বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

বান্দরবানে ৬০ কোটি টাকায় পানি-স্যানিটেশন, দুর্গম পাহাড়ে কমছে পানির সংকট

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৮ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বান্দরবানে ৬০ কোটি টাকায় পানি-স্যানিটেশন, দুর্গম পাহাড়ে কমছে পানির সংকট

আবুবকর ছিদ্দিক, স্টাফ রিপোর্টার

পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা বাড়াতে প্রায় ৬০ কোটি টাকার দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন সরকার। এসব প্রকল্পের আওতায় পৌর এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নির্মাণ ও সংস্কারের পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম (জিএফএস), রিংওয়েল, গভীর নলকূপ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ (রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং) ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দুর্ভোগ কমছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই ও সমন্বিত পৌর পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প’-এর আওতায় বান্দরবান পৌর এলাকায় প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন কাজ চলছে। ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছর মেয়াদের এ প্রকল্পে ৬৬৭টি নতুন হাউসহোল্ড টয়লেট নির্মাণ, ৮৬৭টি টয়লেট উন্নয়ন, পাঁচটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ ও আটটি সংস্কারের কাজ রয়েছে। বান্দরবান ও লামা পৌরসভায় প্রায় ২০০টি টয়লেট নির্মাণ ও সংস্কারের কাজও চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনেক এলাকায় আগে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। নতুন টয়লেট নির্মাণ ও পুরোনো টয়লেট সংস্কারের ফলে বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি কমেছে।
সিদ্দিকনগরের বাসিন্দা সাগর বলেন, নতুন স্যানিটেশন সুবিধার কারণে এলাকার পরিবেশ আগের চেয়ে পরিচ্ছন্ন হবে। হাফেজঘোনার বাসিন্দা কামাল বলেন, দীর্ঘদিনের পানি ও স্যানিটেশন-সংকটের কারণে মানুষের দুর্ভোগ ছিল। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় সেই দুর্ভোগ কমছে।

সাত উপজেলায় ৪৫ কোটি টাকার প্রকল্প অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘বান্দরবানের স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর মেয়াদের এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা।
প্রকল্পের আওতায় বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি পুরোনো জিএফএস মেরামত ও ১০টি নতুন জিএফএস নির্মাণ, ৫৮৩টি রিংওয়েল, ১৪০টি রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম, ৫০টি গভীর নলকূপ ও ৫০টি প্রোডাকশন টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০টি স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এসব অবকাঠামোর গুরুত্ব বেশি। কারণ অনেক পাড়ায় নিরাপদ পানির উৎস দূরে হওয়ায় বাসিন্দাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো। কোথাও আবার ঝিরি-ঝরনার পানির ওপর নির্ভর করতে হতো।
তালুকদার পাড়ার বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি মংক্য প্রু মার্মা বলেন, আগে পানি সংগ্রহ করতে অনেক দূরে যেতে হতো। এখন এলাকায় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা হওয়ায় মানুষের সময় ও শ্রম দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে।
রোয়াজা পাড়ার বাসিন্দা হ্নাক্রা মার্মা বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে দূর থেকে পানি সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এলাকায় পানির ব্যবস্থা হওয়ায় বয়স্ক মানুষসহ সবাই উপকৃত হচ্ছেন।

পাহাড়ি এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির সহজলভ্যতা কম হওয়ায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্ষায় সংরক্ষণ করা পানি পরবর্তী সময়ে ব্যবহারের সুযোগ থাকায় শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলায় এটি সহায়ক হচ্ছে।
জেলার টিএন্ডটি পাড়া, হাফেজঘোনা, নিউগুলসান, হাসপাতাল এলাকা, সিদ্দিকনগর, সুয়ালক ও হলুদিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পাবলিক টয়লেট, গভীর নলকূপ ও রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, পাহাড়ের মানুষের পানির দুর্ভোগ লাঘবে চাহিদার ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় টিউবওয়েল, রিংওয়েল, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং ও জিএফএস স্থাপন করা হয়েছে। আরও দুর্গম এলাকায় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন প্রকল্পের অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্মিত এসব স্থাপনার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। তাহলে সরকারি বিনিয়োগের সুফল দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ মানুষ পাবেন এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থায় আরও এগিয়ে যাবে বান্দরবান।

নাইক্ষ্যংছড়িতে আগুনে পুড়ে ছাই ২ দোকান, ২ বসতবাড়ি ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক, অল্পের জন্য রক্ষা পেল গরুর খামার

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৫১ পিএম
নাইক্ষ্যংছড়িতে আগুনে পুড়ে ছাই ২ দোকান, ২ বসতবাড়ি ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক, অল্পের জন্য রক্ষা পেল গরুর খামার

