বঙ্গোপসাগর হবে বৈশ্বিক বাণিজ্যের সেতু: প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরের অফুরন্ত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পরিকল্পনায় সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলকেই রাখা হয়েছে কেন্দ্রবিন্দুতে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বঙ্গোপসাগরের একটা অংশ আমাদের দেশের, যার পরিমাণ ভূখণ্ডের চেয়েও বড়। এ মূল্যবান সম্পদকে কেন্দ্র করেই আমাদের অগ্রসর হতে হবে।” তিনি জানান, সমুদ্রপথে বাণিজ্যের নতুন দ্বার উন্মোচনের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের সঙ্গে সংযোগ বাড়িয়ে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের একটি কেন্দ্রে পরিণত করা হবে।
উপকূল হবে অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র
তিনি বলেন, কুমিরা থেকে টেকনাফ পর্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলকে আধুনিক বন্দরসমূহের মাধ্যমে কর্মচঞ্চল করে গড়ে তোলা হবে দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে। এ লক্ষ্যে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে তারা উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া দিয়েছে।
সমুদ্রসম্পদে সম্ভাবনার হাতছানি
প্রধান উপদেষ্টা জানান, বঙ্গোপসাগরে রয়েছে বিপুল গ্যাস ও মৎস্য সম্পদ, যা দেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। “এই অফুরন্ত সম্পদকে ঘিরেই আমাদের ভাবনা-চিন্তা পরিচালিত হবে,” বলেন তিনি। গভীর সমুদ্রকে ঘিরে মাছ চাষ, আহরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের শিল্প গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। এতে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।
চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন গতি
চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি জানান, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পরিচালনায় ড্রাই ডক লিমিটেড এখন নিউ মুরিং টার্মিনালের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব নিয়েছে। এতে করে প্রতিদিন গড়ে ২২৫টি কনটেইনার বেশি হ্যান্ডলিং সম্ভব হচ্ছে, যা বন্দর ব্যবস্থাপনায় এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন শুধু বাংলাদেশের নয়, নেপাল-ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।” পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ অঞ্চলের সবাই উপকৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।










