পদুয়া ধলিবিলা নয়া পাড়ায় কাঁচা রাস্তার বেহাল দশায়! পায়ে হেঁটে চলাটাও জনদুর্ভোগ চরমে
রায়হান সিকদার,লোহাগাড়া(চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
দেখলেই মনে হবে এটি কোন কাঁচা রাস্তা নয়,কৃষকরা ধান রোপনের জন্য হাল চাষ করেছে। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৮নাম্বার ওয়ার্ডের ধলিবিলা নতুন পাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প সড়কে কোন গাড়ি,সাধারণ জনগণ, পথচারি ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চলাচল করতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। সড়কটি দিয়ে পাঁয়ে হেটে যাওয়া চরম দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এলাকার মানুষের অভিযোগ, তাদের চলাচলে সড়কটি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোন ধরণের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।বৃষ্টি হলেই কাদা-পানিতে এই রাস্তায় চলাচল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৮নাম্বার ওয়ার্ডের ধলিবিলা গ্রাম। এই গ্রামের জনসংখ্যা রয়েছে বেশি। বর্ষাকালে গ্রামের কাঁচা রাস্তাগুলো খানাখন্দ, গর্ত ও কর্দমাক্ত হয়ে যায়। এতে করে দুর্ভোগ পোহাতে হয় জনসাধারণের। আর এসব ব্যপারে নজর নেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও।
দেখলে মনে হবে, এটি রাস্তা নয় ধানের চারা রোপণের জন্য হাল চাষ করা হয়েছে। রাস্তাটির এমনই বেহাল দশা যে কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারে না। এমনকি হেঁটে চলাচলেরও কোন অবস্থা নেই। প্রতিনিয়তই চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় জনসাধারণ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও মুরগির খামারিরাসহ স্থানীয়রা।
এলাকার বাসিন্দা আবদুল কাদের সওদাগর বলেন, আমাদের এই কাঁচা সড়কটি খুব গুরুত্বপুর্ণ। নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা অনেক কিছু আশ্বাস দিলে এরপরে কোন খবর থাকেনা। আমাদের এলাকার মেম্বারের কোন খবর নেই। তিনি বালু তোলার কাজে ব্যস্ত থাকেন।
এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকার লোকজন কৃষক। কৃষি কাজ করে আমরা সবাই জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। এই সড়কটি বৃষ্টি হলে আমাদের ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারেনা। রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় আমাদের এলাকার মানুষের দুর্ভোগ আর কষ্ট যেন শেষ হচ্ছে না।
জানা যায়, শীতকালে কোনোভাবে যাতায়াত করা গেলেও বর্ষায় কেবল পায়ে হেঁটে চলাচল সম্ভব হয়। বৃষ্টি হলেই হাঁটুসমান কাদায় গ্রামের মানুষ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।শত শত মানুষ তাদের জমির ফসল রোপন করে থাকে। কিন্তু রাস্তাটির বেহাল অবস্থার কারণে কৃষকরা সময়মতো তাদের পণ্য বাজারে পৌঁছে দিতে পারেন না।
এলাকার বাসিন্দা ইদ্রিস বলেন, আমাদের এই এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা জরুরি রোগীদের ক্ষেত্রে। অন্তঃসত্ত্বা নারী, হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীসহ অনেকেই এই কাঁচা রাস্তা দিয়ে উপজেলায় সরকারি হসপিটাল ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর জন্য নিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। কিন্তু এসব আর্তনাদ প্রশাসনের কানে পৌঁছায় না।
এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, এই রাস্তাটির কারণে আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। অনেক জনপ্রতিনিধি আশ্বাস দিলেও কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। এই রাস্তাটির জন্য আমাদের গ্রামের ছেলেমেয়েরা ঠিকমতো স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না।
পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮নাম্বার ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ নাছির উদ্দিন বলেন, আমাদের এলাকার মানুষ উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত। সড়কটির দুরত্ব বেশি হওয়ায় পরিষদের বরাদ্দ থেকে করা সম্ভব হচ্ছেনা। গত বছরে এউ সড়কে ভাঙা ইট দিয়ে মেরামত করার চেষ্ঠা করি। তবে তা খুবই সীমিত।বিষয়টি ইউএনও মহোদয় ও এলজিইডির প্রকৌশলীকে অবগত করবো।
ধলিবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক(ভারপ্রাপ্ত) মঈন উদ্দিন বলেন, সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটি দিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আমাদের স্কুলে যাওয়া আসা করে। তবে ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া আসা করার সময় কাঁদায় পড়ে স্কুল ড্রেস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ লেয়াকত আলী বলেন, সড়কটির বিষয়ে,অবগত রয়েছি। মেম্বার তালিকা দিয়েছে, তবে আমাদের পরিষদে এখন কোন বরাদ্দ নেই। ভরাদ্দ পেলেই সড়কটি সংস্কারের পদক্ষেপ,নেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী কাজি ফাহাদ-বিন মাহমুদ বলেন, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে। সড়কটি সংস্কারের জন্য গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। রাস্তাটি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ উপরে মহলে পাঠাবো। তারা অনুমোদন দিলেই আমরা ব্যবস্থা নিতে পারবো।







