শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গড়তে লোহাগাড়া সদরে চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান আবদুস সামাদ আজাদ

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গড়তে লোহাগাড়া সদরে চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান আবদুস সামাদ আজাদ

রায়হান সিকদার, লোহাগাড়াঃ

আসন্ন লোহাগাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ক্রমেই বাড়ছে আলোচনা। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ, মতবিনিময় ও জনসংযোগ। এ প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ৬-নং লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সৌদি আরব প্রবাসী কমিনিউটির সর্বজন সু-পরিচিত ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব আবদুস সামাদ আজাদকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতি ও সমাজের সর্বত্র একটি অংশে ইতিবাচক আলোচনায় রয়েছে বলে দাবি করেছেন তার এলাকাবাসী।।

বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সৌদি আরব প্রবাসী কমিনিউটি সুপরিচিত জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব আবদুস সামাদ আজাদ ৬-নং লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের (৮-নং ওয়ার্ড়) মজিদার পাড়ার মরহুম মুহাম্মদ খুলুমিয়ার সুযোগ্য পুত্র।

স্নাতক শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পূর্ণ ও নিবেদিত একজন সমাজকর্মী আলহাজ্ব আবদুস সামাদ আজাদ। তিনি মজিদার পাড়া সমাজ উন্নয়ন কমিটি প্রধান সমন্বয়ক, কর্ণফুলী টাওয়ার-চট্টগ্রামের সভাপতি ও লোহাগাড়া সমিতি-চট্টগ্রাম এর প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক। এছাড়াও লোহাগাড়া ফোর এইচ ক্লাব, একুশে পরিবার লোহাগাড়া সাবেক সভাপতি ছিলেন।
এদিকে প্রবাসে কমিনিউটিদের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মধ্যে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন সৌদি আরব শাখা, মদিনা প্রবাসী ফোরাম, মদিনা বাংলাভিশন দর্শক ফোরাম, সিপ্লাস টিভি দর্শক ফোরাম, চুনতি সিরাতুন্নবী (সঃ) মাহফিল পরিচালনা কমিটি মদিনা মনোয়ারা শাখা সভাপতি ও সাতকানিয়া লোহাগাড়া বিজনেস ফোরামের আহবায়ক এবং সাকানিয়া-লোহাগড়া ঐক্য পরিষদ, লোহাগাড়া প্রবাসী সমিতি-সৌদিআরব উপদেষ্টা ও গারাংগিয়া আলীয়া মাদ্রাসা তোলাবায়ে সাবেকিন প্রবাসী কমিটি সিনিয়র সহ-সভাপতি দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসীর পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য,দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে কমিনিউটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নিজ এলাকার সামাজিক সংগঠন ও সমাজ এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সম্পৃক্ত থাকার কারণে সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তুলেছেন আলহাজ্ব আবদুস সামাদ আজাদ। ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তিনি অনেকের কাছে পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছেন।

৬-নং লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার সচেতন মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এমন একজন জনপ্রতিনিধি প্রত্যাশা করেন, যিনি নির্বাচনের সময় নয়, সারা বছর মানুষের পাশে থাকবেন এবং নাগরিক সমস্যার কার্যকর সমাধানে আন্তরিক ভূমিকা পালন করবেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন, আলহাজ্ব আবদুস সামাদ আজাদ সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হতে পারেন।

ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সচেতন মহল বলেন, প্রবাসে কমিনিউটি সংগঠন-সহ এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে আলহাজ্ব আবদুস সামাদ আজাদ’র সক্রিয়তা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ তাকে একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তাদের দাবি, মানুষের ভালোবাসা পেলে তিনি নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।

অন্যদিকে স্থানীয় এলাকার একাংশের মতে, লোহাগাড়া সদর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় ইউনিয়নের নেতৃত্বে এমন একজন জনপ্রতিনিধি প্রয়োজন, যিনি ব্যবসায়ী সমাজ, নাগরিক সেবা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি করতে পারবেন। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের নেতৃত্বের প্রত্যাশা থেকেই তারা বিভিন্ন সম্ভাব্য প্রার্থীকে মূল্যায়ন করছেন।

ভোটারদের চূড়ান্ত মতামতই নির্ধারণ করবে আগামী নেতৃত্ব।লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের বেশকয়েকজন ভোটার বলেন, লোহাগাড়া সদরের উন্নয়ন, নাগরিক সুবিধার সম্প্রসারণ, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পরিবেশ এবং সেবার মান বৃদ্ধির জন্য মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসই সবচেয়ে বড় শক্তি।”

