মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

দুই দিনে অনুমোদন ৩ শতাধিক

সাতকানিয়ায় ইউএনওর বদলির আগে নামজারির ‘হিড়িক’

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২২ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সাতকানিয়ায় ইউএনওর বদলির আগে নামজারির ‘হিড়িক’

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন: বদলির আদেশের পর সাতকানিয়ায় শেষ কর্মদিবস ঘনিয়ে আসছে—এরই মধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ শূন্য হওয়ায় সেই দায়িত্ব পান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান। দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র দুই দিনের মধ্যে সাতকানিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে পাঠানো তিন শতাধিক নামজারি মামলা অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, এসব নামজারি অনুমোদনকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে।

ভূমি অফিস-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, ২৬ ও ২৭ আগস্ট মাত্র দুই দিনে সাতকানিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে পাঠানো তিন শতাধিক নামজারি ফাইল অনুমোদন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে কিছু ফাইল অফিস সময়ের বাইরে গভীর রাতে অনুমোদন দেওয়া হয়। এমনকি ভূমি অফিসে উপস্থিত না হয়ে সরকারি বাসভবনে বসেও ফাইল অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে ইউএনওর বিরুদ্ধে।
দুই দিনে এত বিপুলসংখ্যক নামজারি অনুমোদনের ঘটনায় এখন প্রশ্ন উঠেছে—কীভাবে এত ফাইলের তদন্ত, প্রতিবেদন, শুনানি ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হলো? সাধারণ একজন ভূমিমালিককে একটি নামজারি সম্পন্ন করতে যেখানে দীর্ঘ সময় ভূমি অফিসে ঘুরতে হয়, সেখানে মাত্র দুই দিনে তিন শতাধিক মামলা নিষ্পত্তির বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তাঁদের প্রশ্ন, এতগুলো ফাইল কি আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল? যদি প্রস্তুতই থাকে, তাহলে এতদিন সেগুলো পড়ে ছিল কেন? আর মাত্র দুই দিনে শত শত ফাইলের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া কীভাবে শেষ হলো?

২৫ আগস্ট ক্ষমতা, ২৭ আগস্ট শেষ কর্মদিবস

সাতকানিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুজ্জামান গত ১৬ আগস্ট বদলি হয়ে চলে যাওয়ার পর পদটি শূন্য হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসানকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কাজ সম্পাদনের ক্ষমতা দেওয়া হয় ২৫ আগস্ট।
এর মাত্র দুই দিন পর, ২৭ আগস্ট ছিল তাঁর সাতকানিয়ায় শেষ কর্মদিবস। অর্থাৎ ভূমি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব পাওয়ার পর কার্যত বুধবার ও বৃহস্পতিবার—এই দুই দিনই তাঁর হাতে ছিল।
সাতকানিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত নাজির পলাশ দাশ বলেন, “ইউএনও স্যার মঙ্গলবার, অর্থাৎ ২৫ আগস্ট আইডি পেয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ছিল তাঁর শেষ অফিস।”
ভূমি অফিস-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই দুই দিনের মধ্যেই বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে পাঠানো বিপুলসংখ্যক নামজারি ফাইল অনুমোদন করা হয়।

বিভিন্ন ভূমি অফিসে অনুমোদনের হিড়িক

নামজারি অনুমোদনের বিষয়ে সাতকানিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে একাধিক ফাইল অনুমোদনের তথ্য পাওয়া গেছে।
নামজারি কাজের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সদ্য বদলি হওয়া ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান আইডি পেয়ে গত দুই দিন তাঁর বাসায় নামজারি অনুমোদনের বাজার বসিয়েছেন। এটা সাতকানিয়ার ইতিহাসে রেকর্ড থাকবে।”
সাতকানিয়া সদর ভূমি অফিসের তহশিলদার কাজী ইমরুল কায়েস বলেন, “ইউএনও স্যার আনুমানিক ৬০/৭০টি নামজারি ফাইল অনুমোদন দিয়েছেন। রাতে দিয়েছেন, নাকি দিনে দিয়েছেন—সেটি আমি জানি না।”
বাজালিয়া ভূমি অফিসের তহশিলদার মোকাম্মেল হোসেন জানান, তাঁর অফিসে তেমন ফাইল জমা ছিল না। আনুমানিক ৩০টি ফাইল ইউএনও অনুমোদন দিয়েছেন।
তুলাতলী ভূমি অফিসের তহশিলদার হারেজ আহমদ বলেন, “আমি কোনো নামজারি করিনি, নামজারি করেন এসি ল্যান্ড।” গত দুই দিনে কতটি নামজারি হয়েছে—এ প্রশ্ন করা হলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
দেওদিঘী ভূমি অফিসের তহশিলদার সালাউদ্দিন বলেন, “বেশ কিছু অনুমোদন হয়েছে জেনেছি। কিন্তু কয়টা হয়েছে জানি না।”
বিভিন্ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যে সংখ্যার ভিন্নতা থাকলেও গত দুই দিনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নামজারি অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সব ভূমি অফিসের সরকারি রেকর্ড যাচাই করা হলে প্রকৃত সংখ্যা আরও স্পষ্ট হবে।

