ্ঠে প্রতিবাদ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রান্তে প্রান্তে। কিন্তু সেই ঢেউ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় যেন রূপ নেয় ভিন্ন রূপে—ত্রাস, আতঙ্ক আর থানা কেন্দ্রীক অর্থবাণিজ্যের নিকৃষ্ট নাটক। এই নাটকের মূল চরিত্র ছিলেন সাতকানিয়া থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাক আহমেদ (বিপি-৮৪১৩১৫৩১৫৭)।

অভিযোগ উঠেছে, সেসময় এসআই মোস্তাক আহমেদ তার পদের অপব্যবহার করে স্থানীয় জনগণের ওপর চালান নির্যাতন ও অর্থ আদায়ের এক নিষ্ঠুর প্রক্রিয়া। মানুষের চোখের ভাষা, মুখের ভঙ্গিমা বা রাজনীতিক পরিচয়ই হয়ে ওঠে ‘অপরাধের প্রমাণ’। তিনি চালান ‘গ্রেফতার বাণিজ্য’—একটি প্রক্রিয়া, যেখানে অপরাধ নয়, টাকা আদায়ই ছিল মূল লক্ষ্য।

কেরানীহাট মা ও শিশু হাসপাতালের ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক নিজের অভিজ্ঞতা স্মরণ করতে গিয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলেন, “আমার কোনো দোষ ছিল না। আন্দোলনের সময় একটি মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলাম মাত্র। সেদিনই এসআই মোস্তাক আমাকে থানায় ধরে নিয়ে যায়। হুমকি দেয় ‘উস্কানি দেওয়ার’ অভিযোগে মামলা দেবে। আমি প্রাণভয়ে তার চাহিদা মতো ১ লাখ টাকা দিয়ে ছাড়া পাই।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, “মোস্তাক ছিল আতঙ্কের প্রতীক। সরকার তখন দেশে ইন্টারনেট বন্ধ রেখেছিল, মিডিয়া কিছু জানত না। এই সুযোগে মোস্তাক নিরীহ মানুষকে ধরে থানায় নিয়ে যেত। আমাকে তো কোনো কারণ ছাড়াই তুলে নেয়, বলে—তুই আন্দোলনের ছেলেদের সাহায্য করিস। পরে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়া পাই।”

সাতকানিয়ার স্থানীয়দের অভিযোগ, এসআই মোস্তাক ও তার সহযোগী পুলিশের একটি চক্র বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় প্রহসনের এক ‘অপারেশন’ চালান। আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নয়, অপরাধের প্রমাণ নয়, শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষকে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়ে আর্থিক দাবিনামা পাঠানো হতো পরিবারের কাছে। অনেকে বলছেন, “এই সময় সাতকানিয়ার থানা যেন হয়ে উঠেছিল আদায়ের দপ্তর। মুক্তির দরজা টাকা দিয়েই খোলা হতো।”

এক শিক্ষার্থী কাঁপা গলায় জানায়, “আমি এক বন্ধুর বাসায় যাচ্ছিলাম। মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম মাত্র। এসআই মোস্তাক এসে বলে—‘তোদের চেহারা ভালো না’। এরপর আমাকে থানায় নিয়ে যায়। মা কেঁদে কেঁদে ২০ হাজার টাকা দিয়ে আমাকে ছাড়ায়।”

২০২৪ সালের আন্দোলন দমন করতে সরকার যখন দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধ রাখে, তখন সাতকানিয়ায় এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ‘তথ্য অন্ধকারের’ মধ্যে চালানো হয় এই চাঁদাবাজি। স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেন, “তথ্যপ্রবাহ বন্ধ থাকায় মানুষের কণ্ঠ রোধ হয়ে যায়। মোস্তাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেই আরও ভয়ংকর পরিণতি হতো।”

এসব অপকর্মের মধ্যেই ওই বছরের ৩০ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ তৎকালীন সুপার এসএম শফিউল্লাহ্ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে মোস্তাক আহমেদসহ একসঙ্গে সাতকানিয়া থানার চারজন এসআই ও একজন এএসআইকে তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারে বদলি করা হয়। এর মধ্যে এসআই মোস্তাক আহাম্মদের ঠিকানা হয় খাগড়াছড়ি জেলায়।
এই পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বদলির আদেশপ্রাপ্ত জেলা বা ইউনিটে যোগদান করার জন্য চুড়ান্ত ছাড়পত্র গ্রহণ করতে ওই বছরের ১ আগস্টের মধ্যে রিজার্ভ অফিস চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছাড়পত্র প্রদান করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় পরদিন ২ আগস্ট থেকে তাদের ‘তাৎক্ষণিক অবমুক্ত’ বা স্ট্যান্ড রিলিজ করা হবে বলে জানানো হয়।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন— এসআই মোস্তাক আহমেদের মতো কর্মকর্তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে যদি দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরেক মোস্তাক জন্ম নেবে আরও ভয়ংকর রূপে।

সাতকানিয়ার মানুষ এখন মুখে মুখে একটি প্রশ্নই করছেন— এসআই মোস্তাক কি অপরাধ করেও পার পাবে? নাকি তার বিচার হবে আইনের কাঠগড়ায়?

কারণ এই সাতকানিয়া একদিন চেয়েছিল পরিবর্তন, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার। কিন্তু তাদের সেই চাওয়াকে পায়ের নিচে পিষে ফেলা হয়েছিল পুলিশের বুট দিয়ে। থানার দরজার ওপাশে কান্না লুকানো ছিল, বাইরে শান্তি।

সেসময় আটক হওয়া এক তরুণের মা বলেন, আমি কোনোদিন কল্পনাও করিনি আমার ছেলেকে পুলিশ ধরে নিয়ে টাকা চাইবে। আমি ভিক্ষে করে টাকা জোগাড় করেছি। সেই দুঃসহ রাতের ঘুম কে ফিরিয়ে দেবে?

