কিশোর গ্যাং ও তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
লোহাগাড়ায় শিক্ষককে ছুরিকাঘাতের প্রতিবাদে মানববন্ধন
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ইকরা আবদুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নজরুল ইসলামের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করে কিশোর গ্যাং ও তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বটতলী মোটর স্টেশনে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতার উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ইকরা আবদুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন লোহাগাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি হোছাইন মেহেদী, লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খলিল চৌধুরী, শিক্ষক মোহাম্মদ মহিউদ্দিনসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, লোহাগাড়ায় সন্ত্রাসী, কিশোর গ্যাং ও তাদের আশ্রয়দাতাদের কোনো স্থান হতে পারে না। শিক্ষক নজরুল ইসলামের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
মানববন্ধন থেকে লোহাগাড়ায় সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
স্থানীয় সূত্র ও বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২২ আগস্ট লোহাগাড়া সদরের ইকরা আবদুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে স্থানীয় কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্য অপহরণ করে। পরে প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন এবং শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও নাজিম উদ্দীনের সহায়তায় ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় কিশোর গ্যাংয়ের এক সদস্যকে থানায় সোপর্দ করা হয়।
পরে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় ওই কিশোরকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শিক্ষক নজরুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে সাতজনকে এজাহারভুক্ত আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।











