পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ, বান্দরবানে মতবিনিময় সভা
আবুবকর ছিদ্দিক, বার্তা সম্পাদক
পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য ও লোকজ জ্ঞান সংরক্ষণ এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বিকাশে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বান্দরবানে এক মতবিনিময় সভায়। সভায় স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা তাঁদের সংস্কৃতি সংরক্ষণ, চর্চা ও বিকাশের নানা বিষয় তুলে ধরেন।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক এস এম মনজুরুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামণি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম হাসানসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এসময় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ধদেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, লোকসংগীত, নৃত্য, পোশাক, উৎসব ও ঐতিহ্য জাতীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
তাঁরা আরও বলেন, স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশে সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিল্পীদের কাজের সুযোগ বাড়ানো, ঐতিহ্যবাহী শিল্পচর্চায় তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন।
বক্তারা বলেন, পাহাড়ের প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্য রয়েছে। এসব ঐতিহ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে একদিকে যেমন স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশ ঘটবে, অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এক বছরের মধ্যে বান্দরবানে উন্নত মানে কালচারাল কমপ্লেক্স তৈরি করা হবে এবং থানচি উপজেলায় যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ইনস্টিটিড আছে তা খুব দ্রুত সময়ে আরও উন্নত করা হবে।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা তাঁদের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা ও সংস্কৃতিচর্চার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে স্থানীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।








