মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

লক্ষ লক্ষ মুসল্লির ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনিতে চুনতীর সীরত মাহফিলের সমাপ্তি

১৯ দিনের ঐতিহাসিক আয়োজন শেষে শান্তি, ঐক্য ও মানবিক সমাজ গঠনে রাসূলের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩০ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
১৯ দিনের ঐতিহাসিক আয়োজন শেষে শান্তি, ঐক্য ও মানবিক সমাজ গঠনে রাসূলের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান

শনিবার বিকেল গড়াতেই চেনা চুনতী যেন বদলে গেল। সড়কজুড়ে মানুষের ঢল, চুনতী বাজারের দক্ষিণে শাহ সাহেব গেইটের প্রবেশ দ্বারে সাদা টুপি ও পাঞ্জাবি পরিহিত মুসল্লির স্রোত, দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা মানুষের পদচারণা—সব মিলিয়ে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

চুনতীর ১৩ একরজুড়ে বিস্তৃত শাহ্ মনজিল সীরত ময়দান ছাপিয়ে মানুষের ভিড় ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের সড়ক ও জনপদে।

কারও গন্তব্য মাহফিলের মূল প্যান্ডেল, কারও অপেক্ষা আখেরি মোনাজাতের।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা ছাড়িয়ে কক্সবাজার ও বান্দরবানসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ এসে জড়ো হন চুনতীতে। মানুষের এই ঢলে একপর্যায়ে বদলে যায় পুরো লোহাগাড়ার স্বাভাবিক দৃশ্যপট।

লক্ষ লক্ষ মুসল্লির সম্মিলিত ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনি, দরুদ-সালাম ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শনিবার শেষ রাতে চুনতীতে সমাপ্ত হয়েছে ১৯ দিনব্যাপী ৫৬তম আন্তর্জাতিক মাহফিলে সীরাতুন্নবী (সা.)।

১৯৭২ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ৫৫ বছর ধরে চলে আসা এই মাহফিলকে ঘিরে এবারও পুরো লোহাগাড়ায় বিরাজ করেছে ভিন্ন এক আমেজ।

মাহফিলের বিশেষত্ব শুধু বিশাল জনসমাগমে নয়; টানা ১৯ দিন ধরে এখানে চলে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন। মাহফিলে আগত মানুষের জন্য প্রতিদিনই থাকে খাবারের ব্যবস্থা। বিশাল মূল প্যান্ডেলে চলে সীরাতুন্নবী (সা.)-এর আলোচনা। ক্ষুধা লাগলে পাশের খাবারের প্যান্ডেলে গিয়ে খাবার খেয়ে আবার মূল প্যান্ডেলে ফিরে আসেন মুসল্লিরা।

ধর্মীয় আলোচনা, ইবাদত এবং আগত মানুষের জন্য খাবারের এই সমন্বিত আয়োজনই চুনতীর মাহফিলকে দিয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য।

মানবিক চিন্তা থেকেই খাবারের আয়োজন

মাহফিল পরিচালনা কমিটি ও শাহ মঞ্জিল চুনতীর প্রেস সচিব মোহাম্মদ সোহেল তাজ বলেন, মাহফিলের সঙ্গে খাবারের ব্যবস্থা যুক্ত করার পেছনে ছিল শাহ সাহেবের একটি মানবিক চিন্তা। তিনি মনে করতেন, দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ওয়াজ শুনতে এসে যেন না খেয়ে থাকতে বাধ্য না হন।

পুরোনো বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি বলতেন—ওয়াজ শুনে মানুষ উপবাসে থেকে রাতে বাড়ি ফিরে স্ত্রী-সন্তানদের ওপর যেন বাড়তি কষ্ট না চাপায়, সে জন্যই খাবারের এই ব্যবস্থা।

এরপর বছর গড়িয়েছে, মাহফিলের পরিধি বেড়েছে, মানুষের সংখ্যা বেড়েছে; কিন্তু খাবারের এই আয়োজন বন্ধ হয়নি।

তিনি বলেন, এবারও ১৯ দিনব্যাপী মূল মাহফিলের পাশেই খাবারের প্যান্ডেলে মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ফলে একজন মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাহফিলে অবস্থান করলেও খাবারের জন্য তাকে আলাদা কোথাও যেতে হয় না।

মূল প্যান্ডেলে সীরাতের আলোচনা শুনছেন, প্রয়োজন হলে পাশের প্যান্ডেলে গিয়ে খাবার খেয়ে আবার ফিরে আসছেন—দীর্ঘ এই আয়োজনের মধ্যে এটিই চুনতীর মাহফিলের অন্যতম ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য।

সমাপনী দিনে ছিল একাধিক অধিবেশন

শনিবার সমাপনী দিনে সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় একাধিক অধিবেশন। ১৯ দিন ধরে যে মাঠে নবীপ্রেম, সীরাতের শিক্ষা ও ইসলামী জীবনদর্শনের আলোচনা হয়েছে, শেষ দিনেও সেই মাঠ ছিল মুসল্লিদের পদচারণায় মুখর।

