উত্তরায় যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত:
বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি ৭০, অধিকাংশই শিশু
১. বিধ্বস্তের ভয়াবহতা
ঢাকার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। স্কুল ছুটির ঘণ্টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষার্থীরা ভবনের নিচে লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় বিমানটি ভবনের উপর ভেঙে পড়ে। মুহূর্তেই আগুন ধরে যায় এবং চারপাশ ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। কেউ প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগেই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে।
২. দগ্ধ ও আহতদের ভয়াবহ চিত্র
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এ পর্যন্ত ৭০ জন গুরুতর দগ্ধ রোগী ভর্তি হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই শিশু শিক্ষার্থী (বয়স ১০-১৫)।
তাদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা সংকটজনক, যারা আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
সংকটাপন্নদের মধ্যে রয়েছেন:
নাফি – ৯৫% দগ্ধ
শায়ান ইউসুফ – ৯৫%
আফনান ফাইয়াজ – ৯৫%
মাসুদা – ৯৫%
আব্দুল্লাহ শামীম – ৯০%
মাহিয়া তাসনিম – ৪৫%
বাপ্পি সরকার – ৩৫%
শামিমা – ২০%
অন্য আহতদের মধ্যে রয়েছে:
আরিয়ান (১১ বছর) – ৫৫%, রোহান – ৫০%, তাসনিয়া – ৩৫%, আশরাফুল – ১৫%, কাব্য – ২০%, ইউশা – ৬%, রূপী বড়ুয়া – ৬%।
নওরিন ও মাসুকা নামের দুজনের বয়স বা দগ্ধতার পরিমাণ এখনও নিশ্চিত নয়।
৩. হাসপাতালে জরুরি পরিস্থিতি
হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে করে একের পর এক রোগী আসতে থাকায় চিকিৎসক ও নার্সরা হন্তদন্ত হয়ে কাজ করছেন।
রক্তের প্রয়োজন মেটাতে ভেতরে ও বাইরে মাইকিং চলছে।
পজিটিভ রক্তে সমস্যা নেই, তবে নেগেটিভ রক্তে সংকট রয়েছে।
বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. নাসির উদ্দিন জানান,
“অত্যন্ত গুরুতর অবস্থার রোগীরা আসছে। এ মুহূর্তে মন্তব্য করার সময় নেই।”
৪. উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি
দগ্ধদের দেখতে হাসপাতালে আসেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা:
আইন উপদেষ্টা: আসিফ নজরুল
বিদ্যুৎ উপদেষ্টা: ফাওজুল কবির খান
পরিবেশ উপদেষ্টা: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
সংস্কৃতি উপদেষ্টা: মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
শিল্প উপদেষ্টা: আদিলুর রহমান খান
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা: অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান
প্রেস সচিব: শফিকুল আলম
পরে বিকেলে হাসপাতালে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
এতে হাসপাতালে দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় সৃষ্টি হয়।
৫. দেশজুড়ে শোক ও উদ্বেগ
এই দুর্ঘটনায় আহতদের মোট সংখ্যা ১৭১ জন, যাঁরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন:
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট: ৭০ জন
উত্তরা আধুনিক হাসপাতাল: ৬০ জন
সিএমএইচ: ১৭ জন
কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল: ৮ জন
ঢাকা মেডিকেল কলেজ: ৩ জন
লুবনা হাসপাতাল: ১১ জন
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল: ১ জন
উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল: ১ জন
স্কুলের ভবনের সামনে, হাসপাতালের বারান্দা ও করিডোরজুড়ে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
ঘটনার আকস্মিকতা, ক্ষয়ক্ষতি ও শোকের মাত্রা দেশজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে।










