মরুভূমির প্রাণী উট এবার চট্টগ্রামের মইজ্জারটেক পশুর হাটে

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জারটেক পশুর হাটে এবছর ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেখা মিলেছে মরু অঞ্চলের প্রাণী উট– যা ইতোমধ্যেই স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল এবং চমকের সৃষ্টি করেছে। গরু-মহিষের হাটে হঠাৎ উট দেখে কেউ অবাক, কেউবা রীতিমতো মুগ্ধ! হাটজুড়ে যেন তৈরি হয়েছে আরেকটি ছোটখাটো মেলা, যার কেন্দ্রবিন্দু এই উটগুলো।
উটের দাম ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা!
হাটে আনা তিনটি উটের প্রতিটির দাম হাঁকা হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। যশোরের বেনাপোল এলাকার ফিরোজ-মামুন ডেইরি ফার্ম থেকে আনা হয়েছে এসব উট। প্রতিটি উটের উচ্চতা ১০ থেকে ১৩ ফুট এবং ওজন ১২ থেকে ১৫ মণ পর্যন্ত।
ব্যবসায়ী আলী আকবর জানান, “ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কিছু ব্যতিক্রমী ও চমকপ্রদ কিছু উপস্থাপনের চিন্তা থেকেই এসব উট আনা হয়েছে। শৌখিন ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখেই এই আয়োজন।”
দুই বছর ধরে প্রস্তুতি, খাবারে বিশেষ যত্ন
উটগুলো দুই বছর আগে ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে কিনে খামারে লালনপালন করা হয়। প্রতিদিন খাবার হিসেবে দেওয়া হয় ভুট্টা, ছোলা, গম, বুটের খোসা, গমের ছোলা এবং ঘাস। এ তথ্য জানান গাজী সিরাজুল ইসলাম।
দর্শনার্থীদের ভিড়, ইউটিউবারদের উৎসাহ
গত ২৯ মে বৃহস্পতিবার সকালে ট্রাকে করে যশোর থেকে এসব উট আনা হয় হাটে। মূল প্রবেশপথের বাঁ পাশে ত্রিপলের নিচে সাজিয়ে রাখা হয়েছে উটগুলোকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উট দেখতে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ ইউটিউব কনটেন্ট তৈরি করছেন ব্যস্তভাবে।
হাটে উট নিয়ে বাড়তি আকর্ষণ
কর্ণফুলী প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব মো. আয়াজ বলেন, “দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পশুর হাট হচ্ছে মইজ্জারটেক। এখানে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ পশু কিনতে আসেন। এবার উট আসায় হাটে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। উট বিক্রি সফল হলে ভবিষ্যতে আরও ব্যবসায়ী উট আনার ব্যাপারে উৎসাহিত হবেন।”
হাটের ইজারাদার জসিম উদ্দিন জুয়েল বলেন, “হাট ইতোমধ্যেই জমে উঠেছে। ক্রেতারা পছন্দমতো দরদাম করে পশু কিনছেন। উট আসায় এবার হাটে বাড়তি প্রাণ এসেছে।”
উট আমদানি ও বাজারজাতকরণ
গরু ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত ঈদের মৌসুমে ভারতের রাজস্থান, গুজরাট এবং হরিয়ানা থেকে উট ও দুম্বা আমদানি করা হয়। কখনো কখনো পাকিস্তান থেকেও উট আসে। যশোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত হয়ে এদেশে প্রবেশ করে এসব পশু।
চট্টগ্রামের হাটে উটের দেখা কম মিললেও ঢাকার হাটগুলোতে তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। তবে এবার চট্টগ্রামের বাজারেও উটকে ঘিরে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
উটের মাংস: নতুন স্বাদের অভিজ্ঞতা
উটের মাংস অনেকের কাছেই নতুন অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে কম বয়সী উটের মাংস মিষ্টি, নরম ও চর্বিবিহীন, যা স্বাদে অনন্য। ফলে অনেক শৌখিন ক্রেতাই উট কিনে কোরবানির পরিকল্পনা করছেন।
পূর্বের চমক ছাপিয়ে গেল উট
এর আগে ২০২২ সালে এই হাটে গোলাপি মহিষ এনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন এক খামারি। তবে এবারের উটের উপস্থিতি সেই চমককেও ছাপিয়ে গেছে বলেই মনে করছেন হাট সংশ্লিষ্টরা।