রাতের আঁধারে বাসভবন থেকে ফাইল অনুমোদনের অভিযোগ

তথ্যানুসন্ধানে অভিযোগ উঠেছে, ২৬ ও ২৭ আগস্ট রাতের বেলায় ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের ডেকে এনে নামজারি ফাইলের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আরও অভিযোগ রয়েছে, ভূমি অফিসে উপস্থিত না হয়ে ইউএনও তাঁর সরকারি বাসভবনে বসে গভীর রাতে একের পর এক নামজারি ফাইলে অনুমোদন দেন।
তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। যদি অফিস সময়ের বাইরে সরকারি বাসভবন থেকে ভূমি-সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনের ঘটনা সত্য হয়, তাহলে তা কীভাবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুই দিনে ৫ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ

তিন শতাধিক নামজারি অনুমোদনের এই কার্যক্রমকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে আরেকটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই দিনে বিপুলসংখ্যক নামজারি অনুমোদনকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে। প্রতিটি নামজারির জন্য ১ হাজার ৫শ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন।

সচেতন মহলের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ২৫ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত অনুমোদিত সব নামজারি মামলার তালিকা, আবেদনকারীর তথ্য, ফাইল অনুমোদনের সময়, সংশ্লিষ্ট তহশিলদারের প্রতিবেদন এবং ডিজিটাল রেকর্ড পরীক্ষা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও তদন্তের মাধ্যমে বের করা উচিত।

সাতকানিয়ায় সম্প্রতি সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যদি মাত্র দুই দিনে অফিস সময়ের বাইরে শত শত নামজারি মামলা অনুমোদন দেওয়ার ঘটনা সঠিক হয়, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই তদন্তের দাবি রাখে। কারণ এখানে যথেষ্ট অসঙ্গতি থাকার সম্ভাবনা দেখা যায়।”

তিন দফা বদলি, শেষ মুহূর্তে ভূমির দায়িত্ব

খোন্দকার মাহমুদুল হাসান ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে একবার নয়, তিন দফায় বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
প্রথম দফায় ১০ মার্চ তাঁকে সাতকানিয়া থেকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য রংপুর বিভাগে ন্যস্ত করা হয়। এরপরও তিনি সাতকানিয়ায় দায়িত্ব পালন করেন।
দ্বিতীয় দফায় ২৩ এপ্রিল তাঁকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়। কিন্তু সেই আদেশের পরও তিনি সাতকানিয়ায় থেকে যান।
সর্বশেষ তৃতীয় দফায় ২৩ আগস্ট তাঁকে সাতকানিয়া থেকে প্রত্যাহার করে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়। তিন দফা বদলির পর ২৭ আগস্ট ছিল তাঁর সাতকানিয়ায় শেষ কর্মদিবস।
আর বদলির এই শেষ পর্যায়েই ২৫ আগস্ট তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কাজ সম্পাদনের ক্ষমতা পান। এরপর মাত্র দুই দিনে তিন শতাধিক নামজারি অনুমোদনের অভিযোগ এবং ৫ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তদন্তেই বের হতে পারে প্রকৃত রহস্য

সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ২৫ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত অনুমোদিত সব নামজারি ফাইলের সংখ্যা, অনুমোদনের সময় ও স্থান, আবেদন ও শুনানির তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
একই সঙ্গে অফিস সময়ের বাইরে কোনো ফাইল অনুমোদন করা হয়েছে কি না এবং সরকারি বাসভবন থেকে ভূমি-সংক্রান্ত নথি অনুমোদনের অভিযোগ সত্য কি না, তা ডিজিটাল রেকর্ডের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি উঠেছে।
অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এনে সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এখন প্রশ্ন—মাত্র দুই দিনে তিন শতাধিক নামজারি কীভাবে অনুমোদন হলো? ফাইলগুলো কি আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল, নাকি শেষ মুহূর্তে বিশেষ তৎপরতায় এগুলো নিষ্পত্তি করা হয়েছে? আর ৫ লাখ টাকা লেনদেনের যে অভিযোগ উঠেছে, তার সত্যতাই বা কতটুকু?
সরকারি নথি, ডিজিটাল রেকর্ড ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদই দিতে পারে এসব প্রশ্নের প্রকৃত উত্তর।

টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১১ পিএম
টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

