ভ্রমণের আনন্দ যাত্রা থেমে গেল মৃত্যুর বাঁকে
বৃহস্পতিবার মধ্যরাত। কক্সবাজার ভ্রমণের উত্তেজনা নিয়ে প্রাইভেটকারে উঠে পড়েছিল একটি পরিবার। বাবা গোলাম সরোয়ার, তার স্ত্রী, তিন বছরের মেয়ে মুসকান, ছেলে আর আরও দুই আত্মীয়—সবাই মিলে যাচ্ছিলেন সমুদ্রের নীল জলে মেতে উঠতে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূর্ণ হলো না।
শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ঠাকুরদীঘি এলাকায় এক অপ্রত্যাশিত মুহূর্তে তাদের গাড়ি ধাক্কা খায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি কাভার্ডভ্যানে। প্রচণ্ড শব্দে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় চারপাশ। গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে আটকা পড়ে যাত্রীরা। বাবা গোলাম সরোয়ার আর তার তিন বছরের মেয়ে মুসকান ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ছুটে গিয়ে আহত চারজনকে উদ্ধার করে। মা ও ছেলে কিছুটা সুস্থ হলেও অপর দুজনকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরিবারের উৎসবমুখর ভ্রমণ পরিণত হয় মৃত্যু আর আহাজারির দৃশ্যে।
জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার এসআই বোরহান উদ্দিন বলেন, দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ডভ্যানে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ঢাকার উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা গোলাম সরোয়ার পরিবারের সুখ-স্বপ্ন নিয়ে বের হয়েছিলেন বেড়াতে। কিন্তু এখন সেই বাড়ি ফিরবে নিথর দুটি লাশ আর আহত চারজন।
শিশু মুসকানের জন্য মায়ের কান্না মহাসড়কের বাতাসকেও ভারী করে তুলেছে। যে পরিবার সকালে আনন্দে ভরপুর ছিল, দুপুরের আগেই তারা পরিণত হলো এক শোকাহত নামহারা গল্পে।











