বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

সাতকানিয়ায় পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস

‘ফিল্ড স্কুল শুধু চাষ শেখায় না, নেতৃত্বও গড়ে’

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ জুন, ২০২৫, ১:৫৭ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
‘ফিল্ড স্কুল শুধু চাষ শেখায় না, নেতৃত্বও গড়ে’

একটা সময় ছিল, যখন কৃষক মানেই মাঠে লাঙল-হালের সঙ্গে যুদ্ধ করে বাঁচার লড়াই। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন সেই কৃষকই হাতে নিচ্ছেন মাটি পরীক্ষার কিট, পকেটে রাখছেন বাজার বিশ্লেষণের অ্যাপ, আর কণ্ঠে উচ্চারণ করছেন ‘জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি’র মতো শব্দ।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) সাতকানিয়ার এরাবিয়ান কনভেনশন হলে আয়োজিত ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস’ ছিল তারই বাস্তব প্রমাণ।

এই কংগ্রেসটি ছিল ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ এন্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রোগ্রামের আওতায় আয়োজিত অন্যতম ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ এক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মাঠ পর্যায়ের কৃষক-কৃষাণীরা কেবল অংশগ্রহণকারী হিসেবেই থাকেননি— ছিলেন নেতৃত্বের ভূমিকায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাতকানিয়া উপজেলা কার্যালয় এই আয়োজনের মূল দায়িত্বে থাকলেও কংগ্রেসটি রূপ নেয় এক ধরনের উৎসব-সম্মেলনে।

এতে অংশ নেয় সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকার কৃষক-কৃষাণী, স্কুলভিত্তিক কৃষি ক্লাবের সদস্য, কৃষি কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্টনার প্রকল্পের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার কৃষিবিদ আবু কাউছার মো. সারোয়ার বলেন, ‘এই ফিল্ড স্কুল শুধু মাঠে কাজ শেখায় না, মাথায় নেতৃত্বের ভাবনা ঢুকিয়ে দেয়। একজন কৃষক কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তন বুঝে চাষাবাদ করবে, কীভাবে নিজের বাজার তৈরি করবে, সেটাও এই স্কুল শেখায়।’

অনুষ্ঠানে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) ওমর ফারুক। আলোচনায় কৃষক-কৃষাণীরা ফিল্ড স্কুলের মাধ্যমে শেখা তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

কালিয়াইশ এলাকার কৃষক সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, ‘আগে আমরা সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করতাম। ফিল্ড স্কুলে অংশ নেওয়ার পর এখন আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছি। এতে খরচ কমেছে, উৎপাদনও বেড়েছে।’

ধর্মপুর এলাকার কৃষাণী রওশন আক্তার বলেন, ‘ফিল্ড স্কুলে এসে আমি বিষমুক্ত সবজি চাষ সম্পর্কে শিখেছি। এখন নিজের পরিবারের জন্য নিরাপদ সবজি উৎপাদন করতে পারছি।’

বাজালিয়া এলাকার কৃষাণী রেশমা আক্তার পপি বলেন, ‘ফিল্ড স্কুল থেকে আমি পুষ্টি বিষয়ে নানা ধরনের জ্ঞান পেয়েছি। বিশেষ করে কোন খাবার কীভাবে খেলে পুষ্টি বজায় থাকে, সেটা জেনেছি। এখন পরিবারের সদস্যদের খাবার পরিকল্পনাও সেভাবে করি।’

পার্টানার প্রোগ্রামটি মূলত তিনটি বিষয়কে কেন্দ্রে রেখে গড়ে তোলা— ১. পুষ্টিমুখী কৃষি উৎপাদন ২. উদ্যোক্তা উন্নয়ন ৩. জলবায়ু সহনশীলতা ও স্থায়িত্ব।

এর আওতায় প্রতি ইউনিয়নে গড়ে তোলা হচ্ছে “ফিল্ড স্কুল” যেখানে স্থানীয় কৃষকদের হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে কীভাবে আধুনিক, লাভজনক ও টেকসই কৃষি করা যায়।

