সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

স্টিয়ারিং হাতে স্বাবলম্বিতার স্বপ্ন

দক্ষ চালক হতে সাতকানিয়া কার ট্রেনিং সেন্টারে বাড়ছে আগ্রহ

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৬ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
দক্ষ চালক হতে সাতকানিয়া কার ট্রেনিং সেন্টারে বাড়ছে আগ্রহ

আধুনিক কর্মবাজারে বাড়ছে দক্ষতার গুরুত্ব। শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন এখন অনেকের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। বিশেষ করে দেশে ও বিদেশে গাড়ি চালনার দক্ষতার চাহিদা থাকায় সাতকানিয়ায় ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এই আগ্রহীদের বেসিক থেকে এডভান্স পর্যায় পর্যন্ত হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ চালক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সাতকানিয়া কার ট্রেনিং সেন্টার।

বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া তরুণদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে গাড়ি চালানো শিখতে আগ্রহীরাও প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণার্থীদের ভাষ্য, শুধু গাড়ি চালানোর প্রাথমিক কৌশল নয়, ধাপে ধাপে বাস্তব পরিস্থিতিতে গাড়ি নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন বিষয় শেখানো হওয়ায় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেকেই গাড়ি চালানো শেখার অর্থ কেবল স্টিয়ারিং ঘোরানো বা গাড়ি সামনে-পেছনে নেওয়াকে বোঝেন। কিন্তু বাস্তব সড়কে গাড়ি চালানোর জন্য প্রয়োজন গাড়ির ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা, সড়কের পরিস্থিতি বোঝা এবং নিরাপদভাবে গাড়ি পরিচালনার দক্ষতা।

এই বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে সাতকানিয়া কার ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণার্থীদের ধাপে ধাপে শেখানো হচ্ছে গাড়ি চালনার বিভিন্ন কৌশল। একেবারে নতুনদের জন্য শুরুতে গাড়ির মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। এরপর ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গাড়ি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত করে তোলা হয়।

প্রশিক্ষণের আওতায় গাড়ি স্টার্ট ও বন্ধ করা, স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণ, ক্লাচ-ব্রেক-অ্যাক্সিলারেটরের ব্যবহার, গিয়ার পরিবর্তন, সামনে ও পেছনে গাড়ি চালানো, ব্যাক গিয়ার, গাড়ি ঘোরানো, বিভিন্ন ধরনের পার্কিং এবং সংকীর্ণ জায়গায় গাড়ি নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো শেখানো হচ্ছে।

প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষতা ও শেখার অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ধাপে বাস্তব সড়কে গাড়ি পরিচালনার কৌশল সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। বিশেষ করে দেশের ব্যস্ত সড়কে চলাচলের সময় কীভাবে সতর্ক থাকতে হবে, অন্য যানবাহনের সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, মোড় ও ইউটার্নে করণীয় এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বিষয়ে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন প্রশিক্ষণার্থীরা।

বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন অনেকের কাছেই গাড়ি চালনা এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবহারিক দক্ষতা। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিবহন ও সেবা খাতের নানা ধরনের কাজে ড্রাইভিং দক্ষতার প্রয়োজন হয়। আবার মূল পেশা ভিন্ন হলেও গাড়ি চালাতে জানলে অনেকের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাড়তি সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ কারণে বিদেশে যাওয়ার আগে ড্রাইভিং শেখার আগ্রহ নিয়ে সাতকানিয়া কার ট্রেনিং সেন্টারে আসছেন অনেকে। তাদের প্রয়োজন বিবেচনায় ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বর্তমান সময়ে একটি বাড়তি ব্যবহারিক দক্ষতা অনেকের কর্মজীবনে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ড্রাইভিং জানলে ব্যক্তিগত গাড়িচালক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট কাজে দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ থাকে। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকলে ড্রাইভিং দক্ষতা বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

প্রশিক্ষণার্থীদের অনেকে মনে করছেন, গাড়ি চালনা শেখার মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য একটি কার্যকর দক্ষতা অর্জন করছেন তারা। কেউ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে, কেউ ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের চিন্তায়, আবার কেউ বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

প্রশিক্ষণ নেওয়া এক ব্যক্তি বলেন, “বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাই যাওয়ার আগে একটি ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করতে চেয়েছি। এখানে এসে একেবারে শুরু থেকে ধাপে ধাপে শেখার সুযোগ পাচ্ছি। আগে গাড়ি চালানোর ব্যাপারে ভয় ছিল, এখন নিয়মিত প্রশিক্ষণের কারণে আত্মবিশ্বাস বাড়ছে।”

আরেক প্রশিক্ষণার্থী বলেন, “ইউটিউব বা অন্য জায়গায় দেখে গাড়ি চালানোর কিছু বিষয় বোঝা যায়, কিন্তু বাস্তবে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ শেখার জন্য প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধান দরকার। এখানে ভুল করলে সঙ্গে সঙ্গে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এতে ভুলগুলো শুধরে নেওয়া সহজ হচ্ছে।”

