এক পরিবারের চারজন, নিহতদের সবার বাড়ি চকরিয়ায়
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৭ বাংলাদেশি নিহত
সৌদি আরবে মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ সাত বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছে মাত্র এক মাস বয়সী এক কন্যাশিশুও।
নিহত সাতজনের সবার বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে মদিনা থেকে জেদ্দাগামী মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কর্মকর্তারা দুর্ঘটনায় সাত বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ব্যক্তিরা সবাই সৌদি আরবের আল আবীর কোল্ড স্টোর ট্রেডিং কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য। কোম্পানিটির রিয়াদ ও জেদ্দায় কার্যালয় রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মার্কেটিং ম্যানেজার নুরুজ্জামানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কোম্পানির স্টোরকিপার জিয়াউর রহমান, তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। অর্থাৎ একই পরিবারের চারজনই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
এ ছাড়া কোম্পানির ফর্কলিফট চালক ইলিয়াসের স্ত্রী এবং মক্কায় কর্মরত প্রতিষ্ঠানটির স্টোরকিপার আলমশাহ ও তাঁর মাত্র এক মাস বয়সী কন্যাশিশুও নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিহত বাংলাদেশিরা একটি গাড়িতে করে মদিনা থেকে জেদ্দার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।
পথে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সৌদি আরবের স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সেগুলো মদিনার একটি সরকারি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিশেষ করে একই পরিবারের চার সদস্য এবং এক মাস বয়সী শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় শোক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল নিহতদের পরিচয় ও দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে কাজ করছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের মাধ্যমে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানিয়েছে কনস্যুলেট।
তবে নিহতদের বিস্তারিত ঠিকানা, দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ এবং মরদেহ দেশে পাঠানোর সময় সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।