টাকা না দিলে থানায় আটক ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। সেই অর্থ না পেলে থানায় তোলা ছবি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আটক ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো প্রেস রিলিজে আটক ব্যক্তির ছবি ব্লার করা অবস্থায় দেওয়া হলেও, একই ব্যক্তির অব্লার ছবি এর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন ভিন্নতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন থাকে, তবে সেই নীতি সবক্ষেত্রেই সমানভাবে অনুসরণ করা উচিত। অন্যথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাঁর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হয়ে যায়। এতে আদালতে বিচার শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি, ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়া থানায় আটক একাধিক ব্যক্তির ছবি প্রেস রিলিজ প্রকাশের আগেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, থানার ভেতরে তোলা ছবি কীভাবে এত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌঁছে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক স্বজনকে আটকের পর বিভিন্নভাবে টাকার কথা বলা হয়। টাকা দিতে না পারার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি থানায় তোলা তাঁর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পরিচিতজনরা ফোন করে জানতে চান কী হয়েছে। এতে আমরা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, আইনি প্রক্রিয়া চলার আগেই একজনের ছবি এভাবে প্রকাশ করে দেওয়া ঠিক নয়। পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও সমাজের মানুষের কাছে সেই অপবাদ থেকেই যায়।

আরেকজন অভিযোগ করেন, ছবি প্রকাশ করে সামাজিক চাপ তৈরি করা হয় বলে আমাদের মনে হয়েছে। এতে পরিবার ভয় ও মানসিক চাপে থাকে। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া তাঁর সম্মান ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা তাঁর ছবি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সামাজিক ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে এমন ছবি প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যদিও এর আগে কয়েকবার এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেছিলেন, থানা থেকে কোনো ব্যক্তির ছবি ফাঁস করা হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবি ছড়ায়, সেগুলোর উৎস সম্পর্কে  জানা নেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব।

বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান  প্রতিনিধি:

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব মেলাসহ নানা আয়োজনে বান্দরবানে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় যুব ভবনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক অংজাই উই চাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা জামায়াতের আমীর এসএম আব্দুস সালাম আজাদ,বান্দরবান ইসলামিক ফাউণ্ডেশন উপপরিচালক মো সেলিম উদ্দিন,বান্দরবান প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,বিএনপি নেতা মো.আবু তাহের।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বান্দরবান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনায়েত করিম। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিপিসি মোখলেসুর রহমান, বান্দরবানের বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী, বালাঘাটা ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো:আলী’সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, যুব সংগঠক ও তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার লুবু প্রু মারমা।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি যুব মেলায় তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণের চেক বিতরণ ও ৩টি যুব সংগঠনের নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন,দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

মোহাম্মদ আবুল হাশেম লামা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ হলেও বরাবরের মতো এবারও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বোধিছড়াস্থ ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬০ জনেই পাশ করেছে। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পেয়েছে ১৭ জন, এতে পাশের হার শতভাগ। সে মতে জেলার অন্যান্য কলেজের চেয়ে ফলাফলে এগিয়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বান্দরবান জেলার ১৪ টি কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ থেকে ৩টি বিভাগে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪জন, এতে ‘এ’ প্লাস ৫জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৯জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১২জন, এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস ৪জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৮জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় ৩৪জন অংশ গ্রহণ করে ‘এ’ প্লাস ৮জন, ২৫ জন ‘এ’ গ্রেড ও ১ জন ‘এ’ মাইনেস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। প্রকাশিত ফলাফলে শতভাগ উত্তীর্ণ কলেজের মধ্যে শিক্ষার্থী ও ‘এ’ প্লাস সংখ্যায় কোয়ান্টাম কসমো কলেজের অবস্থান জেলায় শীর্ষে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার সরকারী মাতামুহুরী কলেজ থেকে একই পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৫৫জন। এর মধ্যে পাশ করে মাত্র ২৭৮জন। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পায় ৫জন, পাশের হার ৩৬.৮২ । চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পরীক্ষা দেয় ৪৯জন, এর মধ্যে পাশ করে ৬জন, পাশের হার ১২.৭৭। হেফাজতুর রহমান কলেজ থেকে পর এতে পাশের হার শরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২৪জন শিক্ষার্থী, পাশ করে ১১জন, পাশের হার ৪৬.০০। লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৭জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৬জন, পাশের হার ৩৫.২৯।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কলেজের হোস্টেলে ছিলাম। আমাদের শিক্ষকরা যে পরিমাণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সার্বক্ষনিক মনিটরিং এ রেখেছেন তাতে ভালো ফলাফল না করে উপায় নেই। তাই সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

দিক-নির্দেশনা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ক্লাশ পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রদান এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ-এ ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ।
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানায়, সর্বোচ্চ এ প্লাস ও শতভাগ পাশের হারে শীর্ষ স্থান অর্জন করে লামা উপজেলার ভারমূর্তি উজ্জ্বল করেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। কলেজগুলোর এ র‌্যাংকিং করা হয় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জিপিএ-৫ ও পাশের হারের ভিত্তিতে।