বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

২০০১–২০০৬-এর সাফল্য স্মরণ করিয়ে তারেক

দুর্নীতি-আইনশৃঙ্খলার লাগাম টানতে পারি আমরা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:২৪ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
দুর্নীতি-আইনশৃঙ্খলার লাগাম টানতে পারি আমরা

২০০১–২০০৬ সালের বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “দুর্নীতি রোধ করতে পারলে একমাত্র বিএনপিই তা করতে পারে। কারণ আমরা অতীতে করেছি, ভবিষ্যতেও করতে পারব ইনশাআল্লাহ।”

তিনি দাবি করেন, বিএনপি সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে বিভিন্ন বিশেষায়িত বাহিনী গঠন করেছিল, অথচ পরবর্তী স্বৈরাচারী সরকার এসব বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে অপব্যবহার করেছে। তারেক রহমানের ভাষ্য, দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলার লাগাম টেনে ধরতে সক্ষম একমাত্র শক্তি বিএনপি।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘৭ দিনব্যাপী কর্মসূচি: বিএনপির দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

“দেশ সংকটে পড়লে দায়িত্ব নিয়ে বিএনপিই পরিস্থিতি বদলেছে”

তারেক রহমান বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে বিএনপিকে যখন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তখনই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, আগামী দুই মাস পরে একটি জাতীয় নির্বাচন প্রত্যাশিত। গত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্র ধ্বংস হয়েছে—এ কথা জনগণ জীবনের প্রতিটি স্তরে অনুভব করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

“জনগণই রাজনৈতিক শক্তির উৎস—কেন তাদের সামনে দাঁড়াব না?”

তারেক রহমান বলেন,
“জনগণই আমাদের রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। জনগণ যে সিদ্ধান্ত দেবে আমরা তা মাথা পেতে নেব।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন—যখন মানুষের বাকস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছিল, তখনও বিএনপি ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সামনে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব পেশ করেছিল।

ষড়যন্ত্র মোকাবিলার উপায়—গণতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্র

বিগত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি বলে আসছেন—সামনের সময় সহজ নয়, দেশ বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মুখে। তারেক রহমানের মতে,
“এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারে জনগণ—এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি। জনগণের মতামত প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা সম্ভব।”

“যাদের ১৯৭১-এ মানুষ দেখেছে—তাদের নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই”

বর্তমান প্রেক্ষাপটে অন্যদের দিকে তাকানোর পরামর্শ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন—
“কেউ কেউ বলে অমুককে দেখো, তমুককে দেখো। কিন্তু জনগণ তাদের ১৯৭১ সালেই দেখেছে—তখন তারা কীভাবে হত্যা, লুট ও নির্যাতন চালিয়েছে, মানুষ সব জানে।”

“মানুষের জন্য যা করা সম্ভব, তা-ই কমিট করব”

তারেক রহমান বলেন, মানুষের কল্যাণে বিএনপি যা করার ক্ষমতা রাখে তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেবে।
তিনি বলেন,
“যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে—তা কোনো দলই প্রতিশ্রুতি দিতে পারে না। মুসলমান হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি—সবকিছুর মালিক আল্লাহ। কিন্তু কিছু মানুষ আজ নানা জিনিসের টিকিট বিক্রি করে বেড়াচ্ছে।”

ক্ষতিকর লেজার লাইট নিক্ষেপ করে চালকের চোখের দৃষ্টি কেড়ে নিতে চায় ট্রাফিক পুলিশ

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
ক্ষতিকর লেজার লাইট নিক্ষেপ করে চালকের চোখের দৃষ্টি কেড়ে নিতে চায় ট্রাফিক পুলিশ

ঠিক সন্ধ্যো নামার পর থেকেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র খ্যাত সাতকানিয়ার কেরানীহাট মোড়ে সবুজ রঙয়ের লেজার লাইটের রশ্মি দেখা যায়। কোত্থেকে সেই রশ্মি আসছে, কৌতূহল নিয়ে তাকালেই দেখা যাবে, যান নিয়ন্ত্রণে ‘ক্ষতিকর’ এই লাইট ব্যবহার করছে ট্রাফিক পুলিশ।

এ মোড় ব্যবহার করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানে চলাচলকারী বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশার চালক এবং পথচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে ট্রাফিক পুলিশ ক্ষতিকর এই লেজার লাইট ব্যবহার করছে। এই লাইট চোখে এসে পড়লে তৎক্ষণাৎ চোখ ঝাপসা হয়ে যায়, যা স্বাভাবিক হতে কয়েক মিনিট সময় লাগে। অনেক সময় চোখ জ্বালাপোড়াও করে। এ ছাড়া, চোখের ক্ষতির পাশাপাশি এই লাইটের ব্যবহারে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

