লামায় শতবর্ষী ‘মাদার ট্রি’ গর্জন পাচারের মহোৎসব, রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ
মোহাম্মদ আবুল হাশেম লামা প্রতিনিধি
বান্দরবানের লামা বনবিভাগের আওতাধীন ডলুছড়ি রেঞ্জের সরই রিজার্ভ ফরেস্ট থেকে অবাধে পাচার হয়ে যাচ্ছে শতবর্ষী ‘মাদার ট্রি’ বা মা-গাছ হিসেবে পরিচিত মূল্যবান গর্জন গাছ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন এবং সরই বিট কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ও পরোক্ষ মদদে একশ্রেণীর অসাধু কাঠপাচারকারী চক্র রিজার্ভের এই মূল্যবান বনজ সম্পদ উজাড় করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরই রিজার্ভ এলাকায় থাকা বিশালাকার গর্জন গাছগুলো বনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ বিগত কিছুদিন ধরে রাতের আঁধারে এবং অনেক ক্ষেত্রে দিনদুপুরেও এসব মা-গাছ কেটে স’মিল ও অবৈধ ডিপোতে পাচার করা হচ্ছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের এত বড় বড় গাছ কেটে পাচার হয়ে গেলেও বনবিভাগের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
এলাকাবাসীর দাবি, সরই বিট কর্মকর্তা মিজানুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রিজার্ভ থেকে গর্জন গাছ কাটার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিট কর্মকর্তার মূল দায়িত্ব সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও এর সম্পদ পাহারা দেওয়া হলেও, তার রহস্যজনক ভূমিকা ও নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে চরম প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি গাছ কাটার বিনিময়ে নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সুবিধা পৌঁছে যায় সংশ্লিষ্ট বিট অফিস ও রেঞ্জ কার্যালয়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় অধিবাসী জানান, বিট কর্মকর্তা ও রেঞ্জ কর্মকর্তার নজরদারির অভাবেই সরই রিজার্ভের গর্জন গাছগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে। তারা যদি চোখ বন্ধ না রাখতেন, তবে এত বড় বড় গর্জন গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। প্রশাসনকে বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সরই বিট কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান, “আমার এখান থেকে কোনো গাছ পাচার হয় না।”
এদিকে গাছ পাচারের সার্বিক বিষয়ে জানতে ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রেঞ্জ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন ও বিট কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের দায়িত্ব পালনে এ ধরনের অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বনবিভাগের প্রশাসনিক সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা এখন কাঠগড়ায়। বনাঞ্চল রক্ষায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন ভূমিকার কারণে কোটি কোটি টাকার বনজ সম্পদ বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ধ্বংসের মুখে পড়ছে স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।
পরিবেশবাদী ও স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে সরই রিজার্ভে অবৈধভাবে গর্জন গাছ কাটার সাথে জড়িত পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রেঞ্জ কর্মকর্তা আলতাফ ও বিট কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।








