এটিএসআই শাহীন ও সার্জেন্ট রিয়াজ রহমানের বিরুদ্ধে টুকেন বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ
সাতকানিয়ায় ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠলেন চালকরা
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও টুকেন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন সদ্য বদলি হয়ে আসা এটিএসআই শাহীন ও সার্জেন্ট রিয়াজ রহমান পাটওয়ারী।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাসিক মাসোহারা না দিলে সিএনজি অটোরিকশা চালকদের গাড়ি আটক করে থানায় পাঠানো হচ্ছে। অপরদিকে নিয়মিত ‘টুকেন’ দেওয়া গাড়িগুলো মহাসড়কে দাপিয়ে চললেও তাদের আটক করছে না ট্রাফিক পুলিশ।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে শত শত সিএনজি অটোরিকশা চালক চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের ঠাকুর দিঘী ছগির আহমদ পেট্রোল পাম্পের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। প্রায় ১০ মিনিট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে সড়কের উভয় পাশে যানজট সৃষ্টি হয়।
পরে সাতকানিয়া থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের দুটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকদের দাবি বিবেচনার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
চালকদের ক্ষোভ
অটোরিকশা চালকদের অভিযোগ, কেরানীহাট ট্রাফিক পুলিশ বক্স এখন ‘টুকেন বাণিজ্যের আড্ডাখানা’। প্রতি গাড়ি থেকে মাসিক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। কেউ টাকা না দিলে নানা অজুহাতে গাড়ি আটক করে হয়রানি করছে।
সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. বাপ্পী বলেন,
“কেরানীহাটের ট্রাফিক এটিএসআই শাহীন আর সার্জেন্ট রিয়াজ রহমান পাটওয়ারী একসাথে টুকেন বাণিজ্য চালাচ্ছেন। মাসোহারা না দিলে গাড়ি আটকে দেন, মামলা দেন, কখনও গাড়ির চাবি নিয়ে বসে থাকেন। কিন্তু যারা টাকা দেয়, তাদের গাড়ি মহাসড়কে ইচ্ছেমতো চলছে।”
অবরোধে অংশ নেওয়া মোঃ এহছান বলেন, “আমরা ভোর থেকে রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করি, দিনে ৮০০ টাকাও ঠিকমতো রোজগার হয় না। কিন্তু মাসে মাসে সড়কে পুলিশকে দিতে হয় টাকা। না দিলে রাস্তায় নামলেই ঝামেলা। ট্রাফিকের শাহীন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সে সমিতির কাছ থেকে টাকা পায়, তাঁদের গাড়ি ধরবে না। সমিতির আওতায় না থাকা কোনো সিএনজি অটোরিকশা কেরানীহাটে আসলে ট্রাফিক পুলিশ শাহীন ধর।”
চালকদের দাবি, কেরানীহাট ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে শত শত অবৈধ গাড়ি সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকে, কিন্তু তাদের দিকে তাকায় না পুলিশ। “যাদের কাছ থেকে টাকা আসে, তাদের গাড়ি ‘ভিআইপি সার্ভিস’ পায়”—এমন মন্তব্যও করেন কয়েকজন চালক।
পুলিশের বক্তব্য
অভিযোগ অস্বীকার করে এটিএসআই শাহীন বলেন,
“মহাসড়কে বিশৃঙ্খল গাড়ি ধরেই সার্জেন্টের কাছে দিই, এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কোনো ধরনের টুকেন বাণিজ্যের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। লোহাগাড়ায় থাকাকালে কাগজপত্র ছাড়া গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কেউ কেউ মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে।”
সাতকানিয়া ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ (টিআই) নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন,
“আমরা কোনো ধরনের টুকেন বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নই। এটিএসআই শাহীন সদ্য লোহাগাড়া থেকে বদলি হয়ে এসেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি আজই শুনেছি।”











