সাতকানিয়ায় বেপরোয়া গতির ঈগল বাস খাদে
ভাগ্যজোরে বেঁচে ফিরল যাত্রীরা, গাছে আটকে থামল ট্র্যাজেডি
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে রাতের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ বিকট শব্দ। মুহূর্তেই চিৎকার, কান্না আর আতঙ্ক। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাতকানিয়ার কেরানীহাটের উত্তরে আন্ধার মার দরগা এলাকায় ঈগল পরিবহনের একটি দ্রুতগামী মিনিবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। তবে ভাগ্যক্রমে একটি গাছে আটকে থাকায় বাসটি খালে পড়ে যায়নি—ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা পায় যাত্রীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মিনিবাসটি চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসে এবং অনেক যাত্রী ছিল তাতে। গাড়ির গতি শুরু থেকেই ছিল বেপরোয়া। ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি ধীরগতির ভটভটিকে ধাক্কা দিলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়। খাদে পড়ার সময় সেটি একটি বড় গাছের সঙ্গে আটকে যায়, নইলে সরাসরি খালে পড়ে গেলে হতাহতের সংখ্যা হতো ভয়াবহ।
বাসের যাত্রী রিয়াজ নামের একজন বলেন, আমরা সবাই চিৎকার করছিলাম। মনে হচ্ছিল গাড়ি একেবারে উল্টে নিচে পড়ে যাবে। কিন্তু গাছের কারণে বাসটি আটকে যায়, তাতেই বেঁচে গেছি।
তিনি আরও জানান, গাড়িতে নারীসহ অনেক যাত্রী ছিল, যাদের সবাই কমবেশি আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ছুটে আসেন। সঙ্গে যোগ দেন হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। বাসে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে কারও অবস্থা গুরুতর কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আহতদের পরিচয় এখনো জানা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান। তিনি উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন।
স্থানীয়রা বলছেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অনেক সময়ই অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চলাচল করে। বিশেষ করে ঈগল পরিবহনের কিছু গাড়ি নিয়মিত বেপরোয়া চালানোর অভিযোগ রয়েছে। তারা মহাসড়কে গতিনিয়ন্ত্রণ এবং নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান।
একটি গাছের কারণে এ যাত্রায় রক্ষা পেল বহু প্রাণ। কিন্তু বারবার এমন ভাগ্য সহায় হবে না। তাই মহাসড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মতান্ত্রিক চালনা নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।








