বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

বিদ্যুৎ খাতের লুটপাটে জড়িত হাসিনা-নসরুল

আমার দেশ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বিদ্যুৎ খাতের লুটপাটে জড়িত হাসিনা-নসরুল

আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে দেশের বিদ্যুৎ খাতে ভয়াবহ লুটপাট হয়েছে। এর সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ও তার প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ছাড়াও ১১ জন জড়িত ছিলেন। ওই সময় রাজনৈতিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এ খাত ভারতের হাতে তুলে দিয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়। শুধু ভারতের বিতর্কিত শিল্প গ্রুপ আদানিকে নির্ধারিত দামের বাইরে ২৫ বছরে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ অতিরিক্ত দিতে হবে এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। অসম এ চুক্তির সঙ্গে জড়িত তৎকালীন কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে চার মিলিয়ন ডলার লেনদেনের তথ্য মিলেছে।

আওয়ামী আমলের বিদ্যুৎ খাতের চুক্তি পর্যালোচনায় গঠিত জাতীয় কমিটির প্রতিবেদনে অনিয়ম, লুটপাটের ভয়াবহ এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আওয়ামী লীগ আমলে করা চুক্তিগুলো পর্যালোচনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী গতকাল রোববার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্নীতির কারণে দেশে বিদ্যুতের পাইকারি দাম ৫০ শতাংশের বেশি বাড়ানো হয়েছে। এতে শিল্প খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

অসম চুক্তির মাধ্যমে হাসিনা ও বিপু ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যার প্রমাণসহ নথিপত্র দুর্নীতি দমন কমিশনে ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে বলে জানান বিচারপতি মইনুল ইসলাম। তদন্তে বিগত সরকারের ১১ কর্মকর্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের ফ্যাকাল্টি অব ল অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সের অর্থনীতির অধ্যাপক মোশতাক হোসেন খানসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

১৫২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের দেড় দশকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে এক পরিকল্পিত ও ভয়াবহ আর্থিক বিপর্যয় নেমে আসে। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-এর বার্ষিক লোকসান ছিল মাত্র পাঁচ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। পরবর্তী ৯ বছরে এ লোকসান অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ হাজার কোটি টাকায়। ওই সময় তথাকথিত বিশেষ বিধান আইনের আড়ালে প্রতিযোগিতাহীন ও অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে এ খাতে লুটপাটের এক বিশাল ক্ষেত্র তৈরি করা হয়। জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর লাভ নিশ্চিত করাই ছিল এসব চুক্তির মূল লক্ষ্য। বর্তমান এ সংকট থেকে বের হতে হলে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম অন্তত ৮৬ শতাংশ বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।

হাসিনা ও বিপু ছাড়াও যাদের ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে তারা হলেন—সাবেক মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস (সাবেক বিদ্যুৎ সচিব), সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আলাউদ্দিন, সাবেক যুগ্ম সচিব শেখ ফায়জুল আমিন, পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ ও মো. মাহবুবুর রহমান, পাওয়ার সেলের সাবেক পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম কিবরিয়া, পিডিবির সাবেক সদস্য মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ, পিডিবির কর্মকর্তা মিনা মওদুদুজ্জামান ও মো. সেলিম রেজা এবং সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব প্রণব কুমার ঘোষ।

তাদের অ্যাকাউন্টে কী পরিমাণ টাকা লেনদেন হয়েছেÑএমন প্রশ্নের জবাবে মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এ-সংক্রান্ত তথ্যগুলো আমরা একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের মাধ্যমে সরকারের হাতে দিয়েছি। একই সঙ্গে এসব নথি আমাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ে নিয়েছে। আশা করছি দুদক ব্যবস্থা নিলে সেটা জাতি জানতে পারবে।

আদানির মতো অসম চুক্তির নজির বিশ্বে নেই

ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে সম্পাদিত ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তিটি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির সবচেয়ে বড় প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে জাতীয় কমিটির প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, এমন ভয়ানক ও আত্মঘাতী চুক্তি বিশ্বে আর দ্বিতীয়টির হদিস পাওয়া যায়নি। এ চুক্তির মাধ্যমে প্রতি বছর বাংলাদেশ প্রায় এক বিলিয়ন ডলার বা ১২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আদানির বিদ্যুতের দাম ভারতের গ্রিড থেকে কেনা বিদ্যুতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ভারতের গ্রিড থেকে যেখানে ৪ দশমিক ৪৬ সেন্টে বিদ্যুৎ পাওয়া যেত, সেখানে আদানিকে শুরুতে ৮ দশমিক ৬১ সেন্ট এবং পরে ১৪ দশমিক ৮৭ সেন্ট পর্যন্ত পরিশোধ করতে হয়েছে। এ চুক্তিতে বিদ্যুতের দাম স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি ধরা হয়েছে, যার ফলে ২৫ বছরে বাংলাদেশের অতিরিক্ত লোকসান হবে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বা এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা।

