সাতকানিয়ায় বন্যার স্রোতে ধসে গেল পাকা বাড়ি
টানা পাঁচ দিনের বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পানির তীব্র স্রোতে একটি পাকা বসতবাড়ি ধসে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সাতকানিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সামিয়ারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে পরিবারের সদস্যরা আগেই ঘর ছেড়ে বের হয়ে যাওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বাড়ির মালিক মো. সেলিম জানান, গত বুধবার গভীর রাতে ডলু নদীর তীব্র স্রোতে বাড়ির দক্ষিণ পাশের সড়কটি ভেঙে যায়। এরপর পাঁচ থেকে ছয় ফুট উঁচু পানির ঢেউ সরাসরি তাদের বাড়ির সীমানাপ্রাচীরে আঘাত হানে। বিকট শব্দে সড়ক ভেঙে পড়তে দেখে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত ঘর থেকে বের করে নেন।
মো. সেলিম বলেন, “চোখের সামনে পুরো সড়কটা বন্যার পানিতে বিলীন হয়ে গেল। মুহূর্তের মধ্যে প্রবল স্রোত আমাদের বাড়ির দিকে ধেয়ে আসে। প্রতিবেশীরা না জাগালে হয়তো আমরা কেউই বাঁচতাম না। পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই বের করতে পারিনি। কিছুক্ষণ পরই বাড়ির নিচের মাটি ধসে যেতে শুরু করে। একসময় পুরো পাকা বাড়িটাই ভেঙে পড়ে। ঘরের ভেতরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র—কিছুই উদ্ধার করতে পারিনি। সারাজীবনের সঞ্চয় আর পরিশ্রমের সবটুকু চোখের সামনে শেষ হয়ে গেল। এখন আমি নিঃস্ব।”
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সেলিমের মেয়ে জান্নাতুল নাঈম বলেন, “বাবা অনেক কষ্ট করে এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। ডলু নদীর বাঁধ ভেঙে আসা বন্যার পানির স্রোতে মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের মাথা গোঁজার মতো কোনো ঠাঁই নেই। যে জায়গায় বাড়িটি ছিল, সেটিও ভেঙে গেছে। সেখানে আবার ঘর নির্মাণেরও সুযোগ নেই। আমরা সরকারের কাছে সহযোগিতা ও পুনর্বাসনের আবেদন জানাচ্ছি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যার পানির তীব্র স্রোতে এলাকাটির সড়ক ভেঙে যাওয়ার পর আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে টানা পাঁচ দিনের বন্যায় সাতকানিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানিবন্দী। ভারী বর্ষণ ও সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার ছদাহা, কেঁওচিয়া, বাজালিয়া, ধর্মপুর, কাঞ্চনা, ঢেমশা, সদর, খাগরিয়া, চরতী, সোনাকানিয়া, কালিয়াইশ, আমিলাইষ, নলুয়া ও পশ্চিম ঢেমশাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক পরিবার বসতঘর ছেড়ে স্কুল, মাদ্রাসা, আশ্রয়কেন্দ্র ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। কোথাও কোথাও এখনো ঘরে কোমর থেকে বুকসমান পানি থাকায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি বাসিন্দারা।








