অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও পচা খাবার সংরক্ষণের দায়ে আল-আকসা ও মেহফিলকে জরিমানা
সাতকানিয়ার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা কেরানীহাটের কেন্দ্রেই দীর্ঘদিন ধরে অবাধে চলছিল অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের ব্যবসা। বাহারি নামের আড়ালে গড়ে ওঠা বেশ কিছু হোটেল-রেস্টুরেন্টে স্বাস্থ্যবিধি যেন ছিল একেবারেই উপেক্ষিত। অবশেষে প্রশাসনের চোখে ধরা পড়ে সেই চিত্র।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট ২০২৫) দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে একে একে তল্লাশি চালানো হয় কেরানীহাটের কয়েকটি হোটেল-রেস্টুরেন্টে।
অভিযানে সবচেয়ে বড় আঘাত আসে দুই পরিচিত রেস্টুরেন্টে— আল-আকসা ও মেহফিল।
নোংরা রান্নাঘর, উন্মুক্ত আবর্জনা, পঁচা খাবারের মজুদ
অভিযানের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত আল-আকসা ও মেহফিল রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরে দেখতে পায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরির চিত্র। ফ্রিজে রাখাছিল পঁচা ও বাসি খাবার, যেগুলো নতুন খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করা হচ্ছিল।
আইনের ৫২ ধারায় জরিমানা
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৫২ ধারায় আল-আকসা রেস্টুরেন্টকে ২০ হাজার, মেহফিল রেস্টুরেন্টকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়াও আল ঈশান নামক একটি রেস্টুরেন্টকেও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করার কথা জানায় উপজেলা প্রশাসন।
কাঁচাবাজারেও অভিযান
এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের দল কেরানীহাট কাঁচাবাজারে গিয়ে মূল্য তালিকা নিশ্চিতকরণে অভিযান চালায়। মাছ, মাংস ও ফলের দোকানে মূল্য তালিকা টানিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। যেসব দোকানে তালিকা ছিল না, সেগুলোকে সতর্ক করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তালিকা নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রশাসনের হুঁশিয়ারি
অভিযান শেষে ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা আজ যেসব রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়েছি, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ করে ব্যবসা করছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো হবে।