সাতকানিয়ার কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এই প্রোগ্রামে আমরা শুধু ধান-গম শেখাচ্ছি না। শেখাচ্ছি কীভাবে পুষ্টিকর সবজি, ফলমূল, হাঁস-মুরগির খামার চালিয়ে নিজের পরিবারের পুষ্টি নিশ্চিত করতে হয়। পাশাপাশি কীভাবে সেটাকে ব্যবসায় রূপান্তর করতে হয়।

পার্টনার প্রোগ্রামের একটি বৈপ্লবিক দিক হলো কৃষকদের হাতে প্রযুক্তি তুলে দেওয়া। কংগ্রেসে দেখা যায়, নারী ও পুরুষ কৃষকেরা তাঁদের মোবাইলে অ্যাপ ব্যবহার করে আবহাওয়া, সার দর, রোগবালাই সম্পর্কে তথ্য নিচ্ছেন।

কংগ্রেসে ছিল একটি ছোট “জ্ঞান মেলা” অংশ। সেখানে ফিল্ড স্কুলগুলোর পক্ষ থেকে চিত্র-প্রদর্শনী, ভিডিও উপস্থাপনা ও বাস্তব জীবনের সাফল্যের গল্প তুলে ধরা হয়।

এই কংগ্রেসে সবচেয়ে শক্তিশালী বার্তাগুলোর একটি আসে নারী কৃষকদের মুখ থেকে। তাঁরা জানান, ফিল্ড স্কুলে গিয়ে তাঁরা শুধু প্রযুক্তি নয়, আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছেন।

পরিশেষে কংগ্রেসের সমাপ্তি ঘোষণা করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘এই কংগ্রেস আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে— কৃষি উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শক্তি মাঠের মানুষ। আমরা চাই প্রতিটি ইউনিয়নে এমন ফিল্ড স্কুল থাকুক, যেখানে কেবল কৃষির জ্ঞান নয়, নেতৃত্ব, পুষ্টি, প্রযুক্তি এবং উদ্যোক্তাসুলভ মানসিকতা গড়ে তোলা হবে। এটাই টেকসই উন্নয়নের পথ।’

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আয়ুব আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বিত্তম কুমার সরকার, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসাইন এবং উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা শম্ভু নাথ দেবসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সাতকানিয়ায় মাদক সম্রাট ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫১ পিএম
সাতকানিয়ায় মাদক সম্রাট ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির আটক

Oplus_131072

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ছাত্রলীগ নেতা আজাদ হোসেন সাব্বিরকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজাদ হোসেন সাব্বির ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও দীর্ঘদিনের বলে স্থানীয়দের দাবি।

তবে ঠিক কি কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানাতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, বিষয়টি আমাকে জেনে দেখতে হবে।

৫ দিনের সফরে বান্দরবান আসছেন পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২৬ পিএম
৫ দিনের সফরে বান্দরবান আসছেন পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

আবুবকর ছিদ্দিক, বার্তা সম্পাদক

পাঁচ দিনের সরকারি সফরে আগামী ৬ নভেম্বর বান্দরবান আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এমপি। ৫ থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর এই সফরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস, শ্রমিকদের মৃত্যুজনিত আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখা থেকে ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক সরকারি সফরসূচিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার বেইলি রোডস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন মন্ত্রী। রাত ১১টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ট্রেনযোগে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি। পরদিন ৬ নভেম্বর শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা দেবেন। সকাল ৮টায় বান্দরবান সার্কিট হাউসে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

৭ নভেম্বর (শনিবার) সকালে চিম্বুকের উদ্দেশে যাত্রা করবেন মন্ত্রী। সকাল সাড়ে ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বান্দরবান পার্বত্য জেলার চিম্বুক রেঞ্জের ২৭ কিলোমিটার সড়কে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

একই দিন দুপুরে বান্দরবান সার্কিট হাউসে ফিরে বিশ্রাম শেষে বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় যোগ দেবেন। বিকেল ৪টায় জেলা বিএনপি আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশেও অংশ নেবেন তিনি।

৮ নভেম্বর রোববার সকাল ৯টায় ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মন্ত্রী। সকাল ১১টায় বান্দরবান জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে মৃত্যুবরণকারী শ্রমিকদের অনুকূলে মৃত্যুঘটিত আর্থিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