কয়লার অযৌক্তিক দাম ও ট্রান্সমিশন ব্যয়

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আদানির প্রকল্পের স্থান নির্ধারণ এবং কয়লা আমদানির প্রক্রিয়াটিও ছিল চরম রহস্যজনক ও যুক্তিহীন। প্রকল্পটি ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের গোড্ডায় স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় কয়লা ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও তা করা হয়নি। ভারতের আইন অনুযায়ী স্থানীয় কয়লায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ রপ্তানি করা যায় না জেনেও সেখানে কেন্দ্রটি করা হয়। এর ফলে অস্ট্রেলিয়া থেকে জাহাজযোগে কয়লা আমদানি করে তা আবার ভারতীয় রেলপথে শত শত কিলোমিটার পরিবহন করে গোড্ডায় নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল এ প্রক্রিয়ার পুরো খরচই বহন করছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। এছাড়া ভারতের অভ্যন্তরীণ ট্রান্সমিশন লাইনের খরচ এবং আদানির ওপর ধার্যকৃত ভারতীয় করও বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হচ্ছে। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের কর্মকর্তা বা রাজনীতিবিদ এমন অসম চুক্তিতে সই করতে পারেন না বলে পর্যালোচনা কমিটি মন্তব্য করেছে।

আদানির দুর্নীতি ও হাসিনার দায়

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদানির চুক্তির পেছনে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। হুইসেল ব্লোয়ারদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের নির্দিষ্ট তারিখ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার কার্যালয়ের সরাসরি নির্দেশে এসব চুক্তি সম্পাদিত হয়। হাসিনা এবং তৎকালীন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বিপুর সরাসরি সংশ্লিষ্টতারও পরিষ্কার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। চুক্তির সঙ্গে জড়িত অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার অ্যাকাউন্টে চার মিলিয়ন ডলার লেনদেনের তথ্য মিলেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এ তথ্যগুলো একটি শক্তিশালী আইনি লড়াই বা ফ্রড মামলা জেতার জন্য যথেষ্ট বলে কমিটি মনে করছে।

ক্যাপাসিটি পেমেন্ট ও সিস্টেম লস

হাসিনার শাসনামলে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা চারগুণ বাড়লেও বেসরকারি খাত বা আইপিপি খাতে বিল বেড়েছে ১১ গুণÑএমন তথ্যের উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাপাসিটি পেমেন্ট বা বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রেখে টাকা দেওয়ার হার বেড়েছে ২০ গুণ। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডের প্রায় সাত হাজার ৭০০ থেকে ৯ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ অব্যবহৃত বা ব্যবহারযোগ্য নয়। জ্বালানি সংকট বা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এ সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অব্যবহৃত এ সক্ষমতার জন্য বিপিডিবিকে বছরে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার দণ্ড দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন হোক বা না হোক, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বিশাল অঙ্কের এ অর্থ সরকার নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানিকে দিয়ে যাচ্ছে।

অন্যান্য বিতর্কিত প্রকল্প ও গোষ্ঠীস্বার্থ

শুধু আদানি নয়; সামিট, এসএস পাওয়ার এবং রিলায়েন্সের মতো প্রতিষ্ঠানও এ লুটপাটে অংশীদার ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সামিট মেঘনাঘাট প্রকল্পে গ্যাসের স্বল্পতা জানা সত্ত্বেও বড় বড় কেন্দ্র স্থাপন করে, যার ইউনিটপ্রতি খরচ অন্যান্য কেন্দ্রের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এস আলম গ্রুপের এসএস পাওয়ার (বাঁশখালী) কেন্দ্রটি সমমানের কয়লাভিত্তিক প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল। এছাড়া রিলায়েন্সের ক্ষেত্রে ভারতের একটি অচল বা পরিত্যক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশে আনার প্রক্রিয়াও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। এ চুক্তিগুলো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের পরিবর্তে বিশেষ বিধান আইনের অধীন সমঝোতার মাধ্যমে করা হয়েছিল, যা প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে একটি প্রক্রিয়া।

