জেলা জয়ের গৌরব পেরিয়ে এবার লক্ষ্য জাতীয় মঞ্চে
আবুবকর ছিদ্দিক স্টাফ রিপোর্টারঃ
অদম্য ইচ্ছা, কঠোর পরিশ্রম আর মেধার মেলবন্ধনে জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ। জেলা সেরার মুকুট মাথায় নিয়ে এবার উন্নীত হয়েছে জাতীয় পর্যায়ে যা ২৮ ও ২৯ জুন ২০২৬ তারিখ বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
১৪.৬.২৬ তারিখে সাঙ্গু উচ্চ বিদ্যালয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে জেলা পর্যায়ে আয়োজিত ” “Startup, Science Project and Innovation Idea Showcasing Program”-এ ক্ষুদে বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকেরা তাদের অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রেখে এই গৌরবময় সাফল্য অর্জন করে। প্রজেক্ট এর Project Tri Nexus যার প্রধান তিনটি অংশ ছিলে তা হলো- বান্দরবান ট্যুরিজম অ্যাপস, গ্রাভিটি ব্যাটারি ও ফায়ার ফাইটিং ড্রোন।
বান্দরবান ট্যুরিজম অ্যাপস হলো-বর্তমান বিশ্বে পর্যটন শিল্প একটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা বান্দরবান প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং পর্যাপ্ত গাইডলাইনের অভাবে পর্যটকরা প্রায়ই বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। এই সমস্যা সমাধানে মোবাইল প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছে “বান্দরবান ট্যুরিজম অ্যাপস”। এটি একই সাথে তথ্য, নিরাপত্তা ও সেবার একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।
গ্রাভিটি ব্যাটারি হলো-বর্তমান বিশ্বে বিদ্যুতের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশেও শিল্প, কৃষি, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংরক্ষণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যা সমাধানে “গ্রাভিটি ব্যাটারি” বা মহাকর্ষভিত্তিক শক্তি সংরক্ষণ প্রযুক্তি একটি নতুন ও পরিবেশবান্ধব সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গ্রাভিটি ব্যাটারি এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ভারী বস্তু উপরে তোলা হয় এবং প্রয়োজনের সময় সেই বস্তু নিচে নামার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এটি মূলত পৃথিবীর মহাকর্ষ বলকে কাজে লাগিয়ে শক্তি সংরক্ষণ ও পুনরায় উৎপাদন করে। এই প্রযুক্তিতে রাসায়নিক ব্যাটারির মতো ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করতে হয় না, ফলে এটি পরিবেশের জন্য নিরাপদ।
ফায়ার ফাইটিং ড্রোন হলো-বর্তমান সময়ে অগ্নিকাণ্ড একটি গুরুতর সমস্যা, যা মানুষের জীবন ও সম্পদের জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করে। বিশেষ করে বান্দরবানের মতো পার্বত্য ও দুর্গম এলাকায় আগুন লাগলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং আগুন নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। পাহাড়ি রাস্তা, দুর্গম পরিবেশ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের অনেক সময় মূল্যবান সময় হারাতে হয়। আবার উঁচু ভবন, পাহাড়ের ঢালে নির্মিত স্থাপনা কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। এসব সমস্যা ও ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে আমরা “ফায়ার ফাইটিং ড্রোন” প্রকল্পটি তৈরি করেছে।
এতে অংশ নিয়েছেন দুজন শিক্ষক ও তিনজন শিক্ষার্থীর একটি দল। এ প্রতিযোগিতায়মূলত ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবানের সুযোগ্য জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ সানিউল ফেরদৌস, সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। এতে সাতটি উপজেলার মোট সাতটি প্রজেক্ট প্রদর্শন করা হয়।
এই সাফল্যের জন্য প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, এসপিপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, কমান্ডার, ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও রিজিয়ন কমান্ডার বান্দরবান রিজিয়ন প্রতিযোগীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এই জয়ের আনন্দ কেবল শুরু, এবারের মূল লক্ষ্য এখন জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের নাম আরও উজ্জ্বল করা। এই বিজয়ী দল যেন জাতীয় মঞ্চেও সাফল্যের ধারা বজায় রেখে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব বয়ে আনতে পারে, সেজন্য সকলের কাছে দোয়া ও শুভকামনা প্রত্যাশা করেছে।
উল্লেখ্য, ১২.৬.২৬ তারিখে উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা মিলানায়তনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ১১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে ১৭টি প্রজেক্ট প্রদর্শন করা হয়েছিল। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি।







