সীমান্তপথে ইয়াবা, আলীকদমে বেড়েছে ইয়াবা সেবনকারী ও বিক্রিতা
আবু জুয়েল নুরখান, আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা বান্দরবানের আলীকদমে পাহাড়ি দুর্গম পথ ব্যবহার করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইয়াবা পাচারকারী চক্র। সীমান্ত পেরিয়ে মাদকের চালান আসার ধারাবাহিক অভিযোগের মধ্যেই সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ বেশ কয়েকজন আটক হয়েছেন। গত কয়েক দিনে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের পৃথক অভিযানে তিনজনের কাছ থেকে ১৯৫টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে ইয়াবা সেবনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি পথ, ঝিরি ও যোগাযোগবিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মাদক পাচার চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে ৫৬, ৫৭ ও ৫৮ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকা ও কুরুকপাতা ইউনিয়নের অপ্রচলিত পথ দিয়ে ইয়াবাসহ নানা মাদক আলীকদমে প্রবেশ করে। পরে তা উপজেলা সদর হয়ে লামা ও ফাঁসিয়াখালী সড়কপথে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। পাচার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে অল্পবয়সী ও স্থানীয় দরিদ্র তরুণদের। তবে বাহক আটক হলেও মূল হোতারা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযান সূত্র জানায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর আলীকদম সেনাজোনের কান্না মেম্বার ঘাট আর্মি ক্যাম্প থেকে ১৬৫টি ইয়াবাসহ মো. মালেক (২৬) নামের এক যুবককে আটক করা হয়। এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর রাতে আলীকদম সদর ইউনিয়নের সাবের মিয়া পাড়ায় অভিযান চালিয়ে ২৮টি ইয়াবাসহ মো. আরমান হোসেনকে (৩৮) আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরমান মিয়ানমার থেকে পাইকারি দামে ইয়াবা এনে খুচরা বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন।
একই রাতে পূর্ব পালংপাড়ায় একটি টমটমে তল্লাশি চালিয়ে চালক মো. সজ্জাতকে (২০) ২টি ইয়াবাসহ আটক করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুর আলম পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন।
এছাড়া ১১ সেপ্টেম্বর রাতে আলীর বাজার এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৫টি ইয়াবাসহ আবু তাহের (৩৫) ও হাসান মিয়াকে (২৭) আটক করা হয়। পরে সেবনের অপরাধে তাঁদের প্রত্যেককে ১ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১২ সেপ্টেম্বর বাবুপাড়া থেকে ২টি ইয়াবাসহ আটক জিয়াউল করিমকে (২৮) দেওয়া হয় ৬ মাসের কারাদণ্ড। সর্বশেষ ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে দানু সর্দার পাড়ায় অভিযান চালিয়ে মো. আবিদ (১৯) নামের এক যুবককে আটক করে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালে আলীকদমে অভিযান চালিয়ে ২৭ হাজার ৮৯২টি ইয়াবা জব্দ, ১১ জন আটক ও ৮টি মামলা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১ হাজার ৬৩৫টি ইয়াবা, বিভিন্ন ধরনের আফিম ও গাজাঁসহ ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন শাহ জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করেছে। মাদক বহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি মূল হোতাদের শনাক্ত করতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।











