মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

সাবেক পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ ‘হানিট্র্যাপে’, নেপথ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা জিয়ান ও দুই ওসি!

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩০ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সাবেক পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ ‘হানিট্র্যাপে’, নেপথ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা জিয়ান ও দুই ওসি!

সুন্দরী নারীর ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট। এরপর বন্ধুত্বের অনুরোধ, ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা, কথোপকথন সরিয়ে নেওয়া হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামে। একপর্যায়ে অডিও-ভিডিও কলের ফাঁদ। আর সেই যোগাযোগের সুযোগে ধারণ করা ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিওকে হাতিয়ার বানিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ওপর চাপ সৃষ্টি—এমনই এক বিস্তৃত প্রতারণা নেটওয়ার্কের তথ্য উঠে এসেছে সরকারি একটি দায়িত্বশীল সংস্থার অনুসন্ধানে।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ছদাহা ইউনিয়নের ছৈয়দাবাদ এলাকার বাসিন্দা জোবাইরুল হক জিয়ান (৩১)। তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক শিক্ষা ও পাঠচক্রবিষয়ক সম্পাদক। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রায় এক দশক ধরে ভুয়া নারী পরিচয়ে বিভিন্ন শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তিকে টার্গেট করে আসছেন তিনি। তার টার্গেটের তালিকায় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
অনুসন্ধানে জিয়ানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৫৪টি নারী পরিচয়ের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র। এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের তথ্যও পাওয়া গেছে।
তদন্ত সূত্রের ভাষ্য, জিয়ান কখনো পরিচিত তরুণী বা মডেল, কখনো স্বামী পরিত্যক্তা কিংবা এক সন্তানের মা—এমন নানা পরিচয় ব্যবহার করতেন। নারী কণ্ঠে কথা বলার জন্য বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে কৌশলে ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সাবেক সিএমপি কমিশনারকে ঘিরে যে তথ্য

সরকারি সংস্থার অনুসন্ধানে জিয়ানের কথিত ‘হানিট্র্যাপ’ নেটওয়ার্কের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হিসেবে উঠে এসেছে সাবেক চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজের বিষয়টি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তৎকালীন পাহাড়তলী থানার ওসি এবং বর্তমানে ডিবিতে কর্মরত বাবুল আজাদের মাধ্যমে চট্টগ্রামের মডেল সানজিদা ইসলাম সায়মার সঙ্গে জিয়ানের পরিচয় হয়। বাবুল আজাদ সানজিদাকে নিজের ‘শ্যালিকা’ হিসেবে হাসিব আজিজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এরপর সানজিদা ইসলাম সায়মার নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলেন জিয়ান। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে সাবেক কমিশনারকে পাঠানো হয় ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট। ধীরে ধীরে মেসেঞ্জারের যোগাযোগ গড়ায় অডিও ও ভিডিও কলে।
তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরো যোগাযোগের আড়ালে প্রকৃত সানজিদা ইসলাম সায়মা ছিলেন না; তার নাম-পরিচয় ব্যবহার করে জিয়ানই যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
হাসিব আজিজের সঙ্গে কথোপকথনে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল নম্বর এবং চারটি ভিডিও পাওয়ার কথা জানিয়েছে তদন্ত সূত্র। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে প্রকৃত সানজিদা ইসলাম সায়মার ফেসবুক লাইভের ১৫ সেকেন্ডের অংশ কেটে ভিডিও কলে ব্যবহার করার তথ্যও পাওয়া গেছে। এতে অপর প্রান্তে প্রকৃত সানজিদা না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি।
২০২৫ সালের শুরু থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলা ওই ভার্চুয়াল যোগাযোগের চারটি ভিডিওর একটিতে সাবেক কমিশনারকে আপত্তিকর অবস্থায় এবং অন্য তিনটিতে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায় বলে তদন্ত সূত্র জানিয়েছে।
তবে হাসিব আজিজ চারটি ভিডিওর মধ্যে তিনটি নিজের বলে স্বীকার করলেও একটি ভিডিওকে এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেছেন।
হানিট্র্যাপে পড়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পরিচয়টি ভুয়া জানতে পেরে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ব্লক করেন। তবে ওই চক্র তাকে দিয়ে কোনো অনৈতিক কাজ করাতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

ভিডিওকে হাতিয়ার করে বদলি-পদায়নে প্রভাব?