সাতকানিয়ার সাবেক এসআই মোস্তাক আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো শুধু একজন পুলিশের অপকর্ম নয়, এটি একটি সময়ের দলিল—যেখানে নিরাপত্তার পোশাকে লুকিয়ে ছিল ভয়ংকর দুর্নীতি, লোভ আর ক্ষমতার অপব্যবহার।

টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১১ পিএম
টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

টাকা না দিলে থানায় আটক ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। সেই অর্থ না পেলে থানায় তোলা ছবি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আটক ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো প্রেস রিলিজে আটক ব্যক্তির ছবি ব্লার করা অবস্থায় দেওয়া হলেও, একই ব্যক্তির অব্লার ছবি এর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন ভিন্নতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন থাকে, তবে সেই নীতি সবক্ষেত্রেই সমানভাবে অনুসরণ করা উচিত। অন্যথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাঁর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হয়ে যায়। এতে আদালতে বিচার শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি, ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়া থানায় আটক একাধিক ব্যক্তির ছবি প্রেস রিলিজ প্রকাশের আগেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, থানার ভেতরে তোলা ছবি কীভাবে এত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌঁছে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক স্বজনকে আটকের পর বিভিন্নভাবে টাকার কথা বলা হয়। টাকা দিতে না পারার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি থানায় তোলা তাঁর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পরিচিতজনরা ফোন করে জানতে চান কী হয়েছে। এতে আমরা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, আইনি প্রক্রিয়া চলার আগেই একজনের ছবি এভাবে প্রকাশ করে দেওয়া ঠিক নয়। পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও সমাজের মানুষের কাছে সেই অপবাদ থেকেই যায়।

আরেকজন অভিযোগ করেন, ছবি প্রকাশ করে সামাজিক চাপ তৈরি করা হয় বলে আমাদের মনে হয়েছে। এতে পরিবার ভয় ও মানসিক চাপে থাকে। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া তাঁর সম্মান ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা তাঁর ছবি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সামাজিক ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে এমন ছবি প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যদিও এর আগে কয়েকবার এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেছিলেন, থানা থেকে কোনো ব্যক্তির ছবি ফাঁস করা হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবি ছড়ায়, সেগুলোর উৎস সম্পর্কে  জানা নেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব।

বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান  প্রতিনিধি:

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব মেলাসহ নানা আয়োজনে বান্দরবানে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় যুব ভবনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক অংজাই উই চাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা জামায়াতের আমীর এসএম আব্দুস সালাম আজাদ,বান্দরবান ইসলামিক ফাউণ্ডেশন উপপরিচালক মো সেলিম উদ্দিন,বান্দরবান প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,বিএনপি নেতা মো.আবু তাহের।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বান্দরবান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনায়েত করিম। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিপিসি মোখলেসুর রহমান, বান্দরবানের বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী, বালাঘাটা ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো:আলী’সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, যুব সংগঠক ও তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার লুবু প্রু মারমা।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি যুব মেলায় তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণের চেক বিতরণ ও ৩টি যুব সংগঠনের নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন,দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

মোহাম্মদ আবুল হাশেম লামা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ হলেও বরাবরের মতো এবারও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বোধিছড়াস্থ ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬০ জনেই পাশ করেছে। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পেয়েছে ১৭ জন, এতে পাশের হার শতভাগ। সে মতে জেলার অন্যান্য কলেজের চেয়ে ফলাফলে এগিয়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বান্দরবান জেলার ১৪ টি কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ থেকে ৩টি বিভাগে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪জন, এতে ‘এ’ প্লাস ৫জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৯জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১২জন, এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস ৪জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৮জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় ৩৪জন অংশ গ্রহণ করে ‘এ’ প্লাস ৮জন, ২৫ জন ‘এ’ গ্রেড ও ১ জন ‘এ’ মাইনেস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। প্রকাশিত ফলাফলে শতভাগ উত্তীর্ণ কলেজের মধ্যে শিক্ষার্থী ও ‘এ’ প্লাস সংখ্যায় কোয়ান্টাম কসমো কলেজের অবস্থান জেলায় শীর্ষে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার সরকারী মাতামুহুরী কলেজ থেকে একই পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৫৫জন। এর মধ্যে পাশ করে মাত্র ২৭৮জন। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পায় ৫জন, পাশের হার ৩৬.৮২ । চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পরীক্ষা দেয় ৪৯জন, এর মধ্যে পাশ করে ৬জন, পাশের হার ১২.৭৭। হেফাজতুর রহমান কলেজ থেকে পর এতে পাশের হার শরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২৪জন শিক্ষার্থী, পাশ করে ১১জন, পাশের হার ৪৬.০০। লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৭জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৬জন, পাশের হার ৩৫.২৯।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কলেজের হোস্টেলে ছিলাম। আমাদের শিক্ষকরা যে পরিমাণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সার্বক্ষনিক মনিটরিং এ রেখেছেন তাতে ভালো ফলাফল না করে উপায় নেই। তাই সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

দিক-নির্দেশনা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ক্লাশ পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রদান এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ-এ ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ।
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানায়, সর্বোচ্চ এ প্লাস ও শতভাগ পাশের হারে শীর্ষ স্থান অর্জন করে লামা উপজেলার ভারমূর্তি উজ্জ্বল করেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। কলেজগুলোর এ র‌্যাংকিং করা হয় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জিপিএ-৫ ও পাশের হারের ভিত্তিতে।