জাহাঙ্গীর আলম কাজল,নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মালামালসহ দুটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। একই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুটি বসতবাড়িও। তবে স্থানীয় লোকজনের প্রচেষ্টায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে পাশের একটি গরুর খামার।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভোররাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের আদর্শগ্রাম এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সাহাবুদ্দিন জানান, তিনি ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির কর্মচারী। বৃহস্পতিবার ভোররাতে হঠাৎ আগুনের শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে বেরিয়ে আগুন দেখতে পেয়ে প্রথমে পাশের দোকানদার গোলাম কিবরিয়াকে ফোন করেন। প্রাথমিকভাবে গোলাম কিবরিয়ার দোকান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে আগুন পাশের হামিদ খলিফার কাপড়ের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকলে স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে এরই মধ্যে আগুনে গোলাম কিবরিয়ার দোকানের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদুল আলম জানান, অগ্নিকাণ্ডে গোলাম কিবরিয়ার মুদি দোকান ও হামিদ খলিফার কাপড়ের দোকানের সব মালামাল পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে ওই ভবনের দুই ভাড়াটিয়া সাহাবুদ্দিন ও চুই চা মং মার্মার বসতঘরও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলসংলগ্ন স্থানীয় খামারি মোহাম্মদ ইসলামের বড় একটি গরুর খামারও আগুনের ঝুঁকিতে পড়েছিল। তবে স্থানীয় লোকজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় খামারটি রক্ষা পায়।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার গোলাম কিবরিয়া জানান, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে তাঁর দোকানের তালা খুলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এতে তাঁর আনুমানিক ৮ থেকে ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
অপর দোকানদার হামিদ খলিফা জানান, তাঁর দোকানে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবারের সদস্যরাও তাঁদের ব্যাপক ক্ষতির কথা জানিয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এমপি জসীম উদ্দিনের বিশেষ সহকারী হলেন আবদুস সবুর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৪০ পিএম
এমপি জসীম উদ্দিনের বিশেষ সহকারী হলেন আবদুস সবুর

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসীম উদ্দিন আহমেদের বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আবদুস সবুর।

তাঁর নিয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছার বন্যা বইছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সংসদ সদস্যের কার্যালয় থেকে জারি করা নিয়োগপত্রের মাধ্যমে তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সংসদ সদস্য জসীম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্রে বলা হয়েছে, আবদুস সবুর চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তদারকিসহ অর্পিত অন্যান্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় আবদুস সবুরকে একাধিক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা এই নেতার নতুন দায়িত্ব পাওয়াকে তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় আবদুস সবুর বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে অনেক নির্যাতন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েও রাজপথ ছাড়িনি।

সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসীম উদ্দিন আহমেদ আমার ওপর যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখে এই দায়িত্ব দিয়েছেন, তা যথাযথভাবে পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও তাঁর আস্থার প্রতিদান দিতে চাই। চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার মানুষের উন্নয়ন এবং সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখব।’

তাঁর নিয়োগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

তাঁদের মতে, আবদুস সবুর দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে।

সংসদ সদস্যের বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশা সংসদ সদস্যের কাছে তুলে ধরার সুযোগ আরও সহজ হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

এদিকে, নিয়োগের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবদুস সবুরকে অভিনন্দন জানিয়ে একের পর এক পোস্ট দিচ্ছেন তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। অনেকে তাঁর ছবি ও নিয়োগপত্র প্রকাশ করে নতুন দায়িত্বের সফলতা কামনা করছেন।

শুভাকাঙ্ক্ষীদের বিভিন্ন পোস্টে তাঁকে ত্যাগী ও পরীক্ষিত রাজনৈতিক কর্মী উল্লেখ করে এ নিয়োগকে রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে আবদুস সবুরের নতুন দায়িত্ব পাওয়াকে ঘিরে চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এখন নতুন দায়িত্বে তিনি এলাকার উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কতটা ভূমিকা রাখতে পারেন, সেটিই দেখার বিষয়।

এইচএসসিতে ৫ বিষয়ে ফেল করা ছাত্রশক্তি নেতা এবার ট্রাফিক পুলিশের কাছে তদবিরে ব্যস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম
এইচএসসিতে ৫ বিষয়ে ফেল করা ছাত্রশক্তি নেতা এবার ট্রাফিক পুলিশের কাছে তদবিরে ব্যস্ত

Oplus_131072

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ট্রাফিক পুলিশের কাছে বিভিন্ন যানবাহন ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তদবির করার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রশক্তির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মো. সাঈদ হোসেন মানিকের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ট্রাফিক পুলিশ কোনো যানবাহন আটক করলে তিনি পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে তা ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ধরনের তদবিরের কারণে ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিন বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে কেরানীহাট পুলিশ বক্স থেকে সাঈদ হোসেন মানিককে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। সূত্রের দাবি, তিনি একটি মোটরসাইকেল ছাড়িয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে এসেছিলেন। যদিও এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এটি প্রথম ঘটনা নয়। তাদের দাবি, সড়কে অভিযান চালিয়ে কোনো মোটরসাইকেল বা অন্য যানবাহন আটক করা হলে বিভিন্ন সময় ছাত্রশক্তি নেতা মো. সাঈদ হোসেন মানিক ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ছাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তদবির করেন। এমনকি দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিচয় ব্যবহার করে আইন প্রয়োগে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হলে তা সুশাসন ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। তারা এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাঁচ বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন সাঈদ হোসেন মানিক। এরপর থেকেই তাকে ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। এর মধ্যেই ট্রাফিক পুলিশের কাছে তদবিরের অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পুলিশ বক্সের সামনে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. সাঈদ হোসেন মানিক চুপ থাকেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন যুবক এ প্রতিবেদককে পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে অনুরোধ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেরানীহাট পুলিশ বক্সের ট্রাফিক ইনচার্জ (টিআই) মো. মাহবুব কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।