চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক
নিষিদ্ধ তিন চাকার যানের দাপট, মাসোহারায় নিশ্চুপ ট্রাফিক সার্জেন্ট মাহফুজ
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র সাতকানিয়ার কেরানীহাট। প্রতিদিন হাজারো যানবাহনের চলাচলে ব্যস্ত এই এলাকায় এখন দাপট দেখাচ্ছে নিষিদ্ধ তিন চাকার যানবাহন—সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মহাসড়কের মূল অংশ দখল করে চলছে এসব যানবাহন। অথচ দেখেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট মাহফুজুর রহমান। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাসোহারার বিনিময়ে এসব যান চলাচলে ‘চোখ বন্ধ’ রেখেছেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাতকানিয়ার কেরানীহাটে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন চলাচল করছে দেদারসে। এসব যানে যাত্রী তোলা, নামানো—সবই হচ্ছে মূল মহাসড়কের উপরেই। ফলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ঢাকাগামী এবং কক্সবাজারমুখী যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘কেরানীহাটে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মহাসড়ক জুড়ে চলছে এই তিন চাকার যানবাহনের দাপট। পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করে। শুনি মাসে মাসে টাকা ওঠে, তাই কেউ বাধা দেয় না।’
সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী জাতীয় মহাসড়কে থ্রি-হুইলার জাতীয় যানবাহন নিষিদ্ধ। কিন্তু সাতকানিয়ার কেরানীহাটে এই আইন কার্যত ধূলায় মিশে গেছে। শুধু মহাসড়ক নয়, এসব যানবাহন কেরানীহাট বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে আমিরাবাদ ও চন্দনাইশ পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে যাত্রী পরিবহন করছে।
একজন সিএনজি চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা ট্রাফিকের লোকজনকে প্রতি মাসে ‘সেটেল’ করি। তাই আমাদের সমস্যা হয় না।’
জানা যায়, কেরানীহাট পুলিশ বক্সের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর নূরে আলম সিদ্দিকী অসুস্থতার কারণে ছুটি আছেন। সেই হিসেবে কেরানীহাটে একাই রাজত্ব করে যাচ্ছেন সার্জেন্ট মাহফুজুর রহমান। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযান পরিচালনা করেন না। বরং এসব যানবাহন থেকে নিয়মিত মাসোহারার মাধ্যমে ‘নিরব চুক্তি’ করে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কেরানীহাটের বাসিন্দা মামুন বলেন, ‘সার্জেন্ট মাহফুজের সময়েই কেরানীহাটে নিষিদ্ধ যানবাহনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ওনার উপস্থিতিতেই যানজট লাগে, অথচ অভিযান নেই। এটা কীভাবে সম্ভব?’
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কেরানীহাটে দায়িত্বরত সার্জেন্ট মাহফুজুর রহমান বলেন, আমি নিয়মিত অভিযান চালাই। মাসোহারার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
কেরানীহাটের সাধারণ মানুষ ও যাত্রীরা বলছেন, ট্রাফিক পুলিশের নির্লিপ্ততা ও দুর্নীতির কারণে মহাসড়কে এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—এই অরাজকতা বন্ধে আইন প্রয়োগকারীরা কতটা আন্তরিক?
কেরানীহাটে যাতায়াতকারী কলেজপড়ুয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রতিদিন কলেজে যেতে দেরি হয়। নিষিদ্ধ যানগুলোর কারণে রাস্তায় নেমে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। আমরা ছাত্ররা নিরাপদ রাস্তায় চলতে চাই।’
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। অথচ কেরানীহাট এলাকায় সেই মহাসড়ক পরিণত হয়েছে নিষিদ্ধ তিন চাকার যানবাহনের ‘রাজত্বে’। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের কিছু অসাধু সদস্য এই অনিয়মের পেছনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।