লাইট অ্যামপ্লিফিকেশন বাই স্টিমুলেটেড এমিশন অব রেডিয়েশন, যার সংক্ষিপ্ত রূপ লেজার। এটি এক ধরনের আলোক রশ্মি। বিশেষ উদ্দীপনায় বিকিরণ ঘটিয়ে সাধারণ আলোর ক্ষমতা ও শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে তৈরি করা হয় লেজার। চিকিৎসাক্ষেত্রে কসমেটিক সার্জারি, ত্বকের চিকিৎসা, ক্ষতস্থান নিরাময়, দাঁত কিংবা চোখের চিকিৎসায় লেজার রশ্মির ব্যবহার হয়। কিন্তুরাতে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের হাতে হাতে দেখা যায় লেজার লাইট। এই লাইট ছুড়ে তারা যানবাহনকে সংকেত দেন।

চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই লেজার লাইটের রশ্মি চোখে এসে পড়লে রেটিনার ক্ষতিসহ তা অন্ধত্বের ঝুঁকি তৈরি করে। আর পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের লাইটের ব্যবহার দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ায়।

নিয়মিত কেরানীহাট মোড় হয়ে বাসায় যাতায়াত করেন মোটরসাইকেলচালক তারেকুলি ইসলাম (২৭)। তিনি বলেন, ‘এই লেজার লাইট চোখে পড়লে সামনে আর তাকাতে পারি না। একদিন মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছি, হঠাৎই লাইটটা আমার চোখে এসে পড়ল, আর আমার সামনে ছিল একটা সাইকেল। দুর্ঘটনা এড়াতে আমি তৎক্ষণাৎ মোটরসাইকেল থামিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ি।’

‘কী ধরনের লাইট ব্যবহার করা যাবে না, ট্রাফিক পুলিশ তো আমাদেরকে সেই বিষয়ে সচেতন করবে। অথচ উল্টো তারাই এ ধরনের লাইট ব্যবহার করছে। এটা তো আমাদের জন্য বিপজ্জনক। এই ক্ষতিকর লাইট যারা ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত’, বলেন তিনি।

নুরুল ইসলাম (৫৬) নামের একজন বলেন, ‘পথে চলাচলের সময় প্রায়ই এই লাইট চোখে এসে পড়ে, যা ক্ষতিকর তো বটেই, অত্যন্ত বিরক্তিকরও। কেরানীহাটে নিয়মিতই ট্রাফিক পুলিশ এই লাইট ব্যবহার করে। এই লাইটের আলো চোখে এসে পড়লে চোখ জ্বলে এবং ঝাপসা দেখি।’

একই অভিজ্ঞতা বাসচালক আব্দুস সবুরেরও (৪৫)। ‘প্রায়ই এই লাইট চোখে এসে পড়ে। তখন তো ঘোলা দেখি’, বলেন তিনি।

গাড়িচালক মো. ইলিয়াস (৪৮) জানান, এই লাইট চোখে এসে পড়লে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, যা ঠিক হতে কয়েক মিনিট সময় লেগে যায়। ‘আবার অনেক সময় এই লাইটের আলো লুকিং গ্লাসেও পড়ে। সেখান থেকেও চোখে আসে। আবার লুকিং গ্লাসে লাইট পড়লে তখন আশপাশের গাড়ি দেখা যায় না’, বলেন ইলিয়াস।

ট্রাফিক পুলিশ ক্ষতিকর এই লাইট কেন ব্যবহার করছে প্রশ্ন তুলে গাড়ি চালক নেজাম উদ্দিন (৪০) বলেন, ‘প্রায়ই হঠাৎ করে এই লাইট চোখে এসে পড়ে। তখন চোখে অন্ধকার দেখি। চোখের ক্ষতি করে কেন লেজার লাইট ব্যবহার করতে হবে?’

চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লেজার লাইটের রশ্মি যদি চোখের রেটিনায় পৌঁছায়, তাহলে আমরা যে অংশ দিয়ে দেখি ম্যাকুলা, সেটা বার্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেটা হলে তো সে আর চোখে দেখবে না। আর লেন্সে এই রশ্মি পড়লে ছানি হতে পারে। আবার চোখে পড়লে প্রদাহও হতে পারে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হলো ছানি পড়া, আর রেটিনাতে লেজার পড়ার কারণে ম্যাকুলা বার্ন হয়ে গেলে দৃষ্টিশক্তি কমে যাবে। এতে অন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। আবার এই লেজার লাইট চোখে পড়ার পর তৎক্ষণাৎ চোখ ঝাপসা হয়ে যায়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে।

