শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

বান্দরবানকে আরও সুন্দর করতে সম্মিলিত উদ্যোগের তাগিদ: সাচিং প্রু জেরী

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৪ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বান্দরবানকে আরও সুন্দর করতে সম্মিলিত উদ্যোগের তাগিদ: সাচিং প্রু জেরী

মঈন উদ্দীন,বান্দরবান

বান্দরবান ৩০০নং আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী বলেছেন, পর্যটন নগরী বান্দরবানকে সুন্দরভাবে সাজাতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। পার্বত্য জেলা বান্দরবানের ভৌগলিক বৈচিত্র্য আর সংস্কৃতিসহ পর্যটনের অপার সম্ভাবনা থাকায় প্রতিদিনই দেশী বিদেশী প্রচুর পর্যটক বান্দরবানে আগমন করছে আর তাদের কাছে বান্দরবানকে আরো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে আমাদের পরিকল্পিতভাবে কাজ করা ও চারপাশে পরিস্কার পরিছন্ন রাখতে হবে।

শনিবার (১৫ আগষ্ট) সকালে বান্দরবানের বাসস্টেশান এলাকায় স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এবং গ্রাম উন্নয়ন সংগঠন (গ্রাউস) এর বাস্তবায়নে বান্দরবানের বিভিন্ন ঝিড়ি পরিস্কার পরিছন্নতা অভিযানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বান্দরবান ৩০০ নং আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এমন মন্তব্য করেন।

এসময় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী আরো বলেন, বান্দরবান একটি পর্যটন জেলা, এই পর্যটন জেলায় প্রতিটি হোটেল-মোটেল,পর্যটকবাহী যানবাহনসহ সকল পর্যটন নির্ভর ব্যবসাকে আরো সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে হবে, বিশেষ করে পর্যটকরা যাতে পরিস্কার পরিছন্নভাবে পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমন করতে পারে আর হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাতে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ করতে পারে সেজন্য পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকলকে আরো দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে। এসময় বান্দরবান ৩০০ নং আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী প্রতিটি সংস্থা ও উদ্যোক্তাদের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতায় মনোনিবেশ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

পরে সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী বাসস্টেশান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ঝিড়ি থেকে সাংগু নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পরিস্কার পরিছন্নতা অভিযানের শুভ উদ্বোধন করেন।

বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো.আবদুল কুদ্দুছ, প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর বান্দরবান অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার আশীষ কুমার হালদার, গ্রাম উন্নয়ন সংগঠন (গ্রাউস) এর উপ-নির্বাহী পরিচালক চিন্ময় ম্রো, প্রোগ্রাম ম্যানেজার টুলু মারমা, প্রোগ্রাম অফিসার সোনিয়া আফরোজ, পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা করুণা কান্তি বড়–য়া এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে উপলক্ষে চিম্বুক সড়কে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে নামলেন পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে উপলক্ষে চিম্বুক সড়কে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে নামলেন পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু

আবুবকর ছিদ্দিক

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এবং প্রতি শনিবার দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বান্দরবানের চিম্বুক রেঞ্জে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এমপির তত্ত্বাবধানে শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান-থানচি সড়কের চিম্বুক রেঞ্জের প্রায় ২৭ কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

সকালে চিম্বুক সড়কের বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীরা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। সড়কের পাশে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, জমে থাকা জঙ্গল ও আগাছা পরিষ্কার এবং বিভিন্ন স্থানে ড্রেন ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করার কাজ করেন তাঁরা। এ সময় সড়কের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সচেতন করা হয়।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেতৃত্ব দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এমপি। এ সময় জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান চলাকালে মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় প্রতি শনিবার দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের দিন বান্দরবানের গুরুত্বপূর্ণ চিম্বুক সড়কের ২৭ কিলোমিটার এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু রাস্তা পরিষ্কার করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে নিজের এলাকা, সড়ক ও পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, পাহাড়ি জেলা বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। সড়কের পাশে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলা এবং নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