এ বিষয়ে আলহাজ্ব আবদুস সামাদ আজাদ বলেন, সামাজিক সংগঠন ও প্রবাসী কমিনিউটি আমার কাছে ক্ষমতার নয়, মানুষের সেবার একটি মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এলাকার জনগণ যদি আমার ওপর আস্থা রাখেন এবং দায়িত্ব অর্পণ করেন, তাহলে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও নাগরিকবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করব।

রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনসংযোগ, দলীয় সিদ্ধান্ত, নির্বাচনী কৌশল এবং ভোটারদের চূড়ান্ত মতামতই নির্ধারণ করবে লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের আগামী নেতৃত্ব। তাই নির্বাচনের আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের সুযোগও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কালুরঘাটের কণ্ঠ থেকে ডাকটিকিটের খাম

বাংলার পত্রিকা প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২২ এম
কালুরঘাটের কণ্ঠ থেকে ডাকটিকিটের খাম

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর। রাত তখনো ফুরোয়নি। ঢাকার আকাশে গুলির শব্দ। ঘুমহীন নগরবাসী রেডিওর দিকে কান পেতে আছে।

হঠাৎ রেডিও বাংলাদেশের ঢাকা কেন্দ্র থেকে ঘোষকের কণ্ঠে স্লোগান ভেসে এল: “সিপাহি বিপ্লব জিন্দাবাদ।” পরদিন দৈনিক ইত্তেফাক সেই সকালের ঢাকাকে বর্ণনা করেছিল “প্রাণবন্যার উচ্ছল নগরী” হিসেবে।

৫১ বছর পর আজ সেই দিন। তবে এবারের ৭ নভেম্বর আগের অনেক বছরের মতো নয়। দিনটি আবার সরকারি ক্যালেন্ডারে ছুটির দিন হিসেবে ফিরেছে।

চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৭ নভেম্বরকে আবার ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন এবং দিনটিকে ‘ক-শ্রেণি’ভুক্ত দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটি পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি তখন জানান, গত ১৬ বছর দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়নি; এখন থেকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের পাশাপাশি এদিন ছুটি থাকবে।

অর্থাৎ দেড় যুগ পর এটাই প্রথম ৭ নভেম্বর, যেদিন অফিস-আদালত বন্ধ রেখে রাষ্ট্র নিজেই দিনটি পালন করছে। আর ১৯৭৫ সালের সেই ভোরে যাঁর মুক্তির খবর বেতারে এসেছিল, সেই জিয়াউর রহমানের ছেলে এবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দিনটির মুখোমুখি।

চট্টগ্রামের কানে চেনা কণ্ঠ

চট্টগ্রামের মানুষের কাছে এই দিনের একটা আলাদা প্রতিধ্বনি আছে। একাত্তরের মার্চে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। সেই কণ্ঠ প্রথম ছড়িয়েছিল এই শহর থেকেই।

সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় পর, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, দেশ আবার বেতারে শোনে সেই কণ্ঠ: “আমি জিয়া বলছি।” এবার ঢাকা থেকে। ভাষণে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কঠোর পরিশ্রমের আহ্বান জানান।

আবার এই চট্টগ্রামেই, সার্কিট হাউসে, ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় নিহত হন জিয়াউর রহমান। এক শহরে শুরু, আরেক শহরে মোড় বদল, আবার এই শহরেই শেষ। চট্টগ্রামের ইতিহাসে তাই দিনটির ভার একটু বেশি।

পত্রিকার পাতায় সেদিনের সকাল

৮ নভেম্বরের পত্রিকাগুলো পড়লে বোঝা যায়, ঢাকার রাস্তায় সেদিন কী ঘটেছিল। দৈনিক সংবাদ লিখেছিল, রাত প্রায় দুটোয় বেতারে ঘোষণা আসার পরপরই রাজপথে নেমেছিল মানুষ। ট্যাংকের কামানের নলে মালা পরানো হয়েছিল, সৈনিকদের মুখে মিষ্টি তুলে দিয়েছিল পাড়ার মানুষ।

দৈনিক বাংলা জানিয়েছিল, রায়েরবাজার, জিগাতলা, ধানমন্ডি থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ভোর থেকেই লোকে লোকারণ্য। বেলা দুটোর দিকে জিয়ার আহ্বানে সৈনিকেরা ছাউনিতে ফিরে যান, কিন্তু রাস্তায় মিছিল থামেনি।

ছোট একটা তথ্য অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। সেদিনের বাংলাদেশ অবজারভারের প্রথম পাতার শিরোনাম ছিল, রাষ্ট্রপতি সায়েম প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হয়েছেন এবং তিন বাহিনীর প্রধান উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। জিয়া তখন সেনাপ্রধান। রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে তাঁর পুরোপুরি আসা আরও পরের কথা।

