বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস-ডিজিটাল জালিয়াতিতে ৫ বছরের জেল, সংসদে বিল পাস

বাংলানিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৮:৫৩ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস-ডিজিটাল জালিয়াতিতে ৫ বছরের জেল, সংসদে বিল পাস

প্রশ্নপত্র ফাঁস, ডিজিটাল কারসাজি, জাল সনদ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অন্যান্য পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধ রোধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে সংসদে ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

বাংলাদেশের পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার লক্ষ্যেই বিলটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
পাস হওয়া এ বিলের মাধ্যমে ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০’-এর পুরোনো বিধান সংশোধন করে সাইবার প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি ও নতুন ধরনের অনিয়ম মোকাবিলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় ৪৫ বছর আগে প্রণীত বিদ্যমান আইনটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় অনেকাংশেই অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের কারণে সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের জালিয়াতি ঠেকাতে আইনটি যুগোপযোগী করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

ডিজিটাল কারসাজিতে ৫ বছরের জেল: সংশোধনীতে প্রথমবারের মতো ‘ডিজিটাল কারসাজি’র আইনি সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। নতুন ধারা পাঁচ অনুযায়ী, পাবলিক পরীক্ষার ডাটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য পরিবর্তন বা মুছে ফেলার মতো অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে।

প্রশ্নফাঁসে কঠোর শাস্তি

প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র ফাঁসের শাস্তি আরও কঠোর করতে বিদ্যমান ধারা ৮ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র বা উত্তরপত্র নিজের কাছে রাখা, প্রকাশ, প্রচার বা বিতরণ করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।

নিষিদ্ধ ডিভাইস নিলে ২ বছরের জেল

প্রযুক্তির সহায়তায় নকল প্রতিরোধে ধারা ৩এ সংযোজন করা হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশ এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

অনুমোদনহীন কেন্দ্র ও নম্বর কারসাজি

নতুন ধারা ৯এ-এর মাধ্যমে অনুমোদনহীন পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন বা পরিচালনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এসব কাজে জড়িত ব্যক্তি এবং অবৈধ পরীক্ষার জন্য নিজস্ব স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া মালিকদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। অন্যদিকে, ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত বা কম নম্বর প্রদান করে ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে (ধারা ১০এ) সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড দেওয়া হবে।

প্রতিষ্ঠান ও হুইসেলব্লোয়ারদের বিষয়ে যা আছে

কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধে সহায়তা করলে বা কর্মীদের তদারকিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে (ধারা ১২এ)। এছাড়া সৎ উদ্দেশ্যে অপরাধের তথ্য প্রকাশকারী তথ্যদাতাদের (হুইসেলব্লোয়ার) দেওয়ানি, ফৌজদারি বা বিভাগীয় ব্যবস্থা থেকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে (ধারা ১৩বি)।

বিলে আরও বলা হয়েছে, এ আইনের অধীন অভিযুক্ত কোনো শিশুর বিচার শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী কিশোর বিচারব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হবে।

সংশোধিত আইনে এসব অপরাধকে আমলযোগ্য (কগনিজেবল) করা হয়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়াই ব্যবস্থা নিতে পারবে। মহানগর এলাকায় মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এবং অন্যান্য এলাকায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে এসব মামলার বিচার করবেন।

এ ছাড়া নতুন আইনটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছে বলে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাতকানিয়ায় মাদক সম্রাট ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫১ পিএম
সাতকানিয়ায় মাদক সম্রাট ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির আটক

Oplus_131072

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ছাত্রলীগ নেতা আজাদ হোসেন সাব্বিরকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজাদ হোসেন সাব্বির ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও দীর্ঘদিনের বলে স্থানীয়দের দাবি।

তবে ঠিক কি কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানাতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, বিষয়টি আমাকে জেনে দেখতে হবে।

৫ দিনের সফরে বান্দরবান আসছেন পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২৬ পিএম
৫ দিনের সফরে বান্দরবান আসছেন পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

আবুবকর ছিদ্দিক, বার্তা সম্পাদক

পাঁচ দিনের সরকারি সফরে আগামী ৬ নভেম্বর বান্দরবান আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এমপি। ৫ থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর এই সফরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস, শ্রমিকদের মৃত্যুজনিত আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখা থেকে ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক সরকারি সফরসূচিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার বেইলি রোডস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন মন্ত্রী। রাত ১১টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ট্রেনযোগে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি। পরদিন ৬ নভেম্বর শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা দেবেন। সকাল ৮টায় বান্দরবান সার্কিট হাউসে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