স্থানীয়দের মতে, বান্দরবান-থানচি সড়কের চিম্বুক অংশটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও পর্যটনসমৃদ্ধ সড়ক। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতায়াত করেন। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকলে পরিবেশের পাশাপাশি পর্যটন এলাকার সৌন্দর্যও নষ্ট হয়। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হলে চিম্বুক সড়কের পরিবেশ আরও সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আয়োজিত এ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ ও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকেরা।
অভিযানে জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তাঁরা চিম্বুক রেঞ্জের সড়কের বিভিন্ন অংশে দলবদ্ধভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

কালুরঘাটের কণ্ঠ থেকে ডাকটিকিটের খাম

বাংলার পত্রিকা প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২২ এম
কালুরঘাটের কণ্ঠ থেকে ডাকটিকিটের খাম

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর। রাত তখনো ফুরোয়নি। ঢাকার আকাশে গুলির শব্দ। ঘুমহীন নগরবাসী রেডিওর দিকে কান পেতে আছে।

হঠাৎ রেডিও বাংলাদেশের ঢাকা কেন্দ্র থেকে ঘোষকের কণ্ঠে স্লোগান ভেসে এল: “সিপাহি বিপ্লব জিন্দাবাদ।” পরদিন দৈনিক ইত্তেফাক সেই সকালের ঢাকাকে বর্ণনা করেছিল “প্রাণবন্যার উচ্ছল নগরী” হিসেবে।

৫১ বছর পর আজ সেই দিন। তবে এবারের ৭ নভেম্বর আগের অনেক বছরের মতো নয়। দিনটি আবার সরকারি ক্যালেন্ডারে ছুটির দিন হিসেবে ফিরেছে।

চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৭ নভেম্বরকে আবার ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন এবং দিনটিকে ‘ক-শ্রেণি’ভুক্ত দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটি পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি তখন জানান, গত ১৬ বছর দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়নি; এখন থেকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের পাশাপাশি এদিন ছুটি থাকবে।

অর্থাৎ দেড় যুগ পর এটাই প্রথম ৭ নভেম্বর, যেদিন অফিস-আদালত বন্ধ রেখে রাষ্ট্র নিজেই দিনটি পালন করছে। আর ১৯৭৫ সালের সেই ভোরে যাঁর মুক্তির খবর বেতারে এসেছিল, সেই জিয়াউর রহমানের ছেলে এবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দিনটির মুখোমুখি।

চট্টগ্রামের কানে চেনা কণ্ঠ

চট্টগ্রামের মানুষের কাছে এই দিনের একটা আলাদা প্রতিধ্বনি আছে। একাত্তরের মার্চে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। সেই কণ্ঠ প্রথম ছড়িয়েছিল এই শহর থেকেই।

সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় পর, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, দেশ আবার বেতারে শোনে সেই কণ্ঠ: “আমি জিয়া বলছি।” এবার ঢাকা থেকে। ভাষণে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কঠোর পরিশ্রমের আহ্বান জানান।

আবার এই চট্টগ্রামেই, সার্কিট হাউসে, ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় নিহত হন জিয়াউর রহমান। এক শহরে শুরু, আরেক শহরে মোড় বদল, আবার এই শহরেই শেষ। চট্টগ্রামের ইতিহাসে তাই দিনটির ভার একটু বেশি।

পত্রিকার পাতায় সেদিনের সকাল

৮ নভেম্বরের পত্রিকাগুলো পড়লে বোঝা যায়, ঢাকার রাস্তায় সেদিন কী ঘটেছিল। দৈনিক সংবাদ লিখেছিল, রাত প্রায় দুটোয় বেতারে ঘোষণা আসার পরপরই রাজপথে নেমেছিল মানুষ। ট্যাংকের কামানের নলে মালা পরানো হয়েছিল, সৈনিকদের মুখে মিষ্টি তুলে দিয়েছিল পাড়ার মানুষ।

দৈনিক বাংলা জানিয়েছিল, রায়েরবাজার, জিগাতলা, ধানমন্ডি থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ভোর থেকেই লোকে লোকারণ্য। বেলা দুটোর দিকে জিয়ার আহ্বানে সৈনিকেরা ছাউনিতে ফিরে যান, কিন্তু রাস্তায় মিছিল থামেনি।