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাবেক কমিশনার হাসিব আজিজের ব্যক্তিগত ভিডিওকে ব্যবহার করে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় ওসি পদায়ন ও বদলিতে প্রভাব বিস্তার করত জিয়ান এবং দুই ওসি—বাবুল আজাদ ও জাহেদুল ইসলাম।
সূত্রের ভাষ্য, কোনো থানায় কাকে ওসি করা হবে কিংবা কাকে সরিয়ে দেওয়া হবে—এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে দেনদরবার চূড়ান্ত হওয়ার পর জিয়ানের মাধ্যমে সাবেক কমিশনারের কাছে ফোন করানো হতো। পরে কাঙ্ক্ষিত পদায়ন বা বদলির আদেশ আদায় করা হতো বলে অভিযোগ।
সিএমপির তৎকালীন কর্মকর্তাদের কেউ কেউ বিষয়টি জানলেও ব্যক্তিগত ভিডিও প্রকাশের আশঙ্কায় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাননি বলেও তদন্ত সূত্রের দাবি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও রয়েছে।
পাঁচলাইশ থানার বর্তমান ওসি জাহেদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এরকম তো অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়। কে, কখন, কোথায় তা ব্যবহার করেছে বা আমার সঙ্গে ছিল কি না, আমি আসলে জানি না।’
অন্যদিকে পাহাড়তলী থানার সাবেক ওসি ও বর্তমানে সিএমপির ডিবিতে কর্মরত বাবুল আজাদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার বিষয়ে অভিযোগের প্রমাণ নিয়ে ভালো করে নিউজ করেন। তার (জিয়ান) সঙ্গে আমার সখ্যতা থাকার বিষয়টা আপনারা প্রমাণ করেন। আর এটা নিয়ে যে মেয়েটা ভুক্তভোগী তার সঙ্গে কথা বলেন। তাহলেই সত্য-মিথ্যা সব প্রমাণ হয়ে যাবে।’
বর্তমান সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। সাবেক পুলিশ কমিশনারও এ ধরনের কোনো অভিযোগ লিখিত বা মৌখিকভাবে জানাননি। আপনার কাছে কোনো তথ্য থাকলে দিন, আমি ব্যবস্থা নেব।’

কর্ণফুলী থানায় পদায়নের আগাম বার্তা

তদন্তে জিয়ানের সঙ্গে ওসি জাহেদুল ইসলামের যোগাযোগের বিষয়টিও উঠে এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
জাহেদুল ইসলামকে কর্ণফুলী থানার ওসি হিসেবে পদায়নের বিষয়টি আগেই একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে জানানো হয়েছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যায়। পদায়ন হওয়ার পর জিয়ান ও জাহেদুলের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয় বলে দাবি তদন্তসংশ্লিষ্টদের।
অভিযোগ রয়েছে, জাহেদুল ইসলাম জিয়ানকে একটি আইফোন উপহার দেন। নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে করেও তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতেন। জিয়ানের ফেসবুক প্রোফাইলে ওসির গাড়িতে করে কর্ণফুলী টানেল পার হওয়ার ছবিও পাওয়া গেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

৫৪ ভুয়া অ্যাকাউন্টের জাল

তদন্তে জিয়ানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫৪টি নারী পরিচয়ের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে সূত্র।
এর মধ্যে ‘জান্নাতুল মনি’ পরিচয়টি নিজের বোন হিসেবে ব্যবহার করার পাশাপাশি ‘জান্নাতুল নাইমা’ নামের আরেকটি ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে তোলার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, এই বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একজন বর্তমান প্রতিমন্ত্রী, একজন সংসদ সদস্য, অন্তত এক ডজন রাজনৈতিক নেতা এবং পুলিশের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে অন্য রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী বা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে কী তথ্য পাওয়া গেছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি সরকারি তদন্তকারী সংস্থাটি।

জিয়ানকে গ্রেপ্তার ঠেকাতে প্রতিমন্ত্রীর ফোন?

