কুয়াশা-শীত ছাপিয়ে চুনতির গ্রামীণ পথে দৌড়ের উৎসব
ঘন কুয়াশায় ঢাকা ভোর। সূর্যের আলো তখনো দিগন্ত ছুঁতে পারেনি। চারপাশে কাঁপুনি ধরানো শীত। কিন্তু এসব উপেক্ষা করেই আঁকাবাঁকা এক গ্রামীণ সড়কের পাশে ভিড় জমিয়েছেন শত শত মানুষ। কেউ পায়ের জুতা শক্ত করে বাঁধছেন, কেউ শেষবারের মতো শরীর গরম করছেন—সবাই প্রস্তুত ছুটে চলার জন্য। শীতল সকালের সেই মুহূর্তেই গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আবহ।
আজ শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি গ্রামে এমনই ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা যায়। গ্রামভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চুনতি ডটকম–এর উদ্যোগে চতুর্থবারের মতো আয়োজিত হয় এই ম্যারাথন। সকাল ৭টায় মেহেরুন্নিসা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে ইসহাক মিয়া সড়ক ধরে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। এতে দেশের ৩০টি জেলার আট শতাধিক দৌড়বিদ অংশ নেন।
এই ম্যারাথনের টাইটেল স্পনসর ছিল কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেড। সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল প্রথম আলো, ইস্পাহানি, সামুদা স্পেক কেমিক্যাল লিমিটেড ও মুভার। আয়োজন ঘিরে পুরো চুনতি গ্রামই যেন পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে অনেক দৌড়বিদ আগের রাতেই গ্রামে এসে পৌঁছান। কুয়াশাঘেরা গ্রামীণ রাস্তা, বিস্তৃত ফসলি জমি আর চুনতি বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন তাঁরা।
তিনটি আলাদা ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয় ম্যারাথন।
২১.১ কিলোমিটার জেনারেল ক্যাটাগরিতে শিরোপা জেতেন মামুন আহমেদ। প্রথম রানারআপ হন মো. সুজন, দ্বিতীয় রানারআপ মো. আবদুল্লাহ আল নোমান এবং তৃতীয় রানারআপ মো. শামসুজ্জামান।
একই দূরত্বের লোকাল ইনস্পিরেশন ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন নির্বাচিত হন মো. ইফতি।
আর ভেটেরান ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হন নেপাল চন্দ্র ভৌমিক; প্রথম রানারআপ হন রতন কান্তি বড়ুয়া।
অন্যদিকে ১০ কিলোমিটার জেনারেল ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হন আশরাফুল আলম। এই বিভাগে প্রথম রানারআপ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, দ্বিতীয় রানারআপ মো. আনোয়ার, তৃতীয় রানারআপ তামিম উদ্দিন এবং চতুর্থ রানারআপ হন আসাদুর রহমান।
১০ কিলোমিটারের ভেটেরান ক্যাটাগরিতে শিরোপা জেতেন মো. তৈয়াব উদ্দিন। প্রথম রানারআপ হন মো. আতিয়ার রহমান ও দ্বিতীয় রানারআপ খাইরুল ইসলাম।
একই দূরত্বে লোকাল ইনস্পিরেশন অ্যাওয়ার্ডে (জেনারেল) চ্যাম্পিয়ন হন আবদুল্লাহ আল নোমান এবং রানারআপ হন আবু সালেহ মো. হাবিবুল্লাহ। ভেটেরান বিভাগে এই ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হন জাবেদ আব্বাস সিদ্দিকী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইসমাইল, লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, চুনতি সমিতির সভাপতি আসাদ খান, ক্রাউন সিমেন্টের প্রধান উপদেষ্টা মাসুদ খান এবং বিশ্বব্যাংকের লিড ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট সুরাইয়া জান্নাতসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান বলেন,
“ম্যারাথন কেবল একটি দৌড় প্রতিযোগিতা নয়; এটি মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে, সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে। একসঙ্গে চলার আনন্দ ও দায়বদ্ধতার প্রতীক এই আয়োজন। চুনতি একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ—এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধিকে আরও এগিয়ে নেবে।”