সমাপনী অনুষ্ঠানে আলোচনা, খুৎবায়ে ছদর, সমাপনী বক্তব্য ও মিলাদ শরিফের পর অনুষ্ঠিত হয় আখেরি মোনাজাত।

মোনাজাতের সময় শাহ্ মনজিল সীরত ময়দান ও আশপাশের এলাকা লক্ষ লক্ষ মুসল্লির সম্মিলিত ‘আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে।

এরপর সালাতুল ফজর আদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের আয়োজন।

রাসূলের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান

এতে বক্তারা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে শান্তি, ন্যায়, ঐক্য ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।

যুগশ্রেষ্ঠ আলেম হযরত মাওলানা হাফেজ আহমদ প্রকাশ শাহ্ সাহেব কেবলা চুনতী (রহ.) প্রবর্তিত এ ঐতিহাসিক মাহফিলের সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাহফিল মোতাওয়াল্লী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা হাফিজুল ইসলাম আবুল কালাম আজাদ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাহারবিল আনোয়ারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা রুহুল কুদ্দুস আনোয়ারী, আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মাওলানা আবু বকর রফিক আহমদ এবং চুনতী হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা মাহমুদুল হক।

বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী ও আলহাজ্ব নাজমুল মোস্তফা আমিন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চুনতী হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ফারুক হোসাইন।

সমাপনী বক্তব্যে মাহফিল মোতাওয়াল্লী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাদা মাওলানা আব্দুল মালেক মুহাম্মদ ইবনে দিনার নাজাত ১৯ দিনের আয়োজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সফল সমাপ্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে সীরাতের এ ঐতিহাসিক আয়োজনকে আরও বিস্তৃত ও সুসংগঠিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সমাপনী দিনে ‘হযরত মু’আয (রা.)-কে প্রদত্ত রাসূল (সা.)-এর ১০টি অসিয়ত’ বিষয়ে দরসে হাদিস পরিচালনা করেন বান্দরবান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব আলহাজ্ব মাওলানা আলা উদ্দিন ইমামী।

‘বিদায় হজে রাসূল (সা.)-এর প্রদত্ত ভাষণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ বিষয়ে আলোচনা করেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা আলহাজ্ব ড. মাওলানা আ.ফ.ম. খালেদ হোসাইন।

‘ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা’ বিষয়ে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাওলানা বি.এম. মুফিজুর রহমান আজহারী।

‘শান্তির সমাজ প্রতিষ্ঠায় মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)’ বিষয়ে আলোচনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রফেসর ড. মাওলানা আ.ক.ম. আবদুল কাদের।

‘ইসলামের দৃষ্টিতে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা এবং অনৈক্যের কারণ ও পরিণতি’ বিষয়ে বক্তব্য দেন ঢাকার মুফতি মাওলানা আলী হাসান ওসামা।

বক্তারা বলেন, ইসলাম কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের নাম নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। রাসূল (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণে মানবিকতা, ন্যায়, সাম্য ও ঐক্যের যে শিক্ষা রয়েছে, তা অনুসরণ করলেই সমাজের বিভাজন, অশান্তি ও নৈতিক অবক্ষয় দূর করা সম্ভব।

এছাড়া ‘ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের প্রামাণ্য’, ‘কামিল মুরশিদের পরিচয় ও গুণাবলি’, ‘আল-কোরআন ও বিজ্ঞান’, ইবাদত ও নামাজের গুরুত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশের বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদরা আলোচনা করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা ১৯ দিন ধরে এত বড় একটি আয়োজন পরিচালনা করা সহজ নয়। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে একই ধারায় চলে আসছে এই ব্যবস্থাপনা। মানুষের সংখ্যা ও মাহফিলের পরিধি বাড়লেও বন্ধ হয়নি আগতদের খাবারের আয়োজন।

এ কারণেই চুনতীর সীরত মাহফিল কেবল একটি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের আয়োজন হয়ে থাকেনি।

ধীরে ধীরে এটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের সীমানা ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে পরিচিত একটি ঐতিহাসিক ধর্মীয় আয়োজন হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

শেষ দিনে সেই ঐতিহাসিক আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে লক্ষ লক্ষ মুসল্লির সম্মিলিত ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনি, দরুদ-সালাম ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে।

টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১১ পিএম
টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