চট্টগ্রাম পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি জিয়ানকে গ্রেপ্তারের জন্য সোর্স নিয়োগ করেছিল চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। একই সঙ্গে তার বসতবাড়ির ওপর নজরদারিও বাড়ানো হয়।
ওই পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, বিষয়টি জানতে পেরে জেলা পুলিশকে থামাতে একজন বর্তমান প্রতিমন্ত্রীকে দিয়ে ফোন করান জিয়ান।
তবে ওই প্রতিমন্ত্রী কে—এ বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ। তদন্তকারী সংস্থাটিও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীর পরিচয় এখনো প্রকাশ্যে আসেনি বলে সূত্র জানিয়েছে।

পুরোনো কৌশল, নতুন পরিধি

তদন্তে উঠে এসেছে, জিয়ানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২০ সালের ২৯ মে সাতকানিয়া থানা-পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
তখন শিল্পপ্রতিষ্ঠান জিপিএইচ ইস্পাতের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ভুয়া প্রেমের সম্পর্ক তৈরির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশের তদন্তে ব্যক্তিগত কথোপকথনের স্ক্রিনশট দেখিয়ে অর্থ দাবি এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে নারীকণ্ঠে যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা তৈরির তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
এরপর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাতকানিয়ায় পরিচালিত ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযানেও জিয়ান গ্রেপ্তার হন। তখন ভুয়া নারী পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল এবং মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায়ের অভিযোগের কথা জানায় পুলিশ।
বারবার গ্রেপ্তারের পরও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সময়ের সঙ্গে তার যোগাযোগের পরিধি রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়িয়ে পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

প্রতিবাদ করায় কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ

সাতকানিয়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর রাসেল উদ্দিনের অভিযোগ, জিয়ানের নানা অপকর্মের তথ্য পুলিশের কাছে পাঠানো এবং এর প্রতিবাদ করায় তাকেও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রতারক জিয়ানের নানা অপকর্মের তথ্য পুলিশের কাছে প্রেরণ ও প্রতিবাদ করায় আমাকে ওসি বাবুল আজাদের নির্দেশে এসআই মনিরুলসহ একটি দল নগরের রাইফেল ক্লাব এলাকা থেকে আটক করে। পরে আমাকে দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। আমি আড়াই মাস জেলে ছিলাম।’

নিজের ছবি ব্যবহারের ঘটনায় মডেল সায়মার জিডি

জিয়ানের কথিত হানিট্র্যাপে যে পরিচয়টি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেই প্রকৃত মডেল সানজিদা সায়মাও বিষয়টি জানতে পেরে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।
পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার কথা জানিয়ে সানজিদা সাংবাদিকদের বলেন, তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল এবং সেটি ব্যবহার করে পুলিশের এক কর্মকর্তার সঙ্গে নানা অপকর্ম করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পারেন।
তার ভাষায়, ‘আমার নাম ব্যবহার করে ফেক অ্যাকাউন্ট খুলে পুলিশের কর্মকর্তার সঙ্গে নানা অপকর্ম করেছে বলে জানতে পারি। এ ঘটনায় আমি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। যদিও পুলিশ এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে আমাকে আর কোনো আপডেট দেয়নি। এভাবে আমার মানহানির জন্য দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

সব অভিযোগ অস্বীকার জিয়ানের

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জোবাইরুল হক জিয়ান।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের পারিবারিক দ্বন্দ্বের বিষয়। বিষয়টি নিয়ে একটি পক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে। যে দুই ওসির কথা বলা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। সিএমপি কমিশনারের মতো মানুষের কাছে আমি কিছুই না। তিনি চাইলেই তো আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারতেন, তিনি নিলেন না কেন?’
অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও তদন্তে পাওয়া তথ্য—সব মিলিয়ে জোবাইরুল হক জিয়ানের বিরুদ্ধে ওঠা ‘হানিট্র্যাপ’ নেটওয়ার্কের বিষয়টি এখন চট্টগ্রামের পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বান্দরবানে যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে সেনাবাহিনীর ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৯ পিএম
বান্দরবানে যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে সেনাবাহিনীর ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