এবারের দিনে নতুন কী

এবার দিনটি ঘিরে প্রথমবারের মতো স্মারক ডাকটিকিট এসেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এ বছর ৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট, ১০ টাকার একটি উদ্বোধনী খাম এবং ৫ টাকার একটি ডেটা কার্ড অবমুক্ত করেছেন। ডাক বিভাগের প্রকাশিত এই ডাকটিকিট দেশের সব ডাকঘরে বিক্রি হবে।

যে দিনের খবর একসময় বেতারতরঙ্গে ছড়িয়েছিল, সেই দিন এখন খামের কোণে চড়ে ঘুরবে ডাকঘর থেকে ডাকঘরে। চট্টগ্রামের ডাকঘরগুলোও তার বাইরে নয়।

ঢাকায় আজ বিএনপির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। দলীয় সূত্রের বরাতে আগেই জানানো হয়েছিল, এই কর্মসূচিতে নিজে পায়ে হেঁটে অংশ নিয়ে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী একটি প্রবাদ মনে করিয়ে দিয়েছেন: অতীত আঁকড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীত ভুলে গেলে দুই চোখই। তাঁর কথায়, সারাক্ষণ ইতিহাসচর্চায় ডুবে থাকা যেমন ঠিক নয়, তেমনি ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়াও ভুল। বাণীর শেষে তিনি স্লোগান তুলেছেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বাণীতে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্নীতি, বৈষম্য ও ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র চলবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনে।

ইতিহাসের এই দিনটি নিয়ে অবশ্য দেশে এক সুরে কথা হয়নি কখনো। দিনটিকে বিএনপি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’, জাসদ ‘সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ এবং আওয়ামী লীগ ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে। সেদিনের অস্থিরতায় খালেদ মোশাররফসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। পরে সামরিক আদালতের বিচারে কর্নেল তাহেরের ফাঁসি হয়। সেই বিতর্ক ইতিহাসের পাতায় রয়ে গেছে।

তবু ১৯৭৫ সালের সেই ভোর আর ২০২৬ সালের এই সকালের মধ্যে একটা মিল চোখে পড়ে। সেদিনও মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, আজও নামবে। সেদিন খবর এসেছিল বেতারে, আজ আসবে খামে। একান্ন বছরে মাধ্যম বদলেছে, তারিখটা বদলায়নি।

পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, আবার পুলিশের কাছেই তদবির!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, আবার পুলিশের কাছেই তদবির!

‘বাংলাদেশের ট্রাফিক সিস্টেম, নেতা আর ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি’—এমন শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন সাবেক এক এনসিপি নেতা। আর সেই ভিডিও নিজ ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রশক্তির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মো. সাঈদ হোসেন মানিক। ভিডিওতে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ধরলেও বাস্তবে নিজেই ট্রাফিক পুলিশের কাছে মোটরসাইকেল ছাড়াতে তদবির করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি সংশ্লিষ্ট চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় মামলা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি সমন্বয়ক পরিচয় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সাতকানিয়ার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা কেরানীহাটে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করছিল ট্রাফিক পুলিশ। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল আটক করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে সেখানে যান ছাত্রশক্তি নেতা মো. সাঈদ হোসেন মানিক। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একটি মোটরসাইকেল ছাড়িয়ে দিতে ট্রাফিক পুলিশের কাছে তদবির করেন।

তবে ট্রাফিক ইনচার্জ মো. মাহবুব তাকে জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বৈধ ডকুমেন্টস থাকলে মোটরসাইকেল ছেড়ে দেওয়া হবে। পরে সংশ্লিষ্ট চালক মোটরসাইকেলের কাগজপত্র নিয়ে এলেও তার কাছে ছিল না ড্রাইভিং লাইসেন্স। এ কারণে ট্রাফিক পুলিশ মামলা দেওয়ার উদ্যোগ নিলে সেখানে সমন্বয়ক পরিচয় দেন সাঈদ হোসেন মানিক। অভিযোগ রয়েছে, নিজের পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত মোটরসাইকেলটি ছাড়িয়ে নেন তিনি।

ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হন এ প্রতিবেদক। এ সময় কেরানীহাট পুলিশ বক্সের সামনে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সাঈদ হোসেন মানিক কোনো কথা বলেননি। তবে তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন যুবক এ প্রতিবেদককে পুলিশের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করেন।

পরে কেরানীহাট পুলিশ বক্সের ট্রাফিক ইনচার্জ মো. মাহবুবের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বিব্রতবোধ করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আসলে কী আর বলব ভাই। সে সমন্বয়ক পরিচয় দিল, আমার তো কিছু করার নেই।’

লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর আইনি বিধান কী?

