স্টিয়ারিং হাতে স্বাবলম্বিতার স্বপ্ন
দক্ষ চালক হতে সাতকানিয়া কার ট্রেনিং সেন্টারে বাড়ছে আগ্রহ
আধুনিক কর্মবাজারে বাড়ছে দক্ষতার গুরুত্ব। শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন এখন অনেকের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। বিশেষ করে দেশে ও বিদেশে গাড়ি চালনার দক্ষতার চাহিদা থাকায় সাতকানিয়ায় ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এই আগ্রহীদের বেসিক থেকে এডভান্স পর্যায় পর্যন্ত হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ চালক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সাতকানিয়া কার ট্রেনিং সেন্টার।
বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া তরুণদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে গাড়ি চালানো শিখতে আগ্রহীরাও প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণার্থীদের ভাষ্য, শুধু গাড়ি চালানোর প্রাথমিক কৌশল নয়, ধাপে ধাপে বাস্তব পরিস্থিতিতে গাড়ি নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন বিষয় শেখানো হওয়ায় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেকেই গাড়ি চালানো শেখার অর্থ কেবল স্টিয়ারিং ঘোরানো বা গাড়ি সামনে-পেছনে নেওয়াকে বোঝেন। কিন্তু বাস্তব সড়কে গাড়ি চালানোর জন্য প্রয়োজন গাড়ির ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা, সড়কের পরিস্থিতি বোঝা এবং নিরাপদভাবে গাড়ি পরিচালনার দক্ষতা।
এই বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে সাতকানিয়া কার ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণার্থীদের ধাপে ধাপে শেখানো হচ্ছে গাড়ি চালনার বিভিন্ন কৌশল। একেবারে নতুনদের জন্য শুরুতে গাড়ির মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। এরপর ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গাড়ি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত করে তোলা হয়।
প্রশিক্ষণের আওতায় গাড়ি স্টার্ট ও বন্ধ করা, স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণ, ক্লাচ-ব্রেক-অ্যাক্সিলারেটরের ব্যবহার, গিয়ার পরিবর্তন, সামনে ও পেছনে গাড়ি চালানো, ব্যাক গিয়ার, গাড়ি ঘোরানো, বিভিন্ন ধরনের পার্কিং এবং সংকীর্ণ জায়গায় গাড়ি নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো শেখানো হচ্ছে।
প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষতা ও শেখার অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ধাপে বাস্তব সড়কে গাড়ি পরিচালনার কৌশল সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। বিশেষ করে দেশের ব্যস্ত সড়কে চলাচলের সময় কীভাবে সতর্ক থাকতে হবে, অন্য যানবাহনের সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, মোড় ও ইউটার্নে করণীয় এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বিষয়ে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন প্রশিক্ষণার্থীরা।
বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন অনেকের কাছেই গাড়ি চালনা এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবহারিক দক্ষতা। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিবহন ও সেবা খাতের নানা ধরনের কাজে ড্রাইভিং দক্ষতার প্রয়োজন হয়। আবার মূল পেশা ভিন্ন হলেও গাড়ি চালাতে জানলে অনেকের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাড়তি সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ কারণে বিদেশে যাওয়ার আগে ড্রাইভিং শেখার আগ্রহ নিয়ে সাতকানিয়া কার ট্রেনিং সেন্টারে আসছেন অনেকে। তাদের প্রয়োজন বিবেচনায় ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমান সময়ে একটি বাড়তি ব্যবহারিক দক্ষতা অনেকের কর্মজীবনে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ড্রাইভিং জানলে ব্যক্তিগত গাড়িচালক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট কাজে দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ থাকে। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকলে ড্রাইভিং দক্ষতা বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
প্রশিক্ষণার্থীদের অনেকে মনে করছেন, গাড়ি চালনা শেখার মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য একটি কার্যকর দক্ষতা অর্জন করছেন তারা। কেউ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে, কেউ ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের চিন্তায়, আবার কেউ বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
প্রশিক্ষণ নেওয়া এক ব্যক্তি বলেন, “বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাই যাওয়ার আগে একটি ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করতে চেয়েছি। এখানে এসে একেবারে শুরু থেকে ধাপে ধাপে শেখার সুযোগ পাচ্ছি। আগে গাড়ি চালানোর ব্যাপারে ভয় ছিল, এখন নিয়মিত প্রশিক্ষণের কারণে আত্মবিশ্বাস বাড়ছে।”
