সাতকানিয়ায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত
সমবায়ের হাত ধরে গড়বে বাংলাদেশ
‘সমবায়ে গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পতাকা ও সমবায় পতাকা উত্তোলন, বর্ণাঢ্য র্যালি এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহেলি নোশিন প্রত্যাশা। উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন পলাশের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা বিজয় কৃষ্ণ নাথ, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শামসুদ্দিন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা মৌসুমী, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি তারেক হোসাইন, পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির শাহ আলম, সাতকানিয়া উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর বি. এম. আসিক বিন আজাদ, কেরানীহাট প্রগতিশীল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মাস্টার জয়নাল আবেদীন ও সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম।
এ ছাড়া সোনাইছড়ি খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি মো. শামসুল ইসলাম, মির্জারখীল দরবার শরীফ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির অর্থ সম্পাদক সেলিম উল্লাহ, আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে সমবায় আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সমবায়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা সম্ভব। সম্মিলিত সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়।
তাঁরা বলেন, সমবায়ের মূল শক্তি হচ্ছে পারস্পরিক সহযোগিতা, আস্থা ও সম্মিলিত উদ্যোগ। একজন ব্যক্তির পক্ষে যে কাজ বা বিনিয়োগ করা কঠিন, সমবায়ের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। বিশেষ করে কৃষি, মৎস্য, ক্ষুদ্র ব্যবসা, হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে সমবায় সমিতিগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বক্তারা আরও বলেন, সমবায় সমিতিগুলোকে শুধু সঞ্চয় ও ঋণ কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উৎপাদন, বিপণন ও উদ্যোক্তা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে সমিতির স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে।
তাঁদের মতে, সমবায় খাতকে আরও গতিশীল ও জনমুখী করা গেলে বেকারত্ব কমানো, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা এবং সমবায় সমিতিগুলোর কার্যক্রমে সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।








