ভুয়া কোম্পানির নামে ২৯৭ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি:
দুদকের মামলায় জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারাকাত কারাগারে
ভুয়া কোম্পানির নামে শত শত কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক আবুল বারাকাতকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা এই আদেশ দেন। এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. শাহজাহান মিরাজ তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর একদিন আগে, বৃহস্পতিবার ধানমন্ডির ৩ নম্বর সড়কের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। দুদকের জন্য নির্ধারিত আদালত সাপ্তাহিক ছুটিতে থাকায় তাকে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়।
দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন গত ২০ ফেব্রুয়ারি এই মামলাটি দায়ের করেন। এতে আবুল বারাকাতসহ মোট ২৩ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ভুয়া কোম্পানি দেখিয়ে জনতা ব্যাংক থেকে ২৯৭ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন। তারা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, জালিয়াতি, মিথ্যা রেকর্ডপত্র তৈরি ও তা খাঁটি হিসেবে ব্যবহার, এবং ব্যাংকিং নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে বিপুল অঙ্কের ঋণ অনুমোদন করান।
বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, মাত্র ৩ কোটি ৪ লাখ টাকায় কেনা জমিতে স্থাপনা নেই—এমন অবস্থায় তা ১৬৪ কোটি টাকা মূল্যে মূল্যায়ন দেখিয়ে ঋণ অনুমোদন করা হয়। এর মাধ্যমে বিআরপিডি সার্কুলার ০৫/২০০৫ এবং এমওইউ-এর অনুশাসন লঙ্ঘন করা হয়।
ঋণ জালিয়াতির এই মামলাটি এখন আদালতের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখা থেকে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় মামলাটি দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।