পরে বিকেল ৪টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে বান্দরবান ত্যাগ করবেন। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান শেষে রাতের ট্রেনে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। ৯ নভেম্বর সোমবার ভোরে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে ঢাকার বেইলি রোডস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে উপস্থিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর পাঁচ দিনের সফর শেষ হবে।

সরকারি সফরসূচিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।

মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীর এই সফরকে ঘিরে বান্দরবানে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শ্রমিক ও সমবায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১টি পদ শূন্য, শিক্ষক সংকটে ব্যাহত পাঠদান, প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উদ্বেগ

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২৪ পিএম
রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১টি পদ শূন্য, শিক্ষক সংকটে ব্যাহত পাঠদান, প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উদ্বেগ

উবাসিং মারমা, রুমা প্রতিনিধি।

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।

বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে ১১টি পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়নরত প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র তিনজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং দুজন সহকারী শিক্ষক। অথচ প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকসহ মোট আটটি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, অফিস সহায়ক ও নৈশপ্রহরী পদেও জনবল নেই। ফলে শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষক সংকটে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত
বিদ্যালয়ে ইংরেজি, গণিত, সামাজিক বিজ্ঞান, কৃষিশিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা ও ধর্মসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে বিষয়ভিত্তিক পাঠ বুঝতে পারছে না। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতি, ভালো ফলাফল অর্জন ও শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশেষ করে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সামনে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাকে ঘিরে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে সব বিষয়ে পাঠ শেষ করা এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য: শিক্ষক না থাকায় পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়ছি

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক সময় নির্ধারিত বিষয়গুলোতে ক্লাস হয় না। ফলে নিজেরা পড়াশোনা করলেও কঠিন বিষয়গুলো বুঝতে সমস্যা হয়। পরীক্ষার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রেও তারা পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাচ্ছে না।

অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে, “আমরা নিয়মিত স্কুলে আসি, কিন্তু সব বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় অনেক সময় ক্লাস হয় না। কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে তা বুঝিয়ে দেওয়ার মতো শিক্ষক পাই না। এতে আমাদের পড়ালেখায় অনেক ক্ষতি হচ্ছে।”
নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, “শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিষয় নিজেরাই পড়ার চেষ্টা করি। কিন্তু গণিত ও ইংরেজির মতো বিষয়ে শিক্ষকের সহযোগিতা ছাড়া ভালোভাবে শেখা কঠিন। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতিও ঠিকমতো নিতে পারছি না।

নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মেসিংউ মার্মা জানান , “আমাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এখন শিক্ষক না থাকায় কোন বিষয়ে কতটুকু পড়া শেষ হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে। আমরা চাই, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা হোক।

২ নং সদর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বার মংমিন মার্মা তিনি জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও দূরবর্তী পাড়ার শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া কঠিন। শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৩০০ জনের মতো সরকারি ভাবে নিয়োগকৃত বর্তমানে শিক্ষক রয়েছে তিনজন সেখানেও আবার একজন শিক্ষক রয়েছে বিএড এ প্রশিক্ষণরত। তাহলে দুইজন শিক্ষক দিয়ে কেমনে চলবে মানতে পারছি না।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, বিদ্যালয়ের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি অফিসের শূন্য পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিখিল কান্তি দেব তিনি জানান বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট হওয়াতে পালাক্রমে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে মাঝেমধ্যে হতাশ হয় এই বাচ্চাগুলোকে দেখে।বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগ শিক্ষক ইংরেজি শিক্ষক সাথে শূন্য পদে শিক্ষকগুলো খুবই অভাব তবে শুনেছি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। যদি নিয়োগ হয় তাহলে যেসব বিদ্যালয় শিক্ষক সংকট সেসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক পূরণ হওয়ার আশাবাদী রুমা উপজেলায় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রায় এগারোটি পথ শূন্য রয়েছে এ বিষয় নিয়ে খুবই হতাশে রয়েছি।

তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষক সংকট নিরসন করবে। এতে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।