শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

বান্দরবানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জশনে জুলুছে ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বান্দরবানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জশনে জুলুছে ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন

মঈন উদ্দীন,বান্দরবান

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বান্দরবানে পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদ এ মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, নাতে রাসুল (সা.) পরিবেশন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ, বান্দরবান জেলা শাখার উদ্যোগে পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বান্দরবান কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ট্রাফিক মোড় মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়।
পরে ট্রাফিক মোড় মুক্তমঞ্চে নাতে রাসুল (সা.) পরিবেশন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ওসমান গনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ, বান্দরবান জেলা শাখার সাবেক সভাপতি হারুনুর রশিদ এবং কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির অর্থ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ, বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি আসহাব উদ্দীন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মাওলানা আবু তালেব মঈনী, জশনে জুলুছে ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন কমিটির সভাপতি মাওলানা নুরুল ইসলাম, কমিটির সদস্য সচিব ইমদাদুল হক বাহাদুরসহ জেলা সদর ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য শান্তি, সাম্য, মানবতা ও ন্যায়বিচারের বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করেছেন। তাঁর আদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনা করলে সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

বক্তারা আরও বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করে সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা। পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, আবার পুলিশের কাছেই তদবির!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, আবার পুলিশের কাছেই তদবির!

‘বাংলাদেশের ট্রাফিক সিস্টেম, নেতা আর ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি’—এমন শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন সাবেক এক এনসিপি নেতা। আর সেই ভিডিও নিজ ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রশক্তির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মো. সাঈদ হোসেন মানিক। ভিডিওতে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ধরলেও বাস্তবে নিজেই ট্রাফিক পুলিশের কাছে মোটরসাইকেল ছাড়াতে তদবির করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি সংশ্লিষ্ট চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় মামলা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি সমন্বয়ক পরিচয় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সাতকানিয়ার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা কেরানীহাটে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করছিল ট্রাফিক পুলিশ। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল আটক করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে সেখানে যান ছাত্রশক্তি নেতা মো. সাঈদ হোসেন মানিক। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একটি মোটরসাইকেল ছাড়িয়ে দিতে ট্রাফিক পুলিশের কাছে তদবির করেন।

তবে ট্রাফিক ইনচার্জ মো. মাহবুব তাকে জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বৈধ ডকুমেন্টস থাকলে মোটরসাইকেল ছেড়ে দেওয়া হবে। পরে সংশ্লিষ্ট চালক মোটরসাইকেলের কাগজপত্র নিয়ে এলেও তার কাছে ছিল না ড্রাইভিং লাইসেন্স। এ কারণে ট্রাফিক পুলিশ মামলা দেওয়ার উদ্যোগ নিলে সেখানে সমন্বয়ক পরিচয় দেন সাঈদ হোসেন মানিক। অভিযোগ রয়েছে, নিজের পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত মোটরসাইকেলটি ছাড়িয়ে নেন তিনি।

ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হন এ প্রতিবেদক। এ সময় কেরানীহাট পুলিশ বক্সের সামনে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সাঈদ হোসেন মানিক কোনো কথা বলেননি। তবে তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন যুবক এ প্রতিবেদককে পুলিশের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করেন।

পরে কেরানীহাট পুলিশ বক্সের ট্রাফিক ইনচার্জ মো. মাহবুবের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বিব্রতবোধ করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আসলে কী আর বলব ভাই। সে সমন্বয়ক পরিচয় দিল, আমার তো কিছু করার নেই।’

লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর আইনি বিধান কী?

