বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

লামায় নদী ও ঝিরি ভাঙ্গনে বিলীনের পথে সনাতন ধর্মালম্বীদের একমাত্র শ্মশান, ভাঙ্গন রোধে রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণের দাবী

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪১ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
লামায় নদী ও ঝিরি ভাঙ্গনে বিলীনের পথে সনাতন ধর্মালম্বীদের একমাত্র শ্মশান, ভাঙ্গন রোধে রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণের দাবী

মোহাম্মদ আবুল হাশেম লামা প্রতিনিধি

বান্দরবান জেলার লামা পৌর শহরের হাসপাতাল পাড়া এলাকার শত বছরের পুরনো একমাত্র শ্মশানটি এখন বিলীনের পথে। একদিকে মাতামুহুরী নদী অন্যদিকে পাহাড়ি নুনার ঝিরির ভাঙনের কবলে পড়ে দিনে দিনে সংকুচিত হয়ে আসছে এই শ্মশানটি। নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পৌর এলাকার প্রায় ৬০০ পরিবারের শেষকৃত্যের একমাত্র নির্ভরযোগ্য স্থান এ শ্মশানটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। তাই পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পৌর প্রশাসকের নিকট রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণের মাধ্যমে ভাঙন রোধসহ শশ্মান সংস্কারের দাবী জানিয়েছেন সনাতন ধর্মালম্বীরা।

সূত্র জানায়, ১০০ বছর আগে মাতামুহুরী নদীর পাড় ও নুনার ঝিরির শেষ প্রান্তে ৪০ শতক জায়গায় উপর স্থাপিত হয় লামা কেন্দ্রীয় শশ্মান। শুরু থেকে পৌরসভা এলাকায় আর কোন শশ্মান না থাকায় সনাতন ধর্মালম্বীদের মৃতদের লাশ দাহে এটিই একমাত্র ভরসাস্থল। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই নুনার ঝিরি ও মাতামুহুরী নদীর পানি ¯্রােতের টানে পাড় ভাঙন দেখা দেয়। আবার পানি কমতে থাকলেও একইভাবে ভাঙতে থাকে। শ্মশানের বেশিরভাগ অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। বার বার বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে যে কোনো সময় শ্মশানটির বাকি অংশটুকুও নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু তায় নয়, দীর্ঘদিন ধরে এ শশ্মানটি সংস্কার না করায় বর্তমানে লাশ দাহের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া লাইটিং ব্যবস্থা না থাকায় রাতে ভূতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি পরিণত হয় নেশা খোরদের আড্ডাখানা।

সরেজমিনে জানা যায়, শ্মশান এলাকায় ঝিরির পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। মৃত মানুষের দাহ ও সমাধি করার জায়গায় নদীর পানি উঠে যায়। শ্মশানের ঘরেও নদীর পানি ঢুকে পড়ে। ঝিরি ও নদী ভাঙ্গনে ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে শত শত সমাধিস্থলও। লাইটিং ব্যবস্থা না থাকায় রাতে লাশ দাহ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে নেশা খোররা শশ্মানটিকে আড্ডাখানায়ও পরিণত করেছে। মোট কথা শত বছরের পুরোনো এ শ্মশানটি দীর্ঘ বছর সংস্কার করা হচ্ছেনা।

এ বিষয়ে লামা কেন্দ্রীয় শশ্মান পরিচালনা কমিটির সভাপতি অলক কান্তি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক বাসু কর্মকার এক সূরে বলেন, আমরা ছোট থেকেই এলাকার বৃদ্ধদের কাছে শুনেছি, প্রায় ১০০ বছর আগে এই শ্মশানটি স্থাপিত হয়েছিল। এটি প্রতিবছরই ভাঙে। ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে শশ্মানের ৪০ শতক জায়গার মধ্যে একন ১৫ শতকের মত আছে। আগামী বর্ষার আগে শশ্মানের উত্তর ও পূর্ব পাশে ২০০ ফুট রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। রিটার্নিং ওয়াল নির্মান করা না হলে আগামী বর্ষায় বাকিটুকুও বিলীন হয়ে যাবে। তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ শশ্মানটি সংস্কার করা হচ্ছে। বাউন্ডারী ওয়াল না থাকায় রাত দিন নেশা খোরদের আড্ডা খানায় পরিণত হয় শশ্মানটি। লাইটিং ব্যবস্থা না থাকায রাতে কেই মারা গেলে লাশ দাহ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই প্রশাসনের নিকট শশ্মানটির নিরাপত্তায় বাউন্ডারী ও ভাঙ্গন রোধে রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণসহলাইটিং ব্যবস্থা ও একটি লাশ ঘর নির্মানের জোর দাবী জানাচ্ছি।

এদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লামা বাজার ছোট নুনারবিল পাড়ার এলাকার বাসিন্দা খগেশ প্রতি চন্দ্র খোকন বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষের স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই শ্মশানের সাথে। এখানে আমাদের ধর্মীয় রীতি মেনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। এখন সেটাই হারানোর পথে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। তাই দ্রুত শ্মশান রক্ষার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
জানতে চাইলে প্রবীণ সনাতন ধর্মালম্বী অমর কান্তি চৌধুরীর বলেন, জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে শুধু শ্মশানই নয়, আশপাশের বসতবাড়িও হুমকির মুখে পড়বে। তাই দেরি না করে দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে শত বছরের পুরনো শ্মশানটি রক্ষা পায় এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌরসভার প্রশাসক মো. মঈন উদ্দিন জানান, লামা কেন্দ্রীয় শশ্মান ঝিরিতে বিলীনের বিষয়ে কেউ জানায়নি। তবে পৌর প্রকৌশলীর মাধ্যমে বিস্তারিত জেনে শশ্মান ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বান্দরবানের সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ৫৫ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের সরঞ্জাম বিতরণ