ভবিষ্যৎ পথচিত্র ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ খাতের এ রক্তক্ষরণ বন্ধে কমিটি বেশকিছু কঠোর পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে। প্রথমত, যেসব চুক্তিতে দুর্নীতির প্রমাণ মিলবে, সেগুলো অবিলম্বে বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। দ্বিতীয়ত, উচ্চব্যয়ী ও অসম চুক্তিগুলো পুনরায় আলোচনার মাধ্যমে সংশোধন করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যবহারের তুলনায় অতিরিক্ত ক্যাপাসিটি পেমেন্ট এবং বৈদেশিক মুদ্রার হারের সঙ্গে সমন্বয় করা চুক্তিগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে যেকোনো বিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রকে বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। পাশাপাশি একটি স্বাধীন জ্বালানি তদন্ত প্রতিষ্ঠান গঠনের মাধ্যমে এ খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্বচ্ছতা নিশ্চিতের কথাও বলা হয়েছে।

জনগণের প্রতি আহ্বান ও সাময়িক ত্যাগ

আদানির মতো বড় ও অসম চুক্তিগুলো চ্যালেঞ্জ করলে বা বাতিল করলে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে জাতীয় কমিটির এ প্রতিবেদনে। এতে আরো বলা হয়েছে, আদানি একা সরবরাহ বন্ধ করে দিলে দেশে বড় ধরনের লোডশেডিং হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিচারপতি মইনুল কমিটির প্রতিবেদনে এ বিষয়ে জনমত তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

কমিটির মতে, দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে এবং আগামী ২৫ বছরের জন্য অভিশপ্ত এ চুক্তিগুলো থেকে মুক্তি পেতে হলে জনগণকে সাময়িক কষ্ট সহ্য করার মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। তা না হলে উচ্চমূল্যের বিদ্যুতের চাপে দেশের শিল্পায়ন ও সামগ্রিক অর্থনীতি ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতের এ সংকট কেবল কারিগরি নয়; বরং এটি একটি গভীর রাজনৈতিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের ফল। বিপিডিবি বর্তমানে একটি কার্যকর ক্রেতা হওয়ার বদলে কেবল অর্থ পরিশোধের মধ্যস্থতাকারীতে পরিণত হয়েছে।

কমিটির সুপারিশকৃত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা না হলে দেশের সাধারণ মানুষ এবং শিল্পোদ্যোক্তারা দীর্ঘকাল এ লুটপাটের বোঝা বয়ে বেড়াতে বাধ্য হবে। পরবর্তী সরকারের জন্য এ প্রতিবেদন একটি দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে বলেও জানান মইনুল ইসলাম চৌধুরী।

সাতকানিয়ায় মাদক সম্রাট ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫১ পিএম
সাতকানিয়ায় মাদক সম্রাট ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির আটক

Oplus_131072

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ছাত্রলীগ নেতা আজাদ হোসেন সাব্বিরকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজাদ হোসেন সাব্বির ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও দীর্ঘদিনের বলে স্থানীয়দের দাবি।

তবে ঠিক কি কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানাতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, বিষয়টি আমাকে জেনে দেখতে হবে।

৩ দিনের সফরে বান্দরবান আসছেন পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২৬ পিএম
৩ দিনের সফরে বান্দরবান আসছেন পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

আবুবকর ছিদ্দিক, বার্তা সম্পাদক

পাঁচ দিনের সরকারি সফরে আগামী ৬ নভেম্বর বান্দরবান আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এমপি। ৫ থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর এই সফরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস, শ্রমিকদের মৃত্যুজনিত আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখা থেকে ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক সরকারি সফরসূচিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার বেইলি রোডস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন মন্ত্রী। রাত ১১টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ট্রেনযোগে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি। পরদিন ৬ নভেম্বর শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা দেবেন। সকাল ৮টায় বান্দরবান সার্কিট হাউসে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

৭ নভেম্বর (শনিবার) সকালে চিম্বুকের উদ্দেশে যাত্রা করবেন মন্ত্রী। সকাল সাড়ে ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বান্দরবান পার্বত্য জেলার চিম্বুক রেঞ্জের ২৭ কিলোমিটার সড়কে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