আরেক প্রশিক্ষণার্থী বলেন, “ইউটিউব বা অন্য জায়গায় দেখে গাড়ি চালানোর কিছু বিষয় বোঝা যায়, কিন্তু বাস্তবে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ শেখার জন্য প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধান দরকার। এখানে ভুল করলে সঙ্গে সঙ্গে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এতে ভুলগুলো শুধরে নেওয়া সহজ হচ্ছে।”
বাংলাদেশের সড়কে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে চালকদের নানা বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। ব্যস্ত সড়ক, বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের উপস্থিতি, পথচারীদের চলাচল এবং হঠাৎ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিরাপদভাবে গাড়ি নিয়ন্ত্রণে চালকের দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সাতকানিয়া কার ট্রেডিং সেন্টারে প্রশিক্ষণার্থীদের দেশের সড়ক বাস্তবতার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। গাড়ি চালানোর সময় আশপাশের পরিস্থিতির প্রতি সতর্ক থাকা, ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা এবং নিজের ও অন্যের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু দ্রুত গাড়ি চালাতে পারা দক্ষতার পরিচয় নয়; বরং নিয়ন্ত্রিত ও দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি পরিচালনা করতে পারাই একজন ভালো চালকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশিক্ষণ নেওয়া কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই আগে কখনো গাড়ির চালকের আসনে বসেননি। ফলে প্রথমদিকে গাড়ি চালানো নিয়ে তাদের মধ্যে ভয় ও অস্বস্তি কাজ করত। তবে প্রশিক্ষকের নির্দেশনা অনুযায়ী বারবার অনুশীলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সেই ভয় কাটিয়ে উঠছেন তারা।
এক প্রশিক্ষণার্থী বলেন, “প্রথম দিন গাড়িতে বসে মনে হয়েছিল আমি পারব না। বিশেষ করে ক্লাচ ও ব্রেক ব্যবহারের সময় বেশ ভয় লাগত। কিন্তু প্রশিক্ষক ধৈর্য ধরে বারবার বুঝিয়ে দিয়েছেন। এখন নিজে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারছি। সবচেয়ে বড় কথা, আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।”
আরেকজন বলেন, “আগে মনে করতাম গাড়ি চালানো খুব কঠিন। কিন্তু সঠিকভাবে ধাপে ধাপে শেখানো হলে বিষয়টি সহজ হয়ে যায়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এখন গাড়ির বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা হয়েছে।”
প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ বলছে, একজন প্রশিক্ষণার্থীর জন্য প্রশিক্ষণ পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কেউ গাড়ি চালানো শিখতে গেলে ভুল করার আশঙ্কা থাকেই। তাই ধৈর্য ধরে ভুলগুলো সংশোধন করে আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে হয়।
সাতকানিয়া কার ট্রেনিং সেন্টারে অভিজ্ঞ ট্রেইনারদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণার্থীর শেখার সক্ষমতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে গাড়ি চালনার কৌশল শেখানোর চেষ্টা করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জায়েদ হোসেন বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য শুধু কাউকে গাড়ি চালানো শেখানো নয়; একজন প্রশিক্ষণার্থী যেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এবং দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালাতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। একেবারে যারা কখনো গাড়ি চালাননি, তাদেরও বেসিক থেকে ধাপে ধাপে শেখানো হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে ড্রাইভিং একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক দক্ষতা। বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন অনেকেই এই দক্ষতা অর্জন করতে চান। আবার দেশের ভেতরেও ব্যক্তিগত, পেশাগত ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে দক্ষ চালকের প্রয়োজন রয়েছে। তাই আমরা প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে শুধু তাত্ত্বিক বিষয় নয়, ব্যবহারিক শেখার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।”
পরিচালক আরও বলেন, “আমাদের কাছে যারা প্রশিক্ষণ নিতে আসেন, তাদের অনেকের মধ্যেই শুরুতে ভয় থাকে। আমরা চেষ্টা করি প্রশিক্ষকের মাধ্যমে সেই ভয় কাটিয়ে তুলতে। ধাপে ধাপে অনুশীলনের মাধ্যমে একজন প্রশিক্ষণার্থী যখন নিজে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তখন তার আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়। এই পরিবর্তনটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন।”
বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “অনেক তরুণ বিদেশে যাওয়ার আগে ড্রাইভিং শিখতে আগ্রহী। তাদের উদ্দেশ্য থাকে একটি বাড়তি দক্ষতা অর্জন করা। আমরা তাদের প্রয়োজন বিবেচনায় প্র্যাকটিক্যাল ড্রাইভিংয়ের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি, যাতে তারা গাড়ি চালনার মৌলিক ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা নিয়ে এগোতে পারেন।”