৭ নভেম্বর (শনিবার) সকালে চিম্বুকের উদ্দেশে যাত্রা করবেন মন্ত্রী। সকাল সাড়ে ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বান্দরবান পার্বত্য জেলার চিম্বুক রেঞ্জের ২৭ কিলোমিটার সড়কে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

একই দিন দুপুরে বান্দরবান সার্কিট হাউসে ফিরে বিশ্রাম শেষে বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় যোগ দেবেন। বিকেল ৪টায় জেলা বিএনপি আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশেও অংশ নেবেন তিনি।

৮ নভেম্বর রোববার সকাল ৯টায় ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মন্ত্রী। সকাল ১১টায় বান্দরবান জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে মৃত্যুবরণকারী শ্রমিকদের অনুকূলে মৃত্যুঘটিত আর্থিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

পরে বিকেল ৪টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে বান্দরবান ত্যাগ করবেন। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান শেষে রাতের ট্রেনে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। ৯ নভেম্বর সোমবার ভোরে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে ঢাকার বেইলি রোডস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে উপস্থিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর পাঁচ দিনের সফর শেষ হবে।

সরকারি সফরসূচিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।

মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীর এই সফরকে ঘিরে বান্দরবানে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শ্রমিক ও সমবায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১টি পদ শূন্য, শিক্ষক সংকটে ব্যাহত পাঠদান, প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উদ্বেগ

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২৪ পিএম
রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১টি পদ শূন্য, শিক্ষক সংকটে ব্যাহত পাঠদান, প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উদ্বেগ

উবাসিং মারমা, রুমা প্রতিনিধি।

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।

বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে ১১টি পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়নরত প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র তিনজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং দুজন সহকারী শিক্ষক। অথচ প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকসহ মোট আটটি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, অফিস সহায়ক ও নৈশপ্রহরী পদেও জনবল নেই। ফলে শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষক সংকটে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত
বিদ্যালয়ে ইংরেজি, গণিত, সামাজিক বিজ্ঞান, কৃষিশিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা ও ধর্মসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে বিষয়ভিত্তিক পাঠ বুঝতে পারছে না। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতি, ভালো ফলাফল অর্জন ও শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশেষ করে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সামনে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাকে ঘিরে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে সব বিষয়ে পাঠ শেষ করা এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য: শিক্ষক না থাকায় পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়ছি

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক সময় নির্ধারিত বিষয়গুলোতে ক্লাস হয় না। ফলে নিজেরা পড়াশোনা করলেও কঠিন বিষয়গুলো বুঝতে সমস্যা হয়। পরীক্ষার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রেও তারা পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাচ্ছে না।

অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে, “আমরা নিয়মিত স্কুলে আসি, কিন্তু সব বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় অনেক সময় ক্লাস হয় না। কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে তা বুঝিয়ে দেওয়ার মতো শিক্ষক পাই না। এতে আমাদের পড়ালেখায় অনেক ক্ষতি হচ্ছে।”
নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, “শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিষয় নিজেরাই পড়ার চেষ্টা করি। কিন্তু গণিত ও ইংরেজির মতো বিষয়ে শিক্ষকের সহযোগিতা ছাড়া ভালোভাবে শেখা কঠিন। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতিও ঠিকমতো নিতে পারছি না।

নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মেসিংউ মার্মা জানান , “আমাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এখন শিক্ষক না থাকায় কোন বিষয়ে কতটুকু পড়া শেষ হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে। আমরা চাই, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা হোক।

২ নং সদর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বার মংমিন মার্মা তিনি জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও দূরবর্তী পাড়ার শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া কঠিন। শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৩০০ জনের মতো সরকারি ভাবে নিয়োগকৃত বর্তমানে শিক্ষক রয়েছে তিনজন সেখানেও আবার একজন শিক্ষক রয়েছে বিএড এ প্রশিক্ষণরত। তাহলে দুইজন শিক্ষক দিয়ে কেমনে চলবে মানতে পারছি না।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, বিদ্যালয়ের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি অফিসের শূন্য পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিখিল কান্তি দেব তিনি জানান বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট হওয়াতে পালাক্রমে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে মাঝেমধ্যে হতাশ হয় এই বাচ্চাগুলোকে দেখে।বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগ শিক্ষক ইংরেজি শিক্ষক সাথে শূন্য পদে শিক্ষকগুলো খুবই অভাব তবে শুনেছি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। যদি নিয়োগ হয় তাহলে যেসব বিদ্যালয় শিক্ষক সংকট সেসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক পূরণ হওয়ার আশাবাদী রুমা উপজেলায় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রায় এগারোটি পথ শূন্য রয়েছে এ বিষয় নিয়ে খুবই হতাশে রয়েছি।

তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষক সংকট নিরসন করবে। এতে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।