লেজার লাইট ব্যবহার করা কোনোভাবেই উচিত না উল্লেখ করে এই চক্ষু বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, চিকিৎসকরা অপারেশনে জন্য লেজার লাইট ব্যবহার করে। যেমন: ডায়াবেটিসের জন্য চোখে রক্তক্ষরণ হয়, তখন লেজার লাইট দিয়ে রেটিনা বার্ন করে দেওয়া হয়, যাতে আর রক্তক্ষরণ না হয় বা নতুন রক্তনালী তৈরি না হয়। আবার ছানির অপারেশনসহ বিভিন্ন রকমের সার্জারির জন্য লেজার লাইট ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু বাইরে এটা ব্যবহার করা তো নিষিদ্ধ। এটা ঠিক না। বিভিন্ন চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ধরনের লেজার আছে। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশ তো না জেনেই এটা ব্যবহার করছে। সেটা চোখের রেটিনা পর্যন্ত পৌঁছালে তো বেশ ক্ষতিকর হবে।

মানবাধিকারকর্মী শহীদুল ইসলাম বাবর বলেন, ‘এই ধরনের লাইট চোখের ক্ষতি করে এবং সড়ক নিরাপত্তা জন্য ভয়ঙ্কর ঝুঁকি তৈরি করে। আমি মনে করি, এই লাইট ব্যবহারের মধ্য দিয়ে কোনো ধরনের উপকার হয় না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিকে বিষয়টি বিবেচনা করে এই লাইট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।’

কেরানীহাট পুলিশ বক্সের ট্রাফিক ইনচার্জ (টিআই) মো. মাহবুবের কাছে এই লাইট ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে ‘এটা ব্যবহার করা ক্ষতিকর’ স্বীকার করে তিনি বলেন, অনেক সময় দূরে থেকে তাদেরকে যান নিয়ন্ত্রণ করতে হয় এবং জোরে কথা বললেও শোনা যায় না যানবাহনের শব্দের কারণে। সেই কারণেই তারা এই লাইট ব্যবহার করছেন।

ট্রাফিক বিভাগ থেকে এই লাইট দেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ট্রাফিক বিভাগ থেকে দেওয়া হয়নি, আমরা নিজেরা কিনে তা ব্যবহার করছি।’

এদিকে, অনিয়ন্ত্রিত লেজার লাইট ব্যবহার কেন অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে ২০২৫ সালের ৪ মার্চ রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুলে এই অনিয়ন্ত্রিত লেজার লাইট ব্যবহার তাৎক্ষণিকভাবে কেন নিষিদ্ধ করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়। এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজির হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বান্দরবানে স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্স অনুষ্ঠিত, শিক্ষার্থীদের সঞ্চয় ও ক্যাশলেস লেনদেনে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২২ এম
বান্দরবানে স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্স অনুষ্ঠিত, শিক্ষার্থীদের সঞ্চয় ও ক্যাশলেস লেনদেনে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান

আবুবকর ছিদ্দিক, বার্তা সম্পাদক

শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা, আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ ও ক্যাশলেস লেনদেনে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে বান্দরবানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্স-২০২৬’। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিত লিড ব্যাংকিং পদ্ধতির আওতায় আয়োজিত এ সম্মেলনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যাংকার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৯টায় বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘এক দেশ এক QR, লেনদেনে বাংলা QR’। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আর্থিক স্বচ্ছতা ও নিরাপদ ক্যাশলেস লেনদেন সম্পর্কে সচেতন করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মো. ইকবাল মহসীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সুফিয়া আক্তার, সোনালী ব্যাংক পিএলসির টেরিটোরিয়াল জেনারেল ম্যানেজার রানা অমিতাদ দাশ গুপ্ত, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক বান্দরবানের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. আবু রায়হান, বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং ইউসিবি পিএলসির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আঞ্চলিক প্রধান মেহেদী হাসান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউসিবি পিএলসির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বান্দরবান শাখার শাখা প্রধান মোহাম্মদ হানিফ চৌধুরী। সম্মেলন সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের উপপরিচালক মোহাম্মদ ইউছুফ আলী।

বক্তারা বলেন, ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতে তারা দায়িত্বশীল ও সচেতন আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। শুধু অর্থ সঞ্চয় নয়, ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে ধারণা, ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন জরুরি।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে নগদ অর্থের পরিবর্তে ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন, কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্ট এবং ক্যাশলেস ব্যাংকিং সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যের মূল বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনা, ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে তাদের আগ্রহ তৈরি করা এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়মুখী মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি আধুনিক ও নিরাপদ আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়।

আয়োজকেরা জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর্থিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের সঞ্চয়মুখী করে গড়ে তোলা এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবহারে উৎসাহিত করাই এ ধরনের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্সের অন্যতম উদ্দেশ্য। বান্দরবানের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এর মাধ্যমে ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

সাতকানিয়ায় মাদক সম্রাট ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫১ পিএম
সাতকানিয়ায় মাদক সম্রাট ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির আটক

Oplus_131072

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ছাত্রলীগ নেতা আজাদ হোসেন সাব্বিরকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজাদ হোসেন সাব্বির ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও দীর্ঘদিনের বলে স্থানীয়দের দাবি।

তবে ঠিক কি কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানাতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, বিষয়টি আমাকে জেনে দেখতে হবে।