মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

দুপুরে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর ‘অভিযান’, বিকেলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৫, ৭:১৮ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
দুপুরে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর ‘অভিযান’, বিকেলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা

default

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক উপ-শহর খ্যাত সাতকানিয়ার কেরানীহাটে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে পরিচালিত অভিযানে হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো, ফিটনেসবিহীন বাস চলাচল এবং যত্রতত্র পার্কিংয়ের অপরাধে সাতটি মামলায় ৫ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন সাতকানিয়ায় সদ্য যোগদান করা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিন।

প্রশাসনের ভাষ্যমতে, এই ধরনের অভিযান ‘অব্যাহত’ থাকবে। কিন্তু অভিযান থেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সড়কে ফিরেছে আগের মতোই বিশৃঙ্খলা—বরং আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অনিয়মকারীরা।

অভিযানের সময় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে চেকিং শুরু হয়। পুলিশের সহায়তায় মোটরসাইকেল থামিয়ে চালকের হেলমেট আছে কি না, ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি না তা দেখা হয়। বাস থামিয়ে কাগজপত্র পরীক্ষা, ফিটনেস সার্টিফিকেট যাচাই—সবই চলছিল।

স্থানীয়দের চোখে এটি ছিল এক ধরনের ‘দেখিয়ে দেওয়া’ অভিযান। দোকানপাটের সামনে দাঁড়িয়ে মানুষজন দৃশ্য দেখছিল, কেউ কেউ ভিডিও করছিল, আবার কেউ কেউ বলছিল— “এবার হয়তো সড়ক একটু শৃঙ্খল হবে।”

তবে অভিযান বন্ধ হওয়ার পর থেকে মহাসড়কে অনিয়মের যেন উৎসব শুরু হয়েছে।

হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল রেস: তরুণরা দল বেঁধে প্রতিযোগিতা করছে, যেন আইন তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়।

ফিটনেসবিহীন বাস: সড়কের মাঝখানে হঠাৎ থেমে যাত্রী তোলা, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই।

যত্রতত্র পার্কিং: কেরানীহাট মোড়ে বাস, ট্রাক, পিকআপ দাঁড় করিয়ে রাখা—ফলে যানজট।

লাইসেন্সবিহীন চালক: কাগজপত্র ছাড়াই অবাধে গাড়ি চালাচ্ছে অনেকেই।

একজন রিকশাচালক জানালেন, অভিযান চলাকালীন সময় একটু সুবিধা হয়েছিল, গাড়ি ঠিকঠাক চলাচল করছিল। কিন্তু এখন আবার আগের মতোই।

কেরানীহাটের এক কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, এগুলো আসলে কাগজে দেখানোর অভিযান। ছবিতে ভালো দেখায়, কিন্তু বাস্তবে কিছু বদলায় না।

কলেজছাত্র ফারহান বলেন, রাস্তা পার হতে ভয় লাগে। হেলমেট ছাড়া বাইকওয়ালারা খুব দ্রুত আসে। অভিযান থাকলে একটু শৃঙ্খলা হয়, কিন্তু সেটা বেশি সময় থাকে না।

আইন অনুযায়ী— হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালালে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা কারাদণ্ড। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালালে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা। লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা। কিন্তু কেরানীহাটে এই আইন মানাতে স্থায়ী কোনো নজরদারি নেই।

কেরানীহাটে এটা প্রথমবার নয়। আগেও বহুবার দেখা গেছে— দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন কর্মকর্তারা অভিযান চালান। প্রথম প্রথম সংবাদমাধ্যমে প্রশাসনের সাফল্যের খবর প্রকাশিত হয়। পরে অভিযান বন্ধ হয়।

অনিয়মকারীরা দ্বিগুণ উৎসাহে ফিরে আসে। গত কয়েক বছরে এমন কয়েকটি অভিযান হয়েছিল, কিন্তু কয়েকদিনের মাথায় থেমে যায়। ফলস্বরূপ, বছরের বাকি সময় সড়কে বিশৃঙ্খলা বেড়ে গিয়েছিল।

অভিযান নিয়ে ফেসবুক পোস্ট, গণমাধ্যমে ছবি,—সব মিলিয়ে প্রচার প্রচারণার ঘাটতি ছিল না। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো স্থায়ী প্রভাব নেই।

একজন স্থানীয় সাংবাদিক বলেন, প্রশাসন চায় প্রচার, কিন্তু বাস্তব পরিবর্তনে তাদের আগ্রহ কম। স্থায়ীভাবে আইন প্রয়োগ করলে হয়তো রাজনৈতিক চাপও আসতে পারে, তাই তারা চুপ থাকে।

কেরানীহাট মহাসড়কের এই চিত্র নতুন কিছু নয়। প্রথমে অভিযান, পরে নিশ্চুপতা—এটাই নিয়মে পরিণত হয়েছে। এর ফলে আইনভঙ্গকারীরা শিখে গেছে, অভিযানের সময় সাবধান হলেই হবে, পরে আগের মতো চলা যাবে।

প্রশ্ন হচ্ছে—প্রশাসন কি শুধু প্রথম কয়েক দিনের জন্য প্রতিশ্রুতি দেয়? নাকি তারা সত্যিই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চায়?

