ছাত্রলীগ থেকে যুবদলের মিছিলে, শেষমেশ পুলিশের জালে
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার রাজনীতিতে আলোচনায় দেলোয়ার হোসেন (৩০)। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি হঠাৎ করেই যুবদলের মিছিলে দেখা দেন। মাথায় ‘যুবদল’ লেখা টুপি, মিছিলের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি—সবই ছিল নিজের নিরাপত্তার কৌশল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই কৌশল কাজে লাগেনি।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) ভোরে কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের জনার কেঁওচিয়া মাদারবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
দেলোয়ার স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে। সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা প্রফেসর আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তোলা একাধিক ছবিও রয়েছে তার। রাজনৈতিক আনুগত্য পাল্টানোর অভিযোগ নিয়ে এখন তিনি আলোচনায়।
সাতকানিয়া থানার ওসি মো. জাহেদুল ইসলাম দেলোয়ারের গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেন। একই দিনই তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
স্বেরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের রাজনীতিতে একটি অস্থির পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকেই নিজের নিরাপত্তার জন্য রাজনৈতিক আনুগত্যে রদবদল ঘটান। দেলোয়ার হোসেনও ছিলেন সেই তালিকায়। দৈনিক নীলগিরির হাতে আসা ছবিতে দেখা গেছে, সরকার পতনের পর উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক উপজেলা যুবদলের মিছিলে অংশ নিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, মিছিলের সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে যুবদল লেখা টুপি পরে সেলফিও তুলেছেন।
দেলোয়ারের ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক প্রার্থী অধ্যাপক এহছানুল মৌলার একাধিক পোস্ট শেয়ার করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক অভিপ্রায় নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অধ্যাপক এহছানুল মৌলা অবশ্য দেলোয়ারকে চেনেন না বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “আমি ওই ছেলেকে চিনি না। তার সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। কেন সে আমার পোস্ট শেয়ার করেছে বা যুবদলের মিছিলে ছবি তুলেছে, সেটা আমার জানা নেই।”
দেলোয়ার যুবদলের কেউ নন—এ দাবি করেছেন উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব শহীদুল্লাহ শহিদও। তিনি বলেন, “দেলোয়ার হোসেন যুবদলের কেউ নয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে চিনি না। যুবদলে তার কোনো পদ-পদবি দেখাতে পারবে না কেউ। নেতাদের অজান্তে কোনো ব্যক্তি যুবদলের টুপি পরে মিছিলে দাঁড়িয়ে সেলফি তুললেই তো আর কর্মী হয়ে যায় না।”











