শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

বান্দরবানে চোখের আলো ফেরাতে ফ্রি ক্যাম্প, চিকিৎসা নিলেন ১৬০ জন রোগী

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০২ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বান্দরবানে চোখের আলো ফেরাতে ফ্রি ক্যাম্প, চিকিৎসা নিলেন ১৬০ জন রোগী

আবুবকর ছিদ্দিক স্টাফ রিপোর্টার

পাহাড়ি জনপদ বান্দরবানে চক্ষু চিকিৎসাসেবায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে বিনামূল্যের চক্ষু ক্যাম্প। বান্দরবান ডায়াবেটিক হাসপাতালে শনিবার (২৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম লায়ন্স আই হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত এ ক্যাম্পে ১৬০ জন রোগী বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা ও চিকিৎসা পরামর্শ পেয়েছেন। এর মধ্যে ছানি রোগে আক্রান্ত ৪০ জনকে অপারেশনের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
প্রতি মাসের ধারাবাহিকতায় বান্দরবান ডায়াবেটিক হাসপাতালে এ বিনামূল্যের চক্ষু ক্যাম্প আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পে চট্টগ্রাম লায়ন্স আই হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আনিক এবং কেনিয়া থেকে আসা চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. অস্টিন রোগীদের চোখ পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স আই হাসপাতালের অপারেশনস ম্যানেজার মিসেস পেনহেইরো, রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর মিস ইয়াসমিন ও অপটোমেট্রিস্ট মিস মুনতাহিনা। এছাড়া বান্দরবান ডায়াবেটিক হাসপাতালের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক লিটনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা ১৬০ জন রোগীর মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ৪০ জনকে ছানি অপারেশনের জন্য নির্বাচিত করা হয়। চট্টগ্রাম লায়ন্স আই হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচিত রোগীদের ছানি অপারেশন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাদের হাসপাতালে করা হবে।
চিকিৎসকরা জানান, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের চোখে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি দেখা দিতে পারে। ক্যাম্পে এ ধরনের জটিলতা শনাক্ত হওয়া রোগীদের রেটিনার উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম লায়ন্স আই হাসপাতালে রেফার করা হবে।
আয়োজকরা জানান, পাহাড়ি এলাকার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের বিনামূল্যে পরীক্ষা, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়াই এ কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।

ইরানের শান্তি প্রস্তাবের পর কাতারের আমিরকে ট্রাম্পের ফোন

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
ইরানের শান্তি প্রস্তাবের পর কাতারের আমিরকে ট্রাম্পের ফোন

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে।

এরই মধ্যে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিকে ফোন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফোনালাপে ইরান যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই নেতা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপের তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। কাতারের আমিরের দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং যুদ্ধ বন্ধে কাতারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে কথা হয়েছে।

এ সময় আমির শেখ তামিম সংলাপ অব্যাহত রাখা, বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি এড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান।

প্রস্তাবটিতে সাতটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। এসব শর্ত পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না ইরান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের পাঠানো প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে প্রস্তাবের সাতটি শর্ত কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

অন্যদিকে, যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে ইরানের বাকি অংশও ধ্বংস করে দিতে হতে পারে। এ বিষয়ে শিগগিরই জানা যাবে।

ইরানের নতুন পারমাণবিক প্রস্তাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের অনুমোদন ছাড়া তারা কিছুই করতে পারবে না।’

একদিকে ইরানের শর্তসাপেক্ষ প্রস্তাব, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

রুমায় বিহারে নাম ভাঙ্গিয়ে হেডম্যান বিরুদ্ধে জায়গায় দখলে অভিযোগ

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৬ পিএম
রুমায় বিহারে নাম ভাঙ্গিয়ে হেডম্যান বিরুদ্ধে জায়গায় দখলে অভিযোগ

উবাসিং মার্মা,রুমা প্রতিনিধি

বান্দরবানের রুমায় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ৩৫৩ নং কোলাদি মৌজার হেডম্যান শৈচিং থুইয়ের বিরুদ্ধে।শুধু জমি দখল করেই ক্ষান্ত হননি তিনি। বরং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবের আওতায় এনে ভুক্তভোগীদের জমিতে চাষাবাদও শুরু করেছেন।