ছোট একটা তথ্য অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। সেদিনের বাংলাদেশ অবজারভারের প্রথম পাতার শিরোনাম ছিল, রাষ্ট্রপতি সায়েম প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হয়েছেন এবং তিন বাহিনীর প্রধান উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। জিয়া তখন সেনাপ্রধান। রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে তাঁর পুরোপুরি আসা আরও পরের কথা।

এবারের দিনে নতুন কী

এবার দিনটি ঘিরে প্রথমবারের মতো স্মারক ডাকটিকিট এসেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এ বছর ৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট, ১০ টাকার একটি উদ্বোধনী খাম এবং ৫ টাকার একটি ডেটা কার্ড অবমুক্ত করেছেন। ডাক বিভাগের প্রকাশিত এই ডাকটিকিট দেশের সব ডাকঘরে বিক্রি হবে।

যে দিনের খবর একসময় বেতারতরঙ্গে ছড়িয়েছিল, সেই দিন এখন খামের কোণে চড়ে ঘুরবে ডাকঘর থেকে ডাকঘরে। চট্টগ্রামের ডাকঘরগুলোও তার বাইরে নয়।

ঢাকায় আজ বিএনপির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। দলীয় সূত্রের বরাতে আগেই জানানো হয়েছিল, এই কর্মসূচিতে নিজে পায়ে হেঁটে অংশ নিয়ে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী একটি প্রবাদ মনে করিয়ে দিয়েছেন: অতীত আঁকড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীত ভুলে গেলে দুই চোখই। তাঁর কথায়, সারাক্ষণ ইতিহাসচর্চায় ডুবে থাকা যেমন ঠিক নয়, তেমনি ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়াও ভুল। বাণীর শেষে তিনি স্লোগান তুলেছেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বাণীতে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্নীতি, বৈষম্য ও ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র চলবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনে।

ইতিহাসের এই দিনটি নিয়ে অবশ্য দেশে এক সুরে কথা হয়নি কখনো। দিনটিকে বিএনপি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’, জাসদ ‘সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ এবং আওয়ামী লীগ ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে। সেদিনের অস্থিরতায় খালেদ মোশাররফসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। পরে সামরিক আদালতের বিচারে কর্নেল তাহেরের ফাঁসি হয়। সেই বিতর্ক ইতিহাসের পাতায় রয়ে গেছে।

তবু ১৯৭৫ সালের সেই ভোর আর ২০২৬ সালের এই সকালের মধ্যে একটা মিল চোখে পড়ে। সেদিনও মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, আজও নামবে। সেদিন খবর এসেছিল বেতারে, আজ আসবে খামে। একান্ন বছরে মাধ্যম বদলেছে, তারিখটা বদলায়নি।

পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, আবার পুলিশের কাছেই তদবির!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, আবার পুলিশের কাছেই তদবির!

‘বাংলাদেশের ট্রাফিক সিস্টেম, নেতা আর ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি’—এমন শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন সাবেক এক এনসিপি নেতা। আর সেই ভিডিও নিজ ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রশক্তির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মো. সাঈদ হোসেন মানিক। ভিডিওতে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ধরলেও বাস্তবে নিজেই ট্রাফিক পুলিশের কাছে মোটরসাইকেল ছাড়াতে তদবির করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি সংশ্লিষ্ট চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় মামলা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি সমন্বয়ক পরিচয় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সাতকানিয়ার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা কেরানীহাটে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করছিল ট্রাফিক পুলিশ। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল আটক করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে সেখানে যান ছাত্রশক্তি নেতা মো. সাঈদ হোসেন মানিক। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একটি মোটরসাইকেল ছাড়িয়ে দিতে ট্রাফিক পুলিশের কাছে তদবির করেন।