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম
বান্দরবানের সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ৫৫ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের সরঞ্জাম বিতরণ

আবুবকর ছিদ্দিক বার্তা সম্পাদক

দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম শঙ্খমণি পাড়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি পাহাড়ের বিভিন্ন পাড়ায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও আলোর সরঞ্জাম এবং সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

গত রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় বান্দরবান রিজিয়নের আওতাধীন ৩৮ ইস্ট বেঙ্গলের তত্ত্বাবধানে এবং রুমা জোনের ব্যবস্থাপনায় রোয়াংছড়ি উপজেলার রনি পাড়া ক্যাম্পের আওতাধীন দুর্গম শঙ্খমণি পাড়ায় বিশেষ মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়। রুমা জোনের মেডিক্যাল অফিসারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ ক্যাম্পে পাড়ার ৫৩টি পরিবারের মোট ৫৫ জন বাসিন্দাকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারীদের মধ্যে ২০ জন শিশু, ২১ জন নারী ও ১৪ জন পুরুষ রয়েছেন।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সেনাবাহিনীর এ মানবিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবান রিজিয়নের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং রুমা জোনের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন পাড়ার মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় একাধিক জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এসব কার্যক্রমের আওতায় সুপেয় পানি উত্তোলনের জন্য সাবমারসিবল পাম্প, বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেনারেটর ও বৈদ্যুতিক তার, দুর্গম এলাকায় আলোর ব্যবস্থা করতে সোলার লাইট এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য চেয়ারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া কমিউনিটি সেন্টারে ব্যবহারের জন্য সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও সোলার তার সরবরাহ করা হয়েছে।

সহায়তা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ হর্সপাওয়ারের সাবমারসিবল পাম্প, ৫ কেভি ও ৭ দশমিক ৫ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন অকটেনচালিত জেনারেটর, একটি সোলার লাইট সেট, ৩৫০ ফুট বৈদ্যুতিক তার, ১০০ ওয়াটের সোলার প্যানেল, ১২ ভোল্টের ১০০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি, ২০ গজ সোলার তার এবং ৫০টি করে চেয়ারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।

সেনাবাহিনীর এসব উদ্যোগের ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সুপেয় পানির সংকট নিরসন, বিদ্যুৎ ও আলোর সুবিধা বৃদ্ধি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় বসবাসরত মানুষের দুর্ভোগ লাঘব, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির করলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৭ পিএম
কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির করলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

আবুবকর ছিদ্দিক বার্তা সম্পাদক

পার্বত্য বান্দরবানে যুবকদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ‘বান্দরবান যুব উন্নয়ন ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর আওতায় যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

গত ১ নভেম্বর এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। প্রশিক্ষণে কোর্স অফিসার ইনচার্জ (ওআইসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ক্যাপ্টেন আজিজুল হাকিম শাওন, ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক, ১৪৩ ফিল্ড ওয়ার্কশপ কোম্পানি ইএমই।

প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো অংশগ্রহণকারীদের যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান প্রদান, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং যানবাহনের সঠিক ব্যবহার ও পরিচর্যা সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করে তোলা।

প্রশিক্ষণে যানবাহনের ইঞ্জিন ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশের কার্যপদ্ধতি, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, কারিগরি ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় মেরামত বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা যানবাহনের সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপদ ব্যবহারে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি বাস্তব কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ প্রশিক্ষণ যানবাহনের অকাল বিকল হওয়া রোধ, মেরামত ব্যয় কমানো এবং যানবাহন সচল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করতে পারবেন।

বিশেষ করে পার্বত্য বান্দরবানে বসবাসরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর যুবকদের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে বেকারত্ব হ্রাস এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে।

বান্দরবান রিজিয়নের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে বান্দরবানসহ দেশের অন্যান্য দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের যুবসমাজের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্থানীয় জনগণ আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করায় সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

বান্দরবানে যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে সেনাবাহিনীর ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৯ পিএম
বান্দরবানে যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে সেনাবাহিনীর ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

আবুবকর ছিদ্দিক, বার্তা সম্পাদক

পার্বত্য অঞ্চলের যুবসমাজকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশে উৎসাহিত করা এবং পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বেতছড়া বাজার যুব সংঘের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান সদর সেনা জোন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বান্দরবান সদর সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সায়েম আহমেদ, পিএসসি-এর পক্ষ থেকে বেতছড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন বেতছড়া বাজার এলাকার যুবকদের হাতে একটি ফুটবল ও এক সেট জার্সি তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে জোন কমান্ডারের পক্ষে বেতছড়া ক্যাম্প কমান্ডার স্থানীয় যুবকদের হাতে এসব ক্রীড়া সামগ্রী হস্তান্তর করেন। আসন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টে যুবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ক্রীড়া সামগ্রী পেয়ে বেতছড়া বাজার যুব সংঘের সদস্যরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা জানান, এ ধরনের সহযোগিতা স্থানীয় যুবকদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলবে এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি শৃঙ্খলাবোধ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহায়তা করে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি গড়ে তুলতেও খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং ক্রীড়াসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবান সদর সেনা জোন স্থানীয় যুবসমাজের ইতিবাচক বিকাশ, সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ়করণ এবং পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে যাচ্ছে।