বাংলাদেশের সড়কে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে চালকদের নানা বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। ব্যস্ত সড়ক, বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের উপস্থিতি, পথচারীদের চলাচল এবং হঠাৎ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিরাপদভাবে গাড়ি নিয়ন্ত্রণে চালকের দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সাতকানিয়া কার ট্রেডিং সেন্টারে প্রশিক্ষণার্থীদের দেশের সড়ক বাস্তবতার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। গাড়ি চালানোর সময় আশপাশের পরিস্থিতির প্রতি সতর্ক থাকা, ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা এবং নিজের ও অন্যের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু দ্রুত গাড়ি চালাতে পারা দক্ষতার পরিচয় নয়; বরং নিয়ন্ত্রিত ও দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি পরিচালনা করতে পারাই একজন ভালো চালকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশিক্ষণ নেওয়া কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই আগে কখনো গাড়ির চালকের আসনে বসেননি। ফলে প্রথমদিকে গাড়ি চালানো নিয়ে তাদের মধ্যে ভয় ও অস্বস্তি কাজ করত। তবে প্রশিক্ষকের নির্দেশনা অনুযায়ী বারবার অনুশীলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সেই ভয় কাটিয়ে উঠছেন তারা।

এক প্রশিক্ষণার্থী বলেন, “প্রথম দিন গাড়িতে বসে মনে হয়েছিল আমি পারব না। বিশেষ করে ক্লাচ ও ব্রেক ব্যবহারের সময় বেশ ভয় লাগত। কিন্তু প্রশিক্ষক ধৈর্য ধরে বারবার বুঝিয়ে দিয়েছেন। এখন নিজে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারছি। সবচেয়ে বড় কথা, আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।”

আরেকজন বলেন, “আগে মনে করতাম গাড়ি চালানো খুব কঠিন। কিন্তু সঠিকভাবে ধাপে ধাপে শেখানো হলে বিষয়টি সহজ হয়ে যায়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এখন গাড়ির বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা হয়েছে।”

প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ বলছে, একজন প্রশিক্ষণার্থীর জন্য প্রশিক্ষণ পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কেউ গাড়ি চালানো শিখতে গেলে ভুল করার আশঙ্কা থাকেই। তাই ধৈর্য ধরে ভুলগুলো সংশোধন করে আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে হয়।

সাতকানিয়া কার ট্রেনিং সেন্টারে অভিজ্ঞ ট্রেইনারদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণার্থীর শেখার সক্ষমতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে গাড়ি চালনার কৌশল শেখানোর চেষ্টা করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জায়েদ হোসেন বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য শুধু কাউকে গাড়ি চালানো শেখানো নয়; একজন প্রশিক্ষণার্থী যেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এবং দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালাতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। একেবারে যারা কখনো গাড়ি চালাননি, তাদেরও বেসিক থেকে ধাপে ধাপে শেখানো হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে ড্রাইভিং একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক দক্ষতা। বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন অনেকেই এই দক্ষতা অর্জন করতে চান। আবার দেশের ভেতরেও ব্যক্তিগত, পেশাগত ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে দক্ষ চালকের প্রয়োজন রয়েছে। তাই আমরা প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে শুধু তাত্ত্বিক বিষয় নয়, ব্যবহারিক শেখার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।”

পরিচালক আরও বলেন, “আমাদের কাছে যারা প্রশিক্ষণ নিতে আসেন, তাদের অনেকের মধ্যেই শুরুতে ভয় থাকে। আমরা চেষ্টা করি প্রশিক্ষকের মাধ্যমে সেই ভয় কাটিয়ে তুলতে। ধাপে ধাপে অনুশীলনের মাধ্যমে একজন প্রশিক্ষণার্থী যখন নিজে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তখন তার আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়। এই পরিবর্তনটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন।”

বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “অনেক তরুণ বিদেশে যাওয়ার আগে ড্রাইভিং শিখতে আগ্রহী। তাদের উদ্দেশ্য থাকে একটি বাড়তি দক্ষতা অর্জন করা। আমরা তাদের প্রয়োজন বিবেচনায় প্র্যাকটিক্যাল ড্রাইভিংয়ের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি, যাতে তারা গাড়ি চালনার মৌলিক ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা নিয়ে এগোতে পারেন।”

টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১১ পিএম
টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