একই দিন দুপুরে বান্দরবান সার্কিট হাউসে ফিরে বিশ্রাম শেষে বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় যোগ দেবেন। বিকেল ৪টায় জেলা বিএনপি আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশেও অংশ নেবেন তিনি।

৮ নভেম্বর রোববার সকাল ৯টায় ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মন্ত্রী। সকাল ১১টায় বান্দরবান জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে মৃত্যুবরণকারী শ্রমিকদের অনুকূলে মৃত্যুঘটিত আর্থিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

পরে বিকেল ৪টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে বান্দরবান ত্যাগ করবেন। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান শেষে রাতের ট্রেনে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। ৯ নভেম্বর সোমবার ভোরে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে ঢাকার বেইলি রোডস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে উপস্থিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর পাঁচ দিনের সফর শেষ হবে।

সরকারি সফরসূচিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।

মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীর এই সফরকে ঘিরে বান্দরবানে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শ্রমিক ও সমবায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১টি পদ শূন্য, শিক্ষক সংকটে ব্যাহত পাঠদান, প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উদ্বেগ

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২৪ পিএম
রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১টি পদ শূন্য, শিক্ষক সংকটে ব্যাহত পাঠদান, প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উদ্বেগ

উবাসিং মারমা, রুমা প্রতিনিধি।

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।

বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে ১১টি পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়নরত প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র তিনজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং দুজন সহকারী শিক্ষক। অথচ প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকসহ মোট আটটি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, অফিস সহায়ক ও নৈশপ্রহরী পদেও জনবল নেই। ফলে শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষক সংকটে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত
বিদ্যালয়ে ইংরেজি, গণিত, সামাজিক বিজ্ঞান, কৃষিশিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা ও ধর্মসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে বিষয়ভিত্তিক পাঠ বুঝতে পারছে না। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতি, ভালো ফলাফল অর্জন ও শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশেষ করে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সামনে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাকে ঘিরে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে সব বিষয়ে পাঠ শেষ করা এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য: শিক্ষক না থাকায় পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়ছি

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক সময় নির্ধারিত বিষয়গুলোতে ক্লাস হয় না। ফলে নিজেরা পড়াশোনা করলেও কঠিন বিষয়গুলো বুঝতে সমস্যা হয়। পরীক্ষার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রেও তারা পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাচ্ছে না।

অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে, “আমরা নিয়মিত স্কুলে আসি, কিন্তু সব বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় অনেক সময় ক্লাস হয় না। কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে তা বুঝিয়ে দেওয়ার মতো শিক্ষক পাই না। এতে আমাদের পড়ালেখায় অনেক ক্ষতি হচ্ছে।”
নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, “শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিষয় নিজেরাই পড়ার চেষ্টা করি। কিন্তু গণিত ও ইংরেজির মতো বিষয়ে শিক্ষকের সহযোগিতা ছাড়া ভালোভাবে শেখা কঠিন। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতিও ঠিকমতো নিতে পারছি না।

নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মেসিংউ মার্মা জানান , “আমাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এখন শিক্ষক না থাকায় কোন বিষয়ে কতটুকু পড়া শেষ হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে। আমরা চাই, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা হোক।

২ নং সদর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বার মংমিন মার্মা তিনি জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও দূরবর্তী পাড়ার শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া কঠিন। শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৩০০ জনের মতো সরকারি ভাবে নিয়োগকৃত বর্তমানে শিক্ষক রয়েছে তিনজন সেখানেও আবার একজন শিক্ষক রয়েছে বিএড এ প্রশিক্ষণরত। তাহলে দুইজন শিক্ষক দিয়ে কেমনে চলবে মানতে পারছি না।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, বিদ্যালয়ের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি অফিসের শূন্য পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিখিল কান্তি দেব তিনি জানান বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট হওয়াতে পালাক্রমে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে মাঝেমধ্যে হতাশ হয় এই বাচ্চাগুলোকে দেখে।বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগ শিক্ষক ইংরেজি শিক্ষক সাথে শূন্য পদে শিক্ষকগুলো খুবই অভাব তবে শুনেছি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। যদি নিয়োগ হয় তাহলে যেসব বিদ্যালয় শিক্ষক সংকট সেসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক পূরণ হওয়ার আশাবাদী রুমা উপজেলায় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রায় এগারোটি পথ শূন্য রয়েছে এ বিষয় নিয়ে খুবই হতাশে রয়েছি।

তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষক সংকট নিরসন করবে। এতে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।