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিন সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য এই ধরনের অভিযান ‘অব্যাহত’ থাকবে বলে জানিয়েছেন।

বান্দরবানের সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ৫৫ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের সরঞ্জাম বিতরণ

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম
বান্দরবানের সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ৫৫ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের সরঞ্জাম বিতরণ

আবুবকর ছিদ্দিক বার্তা সম্পাদক

দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম শঙ্খমণি পাড়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি পাহাড়ের বিভিন্ন পাড়ায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও আলোর সরঞ্জাম এবং সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

গত রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় বান্দরবান রিজিয়নের আওতাধীন ৩৮ ইস্ট বেঙ্গলের তত্ত্বাবধানে এবং রুমা জোনের ব্যবস্থাপনায় রোয়াংছড়ি উপজেলার রনি পাড়া ক্যাম্পের আওতাধীন দুর্গম শঙ্খমণি পাড়ায় বিশেষ মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়। রুমা জোনের মেডিক্যাল অফিসারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ ক্যাম্পে পাড়ার ৫৩টি পরিবারের মোট ৫৫ জন বাসিন্দাকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারীদের মধ্যে ২০ জন শিশু, ২১ জন নারী ও ১৪ জন পুরুষ রয়েছেন।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সেনাবাহিনীর এ মানবিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবান রিজিয়নের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং রুমা জোনের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন পাড়ার মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় একাধিক জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এসব কার্যক্রমের আওতায় সুপেয় পানি উত্তোলনের জন্য সাবমারসিবল পাম্প, বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেনারেটর ও বৈদ্যুতিক তার, দুর্গম এলাকায় আলোর ব্যবস্থা করতে সোলার লাইট এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য চেয়ারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া কমিউনিটি সেন্টারে ব্যবহারের জন্য সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও সোলার তার সরবরাহ করা হয়েছে।

সহায়তা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ হর্সপাওয়ারের সাবমারসিবল পাম্প, ৫ কেভি ও ৭ দশমিক ৫ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন অকটেনচালিত জেনারেটর, একটি সোলার লাইট সেট, ৩৫০ ফুট বৈদ্যুতিক তার, ১০০ ওয়াটের সোলার প্যানেল, ১২ ভোল্টের ১০০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি, ২০ গজ সোলার তার এবং ৫০টি করে চেয়ারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।

সেনাবাহিনীর এসব উদ্যোগের ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সুপেয় পানির সংকট নিরসন, বিদ্যুৎ ও আলোর সুবিধা বৃদ্ধি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় বসবাসরত মানুষের দুর্ভোগ লাঘব, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির করলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৭ পিএম
কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির করলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

আবুবকর ছিদ্দিক বার্তা সম্পাদক

পার্বত্য বান্দরবানে যুবকদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ‘বান্দরবান যুব উন্নয়ন ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর আওতায় যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

গত ১ নভেম্বর এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। প্রশিক্ষণে কোর্স অফিসার ইনচার্জ (ওআইসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ক্যাপ্টেন আজিজুল হাকিম শাওন, ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক, ১৪৩ ফিল্ড ওয়ার্কশপ কোম্পানি ইএমই।

প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো অংশগ্রহণকারীদের যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান প্রদান, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং যানবাহনের সঠিক ব্যবহার ও পরিচর্যা সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করে তোলা।

প্রশিক্ষণে যানবাহনের ইঞ্জিন ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশের কার্যপদ্ধতি, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, কারিগরি ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় মেরামত বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা যানবাহনের সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপদ ব্যবহারে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি বাস্তব কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ প্রশিক্ষণ যানবাহনের অকাল বিকল হওয়া রোধ, মেরামত ব্যয় কমানো এবং যানবাহন সচল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করতে পারবেন।

বিশেষ করে পার্বত্য বান্দরবানে বসবাসরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর যুবকদের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে বেকারত্ব হ্রাস এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে।

বান্দরবান রিজিয়নের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে বান্দরবানসহ দেশের অন্যান্য দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের যুবসমাজের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্থানীয় জনগণ আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করায় সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

বান্দরবানে যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে সেনাবাহিনীর ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৯ পিএম
বান্দরবানে যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে সেনাবাহিনীর ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

আবুবকর ছিদ্দিক, বার্তা সম্পাদক

পার্বত্য অঞ্চলের যুবসমাজকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশে উৎসাহিত করা এবং পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বেতছড়া বাজার যুব সংঘের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান সদর সেনা জোন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বান্দরবান সদর সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সায়েম আহমেদ, পিএসসি-এর পক্ষ থেকে বেতছড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন বেতছড়া বাজার এলাকার যুবকদের হাতে একটি ফুটবল ও এক সেট জার্সি তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে জোন কমান্ডারের পক্ষে বেতছড়া ক্যাম্প কমান্ডার স্থানীয় যুবকদের হাতে এসব ক্রীড়া সামগ্রী হস্তান্তর করেন। আসন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টে যুবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ক্রীড়া সামগ্রী পেয়ে বেতছড়া বাজার যুব সংঘের সদস্যরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা জানান, এ ধরনের সহযোগিতা স্থানীয় যুবকদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলবে এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি শৃঙ্খলাবোধ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহায়তা করে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি গড়ে তুলতেও খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং ক্রীড়াসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবান সদর সেনা জোন স্থানীয় যুবসমাজের ইতিবাচক বিকাশ, সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ়করণ এবং পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে যাচ্ছে।