অভিযোগ আছে, হেডম্যানের দায়িত্ব ও ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের জমি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছেন শৈচিং থুই। শুধু তাই নয়, ভুক্তভোগীদের জমিতে চাষাবাদ শুরু করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এতে নিজেদের পৈতৃক ও ভোগদখলীয় জমি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুটি কাগজের হোল্ডিং নাম্বার যেমন ভিন্নতা রয়েছে তেমনি চৌহদ্দি পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু বৌদ্ধ বিহারে নাম উল্লেখ করা হলেও জায়গাটি ব্যক্তির মালিকানাধীন জায়গা। আর প্রকৃত মালিকের জায়গায়টি কাগজের সাথে ওয়ারিশ নাম প্রমান রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন তৈরির মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকাবাসীর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও বিভেদ সৃষ্টি করে বিরোধকে আরও জটিল করে তোলার অভিযোগও রয়েছে। হেডম্যানের পদ-পদবি ও সামাজিক প্রভাবের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে ভুক্তভোগীরা নিজেদের জমির অধিকার নিয়ে এক ধরনের অসহায় পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

দুটি কাগজের জবানবন্দি খটিয়ে দেখা গেছে, জবানবন্দিতে ৩৫৩ নং কোলাদি মৌজায় ২৭ নং হোল্ডিয়ে পাঁচ একর ৩য় শ্রেনী পাহাড় দেখানো হয়েছে। যেখানে মালিক হিসেবে নাম রয়েছে মংসিংগ্য মারমা। সেখানে চৌহুদ্দিতে উল্লেখ রয়েছে উত্তরে শীল পাহাড় দক্ষিণে দাব্রো ক্ষ্যং ঝিড়ি ও পূর্বে পাহাড় পশ্চিমে শঙ্খ নদী দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে হেডম্যান দাবি করা জবানবন্দি দেখানো হয়েছে একই মৌজায় ৩য় শ্রেনীর অর্থাৎ পাহাড় জায়গা পরিমান ১ একর। সেখানে মালিক হিসেবে নাম রয়েছে আগাওয়াইং ছা ভিক্ষু নামে। চৌহদ্দি উল্লেখ করা হয়েছে উত্তরে পলিকা ঝিড়ি দক্ষিনে পাহাড় ও পূর্বে প্রুথোয়াই অং পশ্চিমে পাহাড়। কাগজের কলমে বৌদ্ধ বিহারে জায়গা বলে কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

এদিকে দুই জায়গাটিতে পাহাড় আর চৌহুদ্দি ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সাঙ্গু যে চরটি উঠেছে সেখানে প্রকৃত মালিক দাবি করছেন জায়গার মালিকের ওয়ারিশ পিপলু মারমা। কিন্তু সেখানে বাদী সাথে কাগজের আর চৌহদ্দি মিল না থাকলেও জোড়পূর্বকভাবে খাস ও বিহারে নাম ভাঙ্গিয়ে দখলে নেন ওই মৌজার হেডম্যান শৈচিং থুই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভুক্তভোগী জায়গাতে সাঙ্গু নদীর চড়কে খাস বলে কয়েকজন নারী বীজ বপন করছেন। সেখানে গ্রামের ১১জন নারী দলবেধে কাজ শুরু করেছেন। তবে কাগজের কলমের জায়গাটি থেকে এক কিলোমিটার দূরে। বিহারে নামে হেডম্যান দাবি করলেও বিহারে নামে কোন অস্তিত্ব জায়গা পাইনি।

দখলকৃত জমিতে কাজ করছেন ১১জন নারী। তাদের মধ্যে কথা হয় সিংনুপ্রু সাথে। তিনি বলেন, জায়গায় কাদের কার আমরা জানি নাহ। রাতে বিহার থেকে মাইকে বলা হয় ভোরে জমিতে বীজ বপন করতে হবে বলে সেজন্য ভিক্ষুর কথায় বীজ বপন এসেছি। মুল ঘটনা কি কোন কিছুই জানি নাহ আমরা।

পলিকা বৌদ্ধ বিহারে অধ্যক্ষ ইন্দ্রিয় ভিক্ষু বলেন, জমিতে চাষ বা বীজ লাগাতে নির্দেশনা আমি দেয়নি। এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি নাহ। তবে দখল না করে পাড়াবাসীরা মালিকের সাথে সমাধান করলে হয়। কিন্ত এত বড় ঘটনা না করলেও হেডম্যান পারত।