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষানবিশ লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যক্তি জনসাধারণের চলাচলের স্থানে মোটরযান চালাতে পারেন না। আইনের ৪ ধারায় এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অন্যদিকে ৬৬ ধারায় এ বিধান লঙ্ঘনের অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ মোটরসাইকেলের নিবন্ধনসহ অন্যান্য কাগজপত্র ঠিক থাকলেও চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে সেটি আলাদা আইনগত অপরাধ। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চালকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কোনো রাজনৈতিক, সাংগঠনিক কিংবা সমন্বয়ক পরিচয় এ আইনি বাধ্যবাধকতা থেকে কাউকে অব্যাহতি দেয় না।

আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ট্রাফিক পুলিশ কোনো ব্যক্তির পরিচয় বা প্রভাবের কারণে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হলে তা সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তবে ওই মোটরসাইকেল ছাড়ার ক্ষেত্রে কোনো লিখিত নির্দেশ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, আবার পুলিশের কাছেই তদবির!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগসংবলিত ভিডিও শেয়ার করার পর নিজের মোটরসাইকেল ছাড়ানোর তদবিরের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা তথ্য-প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা নাগরিকের অধিকার। কিন্তু একই সঙ্গে নিজের পরিচয় ব্যবহার করে আইন প্রয়োগে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের মতে, ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ বা চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত হওয়া উচিত। একইভাবে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের পরিচয়ে কেউ অবৈধ যানবাহন ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ না হলে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে।

আগেও গণপরিবহনে মব সৃষ্টির অভিযোগ

সাঈদ হোসেন মানিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম থেকে আগত মিনিবাস আটকে চালক ও সহকারীদের হেনস্তা করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কথিত অভিযোগ তুলে এসব যানবাহনে উঠে চালক ও সহকারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। কখনো জনসমাগম তৈরি করে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে।

যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষ, বিআরটিএ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিগত উদ্যোগে গাড়ি আটকে কাউকে হেনস্তা করা কিংবা জনসমাগম তৈরি করে চাপ প্রয়োগ করা কোনোভাবেই আইনসম্মত প্রতিকার পদ্ধতি নয়।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময় সাতকানিয়া থানার সামনে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে থানার সামনে ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালন না করার অভিযোগ তুলতে দেখা যায় তাকে।

পুলিশের মনোবল ও আইন প্রয়োগের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। পুলিশের ওপর হামলা, আসামি ছিনিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে মব সৃষ্টির ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনের পরিবেশকে কঠিন করে তুলেছে।

এমন পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরিচয় ও প্রভাবের কারণে আইন প্রয়োগে বাধার মুখে পড়েন, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের সমান প্রয়োগ নিয়ে অনাস্থা তৈরি হতে পারে।

সচেতন মহলের মতে, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশের কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ, ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের পরিচয় যেন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার হাতিয়ার না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের কাছে পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এবং সমন্বয়ক পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশ আগের চেয়ে অনেক বেশি কাজ করছে। কে কী বলছে, সেটা আমাদের দেখার বিষয় না।’

এদিকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রশক্তির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মো. সাঈদ হোসেন মানিকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইরানের শান্তি প্রস্তাবের পর কাতারের আমিরকে ট্রাম্পের ফোন

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
ইরানের শান্তি প্রস্তাবের পর কাতারের আমিরকে ট্রাম্পের ফোন

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে।

এরই মধ্যে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিকে ফোন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফোনালাপে ইরান যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই নেতা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপের তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। কাতারের আমিরের দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং যুদ্ধ বন্ধে কাতারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে কথা হয়েছে।

এ সময় আমির শেখ তামিম সংলাপ অব্যাহত রাখা, বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি এড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান।

প্রস্তাবটিতে সাতটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। এসব শর্ত পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না ইরান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের পাঠানো প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে প্রস্তাবের সাতটি শর্ত কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

অন্যদিকে, যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে ইরানের বাকি অংশও ধ্বংস করে দিতে হতে পারে। এ বিষয়ে শিগগিরই জানা যাবে।

ইরানের নতুন পারমাণবিক প্রস্তাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের অনুমোদন ছাড়া তারা কিছুই করতে পারবে না।’

একদিকে ইরানের শর্তসাপেক্ষ প্রস্তাব, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

রুমায় বিহারে নাম ভাঙ্গিয়ে হেডম্যান বিরুদ্ধে জায়গায় দখলে অভিযোগ

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৬ পিএম
রুমায় বিহারে নাম ভাঙ্গিয়ে হেডম্যান বিরুদ্ধে জায়গায় দখলে অভিযোগ