টাকা না দিলে থানায় আটক ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। সেই অর্থ না পেলে থানায় তোলা ছবি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আটক ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো প্রেস রিলিজে আটক ব্যক্তির ছবি ব্লার করা অবস্থায় দেওয়া হলেও, একই ব্যক্তির অব্লার ছবি এর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন ভিন্নতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন থাকে, তবে সেই নীতি সবক্ষেত্রেই সমানভাবে অনুসরণ করা উচিত। অন্যথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাঁর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হয়ে যায়। এতে আদালতে বিচার শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি, ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়া থানায় আটক একাধিক ব্যক্তির ছবি প্রেস রিলিজ প্রকাশের আগেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, থানার ভেতরে তোলা ছবি কীভাবে এত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌঁছে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক স্বজনকে আটকের পর বিভিন্নভাবে টাকার কথা বলা হয়। টাকা দিতে না পারার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি থানায় তোলা তাঁর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পরিচিতজনরা ফোন করে জানতে চান কী হয়েছে। এতে আমরা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, আইনি প্রক্রিয়া চলার আগেই একজনের ছবি এভাবে প্রকাশ করে দেওয়া ঠিক নয়। পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও সমাজের মানুষের কাছে সেই অপবাদ থেকেই যায়।

আরেকজন অভিযোগ করেন, ছবি প্রকাশ করে সামাজিক চাপ তৈরি করা হয় বলে আমাদের মনে হয়েছে। এতে পরিবার ভয় ও মানসিক চাপে থাকে। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া তাঁর সম্মান ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা তাঁর ছবি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সামাজিক ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে এমন ছবি প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যদিও এর আগে কয়েকবার এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেছিলেন, থানা থেকে কোনো ব্যক্তির ছবি ফাঁস করা হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবি ছড়ায়, সেগুলোর উৎস সম্পর্কে  জানা নেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব।

বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান  প্রতিনিধি:

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব মেলাসহ নানা আয়োজনে বান্দরবানে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় যুব ভবনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক অংজাই উই চাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা জামায়াতের আমীর এসএম আব্দুস সালাম আজাদ,বান্দরবান ইসলামিক ফাউণ্ডেশন উপপরিচালক মো সেলিম উদ্দিন,বান্দরবান প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,বিএনপি নেতা মো.আবু তাহের।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বান্দরবান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনায়েত করিম। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিপিসি মোখলেসুর রহমান, বান্দরবানের বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী, বালাঘাটা ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো:আলী’সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, যুব সংগঠক ও তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার লুবু প্রু মারমা।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি যুব মেলায় তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণের চেক বিতরণ ও ৩টি যুব সংগঠনের নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন,দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

মোহাম্মদ আবুল হাশেম লামা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ হলেও বরাবরের মতো এবারও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বোধিছড়াস্থ ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬০ জনেই পাশ করেছে। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পেয়েছে ১৭ জন, এতে পাশের হার শতভাগ। সে মতে জেলার অন্যান্য কলেজের চেয়ে ফলাফলে এগিয়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বান্দরবান জেলার ১৪ টি কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ থেকে ৩টি বিভাগে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪জন, এতে ‘এ’ প্লাস ৫জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৯জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১২জন, এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস ৪জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৮জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় ৩৪জন অংশ গ্রহণ করে ‘এ’ প্লাস ৮জন, ২৫ জন ‘এ’ গ্রেড ও ১ জন ‘এ’ মাইনেস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। প্রকাশিত ফলাফলে শতভাগ উত্তীর্ণ কলেজের মধ্যে শিক্ষার্থী ও ‘এ’ প্লাস সংখ্যায় কোয়ান্টাম কসমো কলেজের অবস্থান জেলায় শীর্ষে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার সরকারী মাতামুহুরী কলেজ থেকে একই পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৫৫জন। এর মধ্যে পাশ করে মাত্র ২৭৮জন। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পায় ৫জন, পাশের হার ৩৬.৮২ । চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পরীক্ষা দেয় ৪৯জন, এর মধ্যে পাশ করে ৬জন, পাশের হার ১২.৭৭। হেফাজতুর রহমান কলেজ থেকে পর এতে পাশের হার শরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২৪জন শিক্ষার্থী, পাশ করে ১১জন, পাশের হার ৪৬.০০। লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৭জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৬জন, পাশের হার ৩৫.২৯।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কলেজের হোস্টেলে ছিলাম। আমাদের শিক্ষকরা যে পরিমাণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সার্বক্ষনিক মনিটরিং এ রেখেছেন তাতে ভালো ফলাফল না করে উপায় নেই। তাই সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

দিক-নির্দেশনা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ক্লাশ পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রদান এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ-এ ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ।
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানায়, সর্বোচ্চ এ প্লাস ও শতভাগ পাশের হারে শীর্ষ স্থান অর্জন করে লামা উপজেলার ভারমূর্তি উজ্জ্বল করেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। কলেজগুলোর এ র‌্যাংকিং করা হয় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জিপিএ-৫ ও পাশের হারের ভিত্তিতে।