অভিযোগ বিষয়ে পলিকা পাড়া বৌদ্ধ বিহারে সভাপতি উবামং মারমা বলেন, আমি আগে বিহারে কমিটিতে ছিলাম নাহ। জায়গায় দখল করতে হেডম্যান আমাকে দুদিনের জন্য সভাপতি বানানো হয়। আর আমাকে বাদি করে হেডম্যান নিজেই অভিযোগ দাখিল করেন। স্বাক্ষর দিতে বলেছে আমি দিয়েছি কেননা আমি অশিক্ষিত কি লেখা আছে আমি পড়তে জানি নাহ।

পলিকা পাড়া গ্রামপ্রধান দুংখি অং মারমা বলেন, হেডম্যান নিজেই লিখে আমাকে একটা কাগজ দিয়েছে। সভাপতি না থাকায় আমি পক্ষে হয়ে স্বাক্ষর করেছি। আর জায়গাটি খাস নাকি মালিকানাধীন সেটা হেডম্যান বলতে পারবে।

ভুক্তভোগী পিপলু মারমা বলেন, আমার বাবা বেঁচে থাকাকালীন অনেক স্থানে জায়গা দান করেছে। কিন্তু এখানে আমার চৌহদ্দি আলাদা আর দখল করতে যে কাগজ দেখানো হয়েছে সেটি চৌহদ্দি আলাদা। বাবা যখন বেঁচে ছিল তখন কেউ দাবি করিনি। বাবার মৃত্যু দুই মাস হেডম্যান নিজেই দখল করতে নেমেছে। আর হাতিয়ার হিসেবে গ্রামবাসীকে ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, হেডম্যান কখনো অন্যের জায়গা,কখনো খাস আবার গ্রামবাসী সবশেষ বিহারে জায়গা বলে দাবি করে আসছে। যার কারণে আমার জায়গায় দখল করেছে আর বর্গা চাষীকেও হেনস্থা করেছে হেডম্যান। আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

এবিষয়ে ৩৫৩ নং কোলাদি মৌজার হেডম্যান শৈচিং থুই মারমা দাবি করে বলেন, তাদের চৌহোদি আলাদা ভিক্ষু চৌহুদি ও আলাদা। কিন্তু যে নদীর চর যেটা আছে সেটা খাস। যার কারণে সেখানে বিহারে নামে দখল করেছি পাড়াবাসী সম্মতিক্রমে। আর এই জায়গায় বিহার কাছে দান করে সেখানে ভাড়া হিসেবে দেয়া হবে।

এবিষয়ে হেডম্যান অস্বীকার করে বলেন, এখানে কারো জায়গা দখল করেনি। যেহেতু তাদের সীমানা নদীর পর্যন্ত সেহেতু নদীর যে চর আছে সেটি খাস বলেছি। যার কার‍ণে পাড়াবাসী কমিটি করে দখল করেছি।

অভিযোগ বিষয়ে রুমা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, পাঁচ একর দখল নিয়ে এক শিক্ষক কোলাদি হেডম্যান বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। আমরা তদন্ত করে কি ব্যবস্থা নেয়া যায় সেটির দিকে আগাচ্ছি।

‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে বেপরোয়া মানিক

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১০ পিএম
‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে বেপরোয়া মানিক

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সমন্বয়ক পরিচয় ব্যবহার করে একটি চক্রের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। নিজেদের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে উঠে চালক ও সহকারীদের হেনস্তা, কাউকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করা, অবৈধ যানবাহন আটকের পর ট্রাফিক পুলিশের কাছে তদবির করে ছাড়িয়ে নেওয়াসহ নানা কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রশক্তির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মো. সাঈদ হোসেন মানিক। সম্প্রতি প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাঁচ বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর থেকে তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। এর মধ্যেই ট্রাফিক পুলিশের কাছে তদবির করে একটি মোটরসাইকেল ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সাতকানিয়ার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা কেরানীহাটে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করছিল ট্রাফিক পুলিশ। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল আটক করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে সেখানে যান ছাত্রশক্তি নেতা মো. সাঈদ হোসেন মানিক। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একটি মোটরসাইকেল ছাড়িয়ে দিতে ট্রাফিক পুলিশের কাছে তদবির করেন।

তবে ট্রাফিক ইনচার্জ মো. মাহবুব তাকে জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বৈধ ডকুমেন্টস থাকলে মোটরসাইকেল ছেড়ে দেওয়া হবে। পরে সংশ্লিষ্ট চালক মোটরসাইকেলের কাগজপত্র নিয়ে এলেও তার কাছে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। এ কারণে ট্রাফিক পুলিশ মামলা দেওয়ার উদ্যোগ নিলে সেখানে সমন্বয়ক পরিচয় দেন সাঈদ হোসেন মানিক। অভিযোগ রয়েছে, নিজের সমন্বয়ক পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে শেষ পর্যন্ত মোটরসাইকেলটি ছাড়িয়ে নেন তিনি।

ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হন এ প্রতিবেদক। এ সময় কেরানীহাট পুলিশ বক্সের সামনে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সাঈদ হোসেন মানিক কোনো কথা বলেননি। তবে তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন যুবক এ প্রতিবেদককে পুলিশের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করেন।

পরে কেরানীহাট পুলিশ বক্সের ট্রাফিক ইনচার্জ মো. মাহবুবের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বিব্রতবোধ করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আসলে কী আর বলব ভাই। সে সমন্বয়ক পরিচয় দিল, আমার তো কিছু করার নেই।’

ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালনের সময় এ ধরনের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ তদবির করলে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিশেষ করে চালকের লাইসেন্স না থাকার মতো বিষয়েও যদি পরিচয় ও প্রভাবের কারণে ছাড় দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে সড়কে আইন প্রয়োগের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়ে।

মিনিবাসে মব সৃষ্টি ও চালক-সহকারীকে হেনস্তার অভিযোগ

সাঈদ হোসেন মানিকের বিরুদ্ধে গণপরিবহনে মব সৃষ্টি করে চালক ও সহকারীদের হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম থেকে আগত মিনিবাস আটকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কথিত অভিযোগ তুলে চালক ও সহকারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। কখনো তাদের হেনস্তা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিগত উদ্যোগে গাড়ি আটকে চালক-সহকারীকে হেনস্তা কিংবা জনসমাগম তৈরি করে চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটলে তা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার শামিল হতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবহন শ্রমিকেরা অনেক সময় প্রতিবাদ করার সাহস পান না। আবার সাধারণ যাত্রীরাও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখে পড়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে থাকেন।

পুলিশের বিরুদ্ধে বক্তব্য, বাড়ছে বিতর্ক

বিভিন্ন সময় সাতকানিয়া থানার সামনে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে সাঈদ হোসেন মানিকের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, থানার সামনে একটি ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালন না করার অভিযোগ তুলছেন।

পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে নাগরিকদের প্রশ্ন তোলার অধিকার রয়েছে। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা বা অনিয়ম থাকলে তার সমালোচনা এবং প্রতিকার দাবি করাও স্বাভাবিক। তবে সেই সমালোচনার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে বাধা সৃষ্টি, জনসমাগম তৈরি করে চাপ প্রয়োগ কিংবা ব্যক্তিগত পরিচয় ব্যবহার করে আইন প্রয়োগে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠলে তা আলাদা করে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

হামলা-মবের ঘটনায় চাপে পুলিশ

গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পুলিশের অবকাঠামোগত সংস্কার ও কার্যক্রমে পরিবর্তন এলেও মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সদস্যদের মনোবল নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে পুলিশের ওপর হামলা, আসামি ছিনিয়ে নেওয়া এবং মব সৃষ্টির মতো ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পুলিশের ওপর ২৭১টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে গত মে মাস পর্যন্ত পুলিশের ওপর ৮৭০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় পুলিশের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে পুলিশের কাজে হস্তক্ষেপ করলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলার পাশাপাশি আইন প্রয়োগের সময় পরিচয় ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠলে তা জনমনে দ্বৈত অবস্থানের প্রশ্ন তৈরি করে।

সচেতন মহলের মতে, পুলিশের কোনো সদস্য দায়িত্বে অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা যেতে পারে। একইভাবে কোনো পরিবহন চালক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে কিংবা কেউ অবৈধ যানবাহন চালালে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের পরিচয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করা কিংবা সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। অন্যথায় স্থানীয় পর্যায়ে আইন ও কর্তৃত্বের পরিবর্তে ব্যক্তির প্রভাব প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা তৈরি হবে।

যা বলছে পুলিশ

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের কাছে পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এবং স্থানীয়ভাবে সমন্বয়ক পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশ আগের চেয়ে অনেক বেশি কাজ করছে। কে কী বলছে, সেটা আমাদের দেখার বিষয় না।’

অন্যদিকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রশক্তির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মো. সাঈদ হোসেন মানিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাতকানিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ জনপদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও পুলিশের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন জরুরি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা। তাদের মতে, অপরাধ বা অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তার বিচার হবে আইনের মাধ্যমে; কোনো ব্যক্তির পরিচয় বা প্রভাবের ভিত্তিতে নয়।