আবুবকর ছিদ্দিক, বার্তা সম্পাদক

পার্বত্য অঞ্চলের যুবসমাজকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশে উৎসাহিত করা এবং পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বেতছড়া বাজার যুব সংঘের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান সদর সেনা জোন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বান্দরবান সদর সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সায়েম আহমেদ, পিএসসি-এর পক্ষ থেকে বেতছড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন বেতছড়া বাজার এলাকার যুবকদের হাতে একটি ফুটবল ও এক সেট জার্সি তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে জোন কমান্ডারের পক্ষে বেতছড়া ক্যাম্প কমান্ডার স্থানীয় যুবকদের হাতে এসব ক্রীড়া সামগ্রী হস্তান্তর করেন। আসন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টে যুবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ক্রীড়া সামগ্রী পেয়ে বেতছড়া বাজার যুব সংঘের সদস্যরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা জানান, এ ধরনের সহযোগিতা স্থানীয় যুবকদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলবে এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি শৃঙ্খলাবোধ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহায়তা করে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি গড়ে তুলতেও খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং ক্রীড়াসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবান সদর সেনা জোন স্থানীয় যুবসমাজের ইতিবাচক বিকাশ, সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ়করণ এবং পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে যাচ্ছে।

টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১১ পিএম
টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

টাকা না দিলে থানায় আটক ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। সেই অর্থ না পেলে থানায় তোলা ছবি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আটক ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো প্রেস রিলিজে আটক ব্যক্তির ছবি ব্লার করা অবস্থায় দেওয়া হলেও, একই ব্যক্তির অব্লার ছবি এর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন ভিন্নতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন থাকে, তবে সেই নীতি সবক্ষেত্রেই সমানভাবে অনুসরণ করা উচিত। অন্যথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাঁর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হয়ে যায়। এতে আদালতে বিচার শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি, ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়া থানায় আটক একাধিক ব্যক্তির ছবি প্রেস রিলিজ প্রকাশের আগেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, থানার ভেতরে তোলা ছবি কীভাবে এত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌঁছে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক স্বজনকে আটকের পর বিভিন্নভাবে টাকার কথা বলা হয়। টাকা দিতে না পারার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি থানায় তোলা তাঁর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পরিচিতজনরা ফোন করে জানতে চান কী হয়েছে। এতে আমরা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, আইনি প্রক্রিয়া চলার আগেই একজনের ছবি এভাবে প্রকাশ করে দেওয়া ঠিক নয়। পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও সমাজের মানুষের কাছে সেই অপবাদ থেকেই যায়।

আরেকজন অভিযোগ করেন, ছবি প্রকাশ করে সামাজিক চাপ তৈরি করা হয় বলে আমাদের মনে হয়েছে। এতে পরিবার ভয় ও মানসিক চাপে থাকে। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া তাঁর সম্মান ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা তাঁর ছবি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সামাজিক ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে এমন ছবি প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যদিও এর আগে কয়েকবার এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেছিলেন, থানা থেকে কোনো ব্যক্তির ছবি ফাঁস করা হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবি ছড়ায়, সেগুলোর উৎস সম্পর্কে  জানা নেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব।

বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান  প্রতিনিধি:

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব মেলাসহ নানা আয়োজনে বান্দরবানে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় যুব ভবনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক অংজাই উই চাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা জামায়াতের আমীর এসএম আব্দুস সালাম আজাদ,বান্দরবান ইসলামিক ফাউণ্ডেশন উপপরিচালক মো সেলিম উদ্দিন,বান্দরবান প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,বিএনপি নেতা মো.আবু তাহের।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বান্দরবান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনায়েত করিম। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিপিসি মোখলেসুর রহমান, বান্দরবানের বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী, বালাঘাটা ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো:আলী’সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, যুব সংগঠক ও তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার লুবু প্রু মারমা।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি যুব মেলায় তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণের চেক বিতরণ ও ৩টি যুব সংগঠনের নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন,দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।