তবে ট্রাফিক ইনচার্জ মো. মাহবুব তাকে জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বৈধ ডকুমেন্টস থাকলে মোটরসাইকেল ছেড়ে দেওয়া হবে। পরে সংশ্লিষ্ট চালক মোটরসাইকেলের কাগজপত্র নিয়ে এলেও তার কাছে ছিল না ড্রাইভিং লাইসেন্স। এ কারণে ট্রাফিক পুলিশ মামলা দেওয়ার উদ্যোগ নিলে সেখানে সমন্বয়ক পরিচয় দেন সাঈদ হোসেন মানিক। অভিযোগ রয়েছে, নিজের পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত মোটরসাইকেলটি ছাড়িয়ে নেন তিনি।

ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হন এ প্রতিবেদক। এ সময় কেরানীহাট পুলিশ বক্সের সামনে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সাঈদ হোসেন মানিক কোনো কথা বলেননি। তবে তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন যুবক এ প্রতিবেদককে পুলিশের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করেন।

পরে কেরানীহাট পুলিশ বক্সের ট্রাফিক ইনচার্জ মো. মাহবুবের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বিব্রতবোধ করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আসলে কী আর বলব ভাই। সে সমন্বয়ক পরিচয় দিল, আমার তো কিছু করার নেই।’

লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর আইনি বিধান কী?

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষানবিশ লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যক্তি জনসাধারণের চলাচলের স্থানে মোটরযান চালাতে পারেন না। আইনের ৪ ধারায় এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অন্যদিকে ৬৬ ধারায় এ বিধান লঙ্ঘনের অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ মোটরসাইকেলের নিবন্ধনসহ অন্যান্য কাগজপত্র ঠিক থাকলেও চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে সেটি আলাদা আইনগত অপরাধ। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চালকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কোনো রাজনৈতিক, সাংগঠনিক কিংবা সমন্বয়ক পরিচয় এ আইনি বাধ্যবাধকতা থেকে কাউকে অব্যাহতি দেয় না।

আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ট্রাফিক পুলিশ কোনো ব্যক্তির পরিচয় বা প্রভাবের কারণে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হলে তা সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তবে ওই মোটরসাইকেল ছাড়ার ক্ষেত্রে কোনো লিখিত নির্দেশ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, আবার পুলিশের কাছেই তদবির!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগসংবলিত ভিডিও শেয়ার করার পর নিজের মোটরসাইকেল ছাড়ানোর তদবিরের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা তথ্য-প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা নাগরিকের অধিকার। কিন্তু একই সঙ্গে নিজের পরিচয় ব্যবহার করে আইন প্রয়োগে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের মতে, ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ বা চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত হওয়া উচিত। একইভাবে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের পরিচয়ে কেউ অবৈধ যানবাহন ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ না হলে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে।

আগেও গণপরিবহনে মব সৃষ্টির অভিযোগ

সাঈদ হোসেন মানিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম থেকে আগত মিনিবাস আটকে চালক ও সহকারীদের হেনস্তা করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কথিত অভিযোগ তুলে এসব যানবাহনে উঠে চালক ও সহকারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। কখনো জনসমাগম তৈরি করে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে।

যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষ, বিআরটিএ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিগত উদ্যোগে গাড়ি আটকে কাউকে হেনস্তা করা কিংবা জনসমাগম তৈরি করে চাপ প্রয়োগ করা কোনোভাবেই আইনসম্মত প্রতিকার পদ্ধতি নয়।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময় সাতকানিয়া থানার সামনে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে থানার সামনে ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালন না করার অভিযোগ তুলতে দেখা যায় তাকে।

পুলিশের মনোবল ও আইন প্রয়োগের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। পুলিশের ওপর হামলা, আসামি ছিনিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে মব সৃষ্টির ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনের পরিবেশকে কঠিন করে তুলেছে।

এমন পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরিচয় ও প্রভাবের কারণে আইন প্রয়োগে বাধার মুখে পড়েন, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের সমান প্রয়োগ নিয়ে অনাস্থা তৈরি হতে পারে।

সচেতন মহলের মতে, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশের কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ, ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের পরিচয় যেন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার হাতিয়ার না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের কাছে পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এবং সমন্বয়ক পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশ আগের চেয়ে অনেক বেশি কাজ করছে। কে কী বলছে, সেটা আমাদের দেখার বিষয় না।’

এদিকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রশক্তির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মো. সাঈদ হোসেন মানিকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।