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষানবিশ লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যক্তি জনসাধারণের চলাচলের স্থানে মোটরযান চালাতে পারেন না। আইনের ৪ ধারায় এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অন্যদিকে ৬৬ ধারায় এ বিধান লঙ্ঘনের অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ মোটরসাইকেলের নিবন্ধনসহ অন্যান্য কাগজপত্র ঠিক থাকলেও চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে সেটি আলাদা আইনগত অপরাধ। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চালকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কোনো রাজনৈতিক, সাংগঠনিক কিংবা সমন্বয়ক পরিচয় এ আইনি বাধ্যবাধকতা থেকে কাউকে অব্যাহতি দেয় না।

আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ট্রাফিক পুলিশ কোনো ব্যক্তির পরিচয় বা প্রভাবের কারণে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হলে তা সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তবে ওই মোটরসাইকেল ছাড়ার ক্ষেত্রে কোনো লিখিত নির্দেশ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, আবার পুলিশের কাছেই তদবির!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগসংবলিত ভিডিও শেয়ার করার পর নিজের মোটরসাইকেল ছাড়ানোর তদবিরের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা তথ্য-প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা নাগরিকের অধিকার। কিন্তু একই সঙ্গে নিজের পরিচয় ব্যবহার করে আইন প্রয়োগে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের মতে, ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ বা চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত হওয়া উচিত। একইভাবে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের পরিচয়ে কেউ অবৈধ যানবাহন ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ না হলে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে।

আগেও গণপরিবহনে মব সৃষ্টির অভিযোগ

সাঈদ হোসেন মানিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম থেকে আগত মিনিবাস আটকে চালক ও সহকারীদের হেনস্তা করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কথিত অভিযোগ তুলে এসব যানবাহনে উঠে চালক ও সহকারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। কখনো জনসমাগম তৈরি করে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে।

যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষ, বিআরটিএ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিগত উদ্যোগে গাড়ি আটকে কাউকে হেনস্তা করা কিংবা জনসমাগম তৈরি করে চাপ প্রয়োগ করা কোনোভাবেই আইনসম্মত প্রতিকার পদ্ধতি নয়।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময় সাতকানিয়া থানার সামনে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে থানার সামনে ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালন না করার অভিযোগ তুলতে দেখা যায় তাকে।

পুলিশের মনোবল ও আইন প্রয়োগের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। পুলিশের ওপর হামলা, আসামি ছিনিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে মব সৃষ্টির ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনের পরিবেশকে কঠিন করে তুলেছে।

এমন পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরিচয় ও প্রভাবের কারণে আইন প্রয়োগে বাধার মুখে পড়েন, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের সমান প্রয়োগ নিয়ে অনাস্থা তৈরি হতে পারে।

সচেতন মহলের মতে, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশের কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ, ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের পরিচয় যেন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার হাতিয়ার না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের কাছে পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এবং সমন্বয়ক পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশ আগের চেয়ে অনেক বেশি কাজ করছে। কে কী বলছে, সেটা আমাদের দেখার বিষয় না।’

এদিকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রশক্তির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মো. সাঈদ হোসেন মানিকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইরানের শান্তি প্রস্তাবের পর কাতারের আমিরকে ট্রাম্পের ফোন

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
ইরানের শান্তি প্রস্তাবের পর কাতারের আমিরকে ট্রাম্পের ফোন

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে।

এরই মধ্যে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিকে ফোন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফোনালাপে ইরান যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই নেতা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপের তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। কাতারের আমিরের দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং যুদ্ধ বন্ধে কাতারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে কথা হয়েছে।

এ সময় আমির শেখ তামিম সংলাপ অব্যাহত রাখা, বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি এড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান।

প্রস্তাবটিতে সাতটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। এসব শর্ত পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না ইরান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের পাঠানো প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে প্রস্তাবের সাতটি শর্ত কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

অন্যদিকে, যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে ইরানের বাকি অংশও ধ্বংস করে দিতে হতে পারে। এ বিষয়ে শিগগিরই জানা যাবে।

ইরানের নতুন পারমাণবিক প্রস্তাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের অনুমোদন ছাড়া তারা কিছুই করতে পারবে না।’

একদিকে ইরানের শর্তসাপেক্ষ প্রস্তাব, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।