সাতকানিয়ায় টিআর প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় টিআর কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ দেওয়া প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করা হলেও যথাযথভাবে কাজ সম্পন্ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আব্দুর রহিম ও বুলু আক্তারের বিরুদ্ধে প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে কাজে ব্যয় না করার কথা বলা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ১৭ ও ১৮ নম্বর প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ উত্তোলন করা হলেও প্রকল্পের কাজ আংশিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পের কাজের মান ও বাস্তবায়ন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তাঁরা বলেন, বরাদ্দের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করা হলে স্থানীয় জনগণ উপকৃত হতেন।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় স্থানীয় জনগণের চলাচলের সুবিধা ও জনস্বার্থ বিঘ্নিত হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রকল্পের বরাদ্দ, অর্থ উত্তোলন, কাজের পরিমাণ এবং বাস্তবায়নের মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আবেদনকারীরা জেলা প্রশাসকের কাছে প্রকল্পের সার্বিক বিষয় তদন্ত করে অনিয়মের সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বরাদ্দের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী রাস্তা নির্মাণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় সমাজকর্মী নুরুল হক বলেন, “সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় করার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না করে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের অনিয়মের কারণে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় হয়, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। তাই প্রকল্পের বরাদ্দ, অর্থ উত্তোলন ও বাস্তবায়নের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অসমাপ্ত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি অত্যন্ত জরুরি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধি আব্দুর রহিম ও বুলু আক্তারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ কল রিসিভ না করায় তারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।