উবাসিং মার্মা,রুমা প্রতিনিধি

বান্দরবানের রুমায় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ৩৫৩ নং কোলাদি মৌজার হেডম্যান শৈচিং থুইয়ের বিরুদ্ধে।শুধু জমি দখল করেই ক্ষান্ত হননি তিনি। বরং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবের আওতায় এনে ভুক্তভোগীদের জমিতে চাষাবাদও শুরু করেছেন।

অভিযোগ আছে, হেডম্যানের দায়িত্ব ও ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের জমি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছেন শৈচিং থুই। শুধু তাই নয়, ভুক্তভোগীদের জমিতে চাষাবাদ শুরু করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এতে নিজেদের পৈতৃক ও ভোগদখলীয় জমি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুটি কাগজের হোল্ডিং নাম্বার যেমন ভিন্নতা রয়েছে তেমনি চৌহদ্দি পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু বৌদ্ধ বিহারে নাম উল্লেখ করা হলেও জায়গাটি ব্যক্তির মালিকানাধীন জায়গা। আর প্রকৃত মালিকের জায়গায়টি কাগজের সাথে ওয়ারিশ নাম প্রমান রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন তৈরির মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকাবাসীর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও বিভেদ সৃষ্টি করে বিরোধকে আরও জটিল করে তোলার অভিযোগও রয়েছে। হেডম্যানের পদ-পদবি ও সামাজিক প্রভাবের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে ভুক্তভোগীরা নিজেদের জমির অধিকার নিয়ে এক ধরনের অসহায় পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

দুটি কাগজের জবানবন্দি খটিয়ে দেখা গেছে, জবানবন্দিতে ৩৫৩ নং কোলাদি মৌজায় ২৭ নং হোল্ডিয়ে পাঁচ একর ৩য় শ্রেনী পাহাড় দেখানো হয়েছে। যেখানে মালিক হিসেবে নাম রয়েছে মংসিংগ্য মারমা। সেখানে চৌহুদ্দিতে উল্লেখ রয়েছে উত্তরে শীল পাহাড় দক্ষিণে দাব্রো ক্ষ্যং ঝিড়ি ও পূর্বে পাহাড় পশ্চিমে শঙ্খ নদী দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে হেডম্যান দাবি করা জবানবন্দি দেখানো হয়েছে একই মৌজায় ৩য় শ্রেনীর অর্থাৎ পাহাড় জায়গা পরিমান ১ একর। সেখানে মালিক হিসেবে নাম রয়েছে আগাওয়াইং ছা ভিক্ষু নামে। চৌহদ্দি উল্লেখ করা হয়েছে উত্তরে পলিকা ঝিড়ি দক্ষিনে পাহাড় ও পূর্বে প্রুথোয়াই অং পশ্চিমে পাহাড়। কাগজের কলমে বৌদ্ধ বিহারে জায়গা বলে কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

এদিকে দুই জায়গাটিতে পাহাড় আর চৌহুদ্দি ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সাঙ্গু যে চরটি উঠেছে সেখানে প্রকৃত মালিক দাবি করছেন জায়গার মালিকের ওয়ারিশ পিপলু মারমা। কিন্তু সেখানে বাদী সাথে কাগজের আর চৌহদ্দি মিল না থাকলেও জোড়পূর্বকভাবে খাস ও বিহারে নাম ভাঙ্গিয়ে দখলে নেন ওই মৌজার হেডম্যান শৈচিং থুই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভুক্তভোগী জায়গাতে সাঙ্গু নদীর চড়কে খাস বলে কয়েকজন নারী বীজ বপন করছেন। সেখানে গ্রামের ১১জন নারী দলবেধে কাজ শুরু করেছেন। তবে কাগজের কলমের জায়গাটি থেকে এক কিলোমিটার দূরে। বিহারে নামে হেডম্যান দাবি করলেও বিহারে নামে কোন অস্তিত্ব জায়গা পাইনি।

