সাতকানিয়ায় যুবককে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ফরহাদুল ইসলাম (১৮) নামে এক যুবককে তুলে নিয়ে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি ও টাকা–মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খাঁন রাশেদ (৩৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত আরও ১৪-১৫ জনকে আসামি করে সাতকানিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফরহাদুল ইসলাম সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের নয়াপাড়ার বাসিন্দা। তিনি ছাত্রদলের কর্মী এবং বর্তমানে কক্সবাজারের ইউনিসেফ এনজিওতে চাকরি করছেন।
ফরহাদুল অভিযোগে উল্লেখ করেন, আওয়ামী সরকারের পতনের দাবিতে গত ৩ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরীর নিউমার্কেট মোড় ও ৪ আগস্ট সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন তিনি। পরবর্তীতে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খাঁন রাশেদের সাথে ছাত্রদলের কার্যক্রমেও যুক্ত হন।
অভিযোগে বলা হয়, চাকরির কারণে কক্সবাজারে থাকার সময় খাঁন রাশেদ তাকে ইয়াবা ব্যবসার প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ফরহাদুলকে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। পরে তিনি ফেসবুকে খাঁন রাশেদের বিরুদ্ধে একটি স্ট্যাটাস দিলে হুমকির মাত্রা আরও বাড়ে।
গত ১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে কেরানীহাট আল হায়াত হাসপাতালের সামনে থেকে কথা বলার নাম করে ফরহাদুলকে সিটি সেন্টারে নিয়ে যায় খাঁন রাশেদসহ কয়েকজন। সেখানে গাছের লাঠি দিয়ে ফরহাদুলের হাতে, পায়ে, পিঠে, কোমরে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা লাথি, কিল-ঘুষি মেরে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুলা জখম করে। এক পর্যায়ে গলায় পা দিয়ে চেপে ধরায় তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মারধরের পর খাঁন রাশেদ জোরপূর্বক ফরহাদুলের স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে এবং তার মানিব্যাগে থাকা ২০ হাজার টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় কয়েকজন বড় ভাইয়ের মধ্যস্থতায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণে হত্যা, বসতঘরে আগুন লাগানো ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়।
ফরহাদুলের দাবি, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে তার টানাহেঁচড়ার দৃশ্য সংরক্ষিত রয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ছাত্রদল নেতাদের পরামর্শে সাতকানিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের কপি দেখে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।