টাকা না দিলে থানায় আটক ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। সেই অর্থ না পেলে থানায় তোলা ছবি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আটক ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো প্রেস রিলিজে আটক ব্যক্তির ছবি ব্লার করা অবস্থায় দেওয়া হলেও, একই ব্যক্তির অব্লার ছবি এর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন ভিন্নতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন থাকে, তবে সেই নীতি সবক্ষেত্রেই সমানভাবে অনুসরণ করা উচিত। অন্যথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাঁর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হয়ে যায়। এতে আদালতে বিচার শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি, ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়া থানায় আটক একাধিক ব্যক্তির ছবি প্রেস রিলিজ প্রকাশের আগেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, থানার ভেতরে তোলা ছবি কীভাবে এত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌঁছে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক স্বজনকে আটকের পর বিভিন্নভাবে টাকার কথা বলা হয়। টাকা দিতে না পারার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি থানায় তোলা তাঁর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পরিচিতজনরা ফোন করে জানতে চান কী হয়েছে। এতে আমরা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, আইনি প্রক্রিয়া চলার আগেই একজনের ছবি এভাবে প্রকাশ করে দেওয়া ঠিক নয়। পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও সমাজের মানুষের কাছে সেই অপবাদ থেকেই যায়।

আরেকজন অভিযোগ করেন, ছবি প্রকাশ করে সামাজিক চাপ তৈরি করা হয় বলে আমাদের মনে হয়েছে। এতে পরিবার ভয় ও মানসিক চাপে থাকে। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া তাঁর সম্মান ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা তাঁর ছবি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সামাজিক ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে এমন ছবি প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যদিও এর আগে কয়েকবার এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেছিলেন, থানা থেকে কোনো ব্যক্তির ছবি ফাঁস করা হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবি ছড়ায়, সেগুলোর উৎস সম্পর্কে  জানা নেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব।

বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান  প্রতিনিধি:

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব মেলাসহ নানা আয়োজনে বান্দরবানে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় যুব ভবনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক অংজাই উই চাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা জামায়াতের আমীর এসএম আব্দুস সালাম আজাদ,বান্দরবান ইসলামিক ফাউণ্ডেশন উপপরিচালক মো সেলিম উদ্দিন,বান্দরবান প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,বিএনপি নেতা মো.আবু তাহের।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বান্দরবান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনায়েত করিম। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিপিসি মোখলেসুর রহমান, বান্দরবানের বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী, বালাঘাটা ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো:আলী’সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, যুব সংগঠক ও তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার লুবু প্রু মারমা।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি যুব মেলায় তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণের চেক বিতরণ ও ৩টি যুব সংগঠনের নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন,দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

মোহাম্মদ আবুল হাশেম লামা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ হলেও বরাবরের মতো এবারও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বোধিছড়াস্থ ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬০ জনেই পাশ করেছে। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পেয়েছে ১৭ জন, এতে পাশের হার শতভাগ। সে মতে জেলার অন্যান্য কলেজের চেয়ে ফলাফলে এগিয়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বান্দরবান জেলার ১৪ টি কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ থেকে ৩টি বিভাগে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪জন, এতে ‘এ’ প্লাস ৫জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৯জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১২জন, এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস ৪জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৮জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় ৩৪জন অংশ গ্রহণ করে ‘এ’ প্লাস ৮জন, ২৫ জন ‘এ’ গ্রেড ও ১ জন ‘এ’ মাইনেস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। প্রকাশিত ফলাফলে শতভাগ উত্তীর্ণ কলেজের মধ্যে শিক্ষার্থী ও ‘এ’ প্লাস সংখ্যায় কোয়ান্টাম কসমো কলেজের অবস্থান জেলায় শীর্ষে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার সরকারী মাতামুহুরী কলেজ থেকে একই পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৫৫জন। এর মধ্যে পাশ করে মাত্র ২৭৮জন। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পায় ৫জন, পাশের হার ৩৬.৮২ । চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পরীক্ষা দেয় ৪৯জন, এর মধ্যে পাশ করে ৬জন, পাশের হার ১২.৭৭। হেফাজতুর রহমান কলেজ থেকে পর এতে পাশের হার শরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২৪জন শিক্ষার্থী, পাশ করে ১১জন, পাশের হার ৪৬.০০। লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৭জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৬জন, পাশের হার ৩৫.২৯।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কলেজের হোস্টেলে ছিলাম। আমাদের শিক্ষকরা যে পরিমাণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সার্বক্ষনিক মনিটরিং এ রেখেছেন তাতে ভালো ফলাফল না করে উপায় নেই। তাই সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

দিক-নির্দেশনা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ক্লাশ পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রদান এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ-এ ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ।
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানায়, সর্বোচ্চ এ প্লাস ও শতভাগ পাশের হারে শীর্ষ স্থান অর্জন করে লামা উপজেলার ভারমূর্তি উজ্জ্বল করেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। কলেজগুলোর এ র‌্যাংকিং করা হয় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জিপিএ-৫ ও পাশের হারের ভিত্তিতে।