দখলকৃত জমিতে কাজ করছেন ১১জন নারী। তাদের মধ্যে কথা হয় সিংনুপ্রু সাথে। তিনি বলেন, জায়গায় কাদের কার আমরা জানি নাহ। রাতে বিহার থেকে মাইকে বলা হয় ভোরে জমিতে বীজ বপন করতে হবে বলে সেজন্য ভিক্ষুর কথায় বীজ বপন এসেছি। মুল ঘটনা কি কোন কিছুই জানি নাহ আমরা।

পলিকা বৌদ্ধ বিহারে অধ্যক্ষ ইন্দ্রিয় ভিক্ষু বলেন, জমিতে চাষ বা বীজ লাগাতে নির্দেশনা আমি দেয়নি। এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি নাহ। তবে দখল না করে পাড়াবাসীরা মালিকের সাথে সমাধান করলে হয়। কিন্ত এত বড় ঘটনা না করলেও হেডম্যান পারত।

অভিযোগ বিষয়ে পলিকা পাড়া বৌদ্ধ বিহারে সভাপতি উবামং মারমা বলেন, আমি আগে বিহারে কমিটিতে ছিলাম নাহ। জায়গায় দখল করতে হেডম্যান আমাকে দুদিনের জন্য সভাপতি বানানো হয়। আর আমাকে বাদি করে হেডম্যান নিজেই অভিযোগ দাখিল করেন। স্বাক্ষর দিতে বলেছে আমি দিয়েছি কেননা আমি অশিক্ষিত কি লেখা আছে আমি পড়তে জানি নাহ।

পলিকা পাড়া গ্রামপ্রধান দুংখি অং মারমা বলেন, হেডম্যান নিজেই লিখে আমাকে একটা কাগজ দিয়েছে। সভাপতি না থাকায় আমি পক্ষে হয়ে স্বাক্ষর করেছি। আর জায়গাটি খাস নাকি মালিকানাধীন সেটা হেডম্যান বলতে পারবে।

ভুক্তভোগী পিপলু মারমা বলেন, আমার বাবা বেঁচে থাকাকালীন অনেক স্থানে জায়গা দান করেছে। কিন্তু এখানে আমার চৌহদ্দি আলাদা আর দখল করতে যে কাগজ দেখানো হয়েছে সেটি চৌহদ্দি আলাদা। বাবা যখন বেঁচে ছিল তখন কেউ দাবি করিনি। বাবার মৃত্যু দুই মাস হেডম্যান নিজেই দখল করতে নেমেছে। আর হাতিয়ার হিসেবে গ্রামবাসীকে ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, হেডম্যান কখনো অন্যের জায়গা,কখনো খাস আবার গ্রামবাসী সবশেষ বিহারে জায়গা বলে দাবি করে আসছে। যার কারণে আমার জায়গায় দখল করেছে আর বর্গা চাষীকেও হেনস্থা করেছে হেডম্যান। আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

এবিষয়ে ৩৫৩ নং কোলাদি মৌজার হেডম্যান শৈচিং থুই মারমা দাবি করে বলেন, তাদের চৌহোদি আলাদা ভিক্ষু চৌহুদি ও আলাদা। কিন্তু যে নদীর চর যেটা আছে সেটা খাস। যার কারণে সেখানে বিহারে নামে দখল করেছি পাড়াবাসী সম্মতিক্রমে। আর এই জায়গায় বিহার কাছে দান করে সেখানে ভাড়া হিসেবে দেয়া হবে।

এবিষয়ে হেডম্যান অস্বীকার করে বলেন, এখানে কারো জায়গা দখল করেনি। যেহেতু তাদের সীমানা নদীর পর্যন্ত সেহেতু নদীর যে চর আছে সেটি খাস বলেছি। যার কার‍ণে পাড়াবাসী কমিটি করে দখল করেছি।

অভিযোগ বিষয়ে রুমা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, পাঁচ একর দখল নিয়ে এক শিক্ষক কোলাদি হেডম্যান বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। আমরা তদন্ত করে কি ব্যবস্থা নেয়া যায় সেটির দিকে আগাচ্ছি।