সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

বিভিন্ন দেশে এস আলমের সাম্রাজ্য নিয়ে তদন্ত

দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বিভিন্ন দেশে এস আলমের সাম্রাজ্য নিয়ে তদন্ত

বিতর্কিত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে (এস আলম) ঘিরে আইনি ও আর্থিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য নিয়ে তদন্ত চলছে। তার এই সাম্রাজ্য চট্টগ্রাম থেকে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, পাচার করা অর্থ দিয়েই এই সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন এস আলম।

চলতি বছরের মে মাসে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তার বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সাইপ্রাসে তার ও তার স্ত্রীর নামে থাকা একটি বিলাসবহুল আবাসিক সম্পত্তি আদালতের আদেশে জব্দ করা হয়, বাংলাদেশে একটি আদালত তার অনুপস্থিতিতেই তাকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেন। আর সিঙ্গাপুরে তদন্তকারীরা তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য নিয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে। শুধু সিঙ্গাপুরেই তার সম্পদের পরিমাণ ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বলে জানা গেছে।

এখন নজর কুয়ালালামপুরের দুটি বিলাসবহুল হোটেলের দিকে। হোটেল দুটি এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এগুলো হলো কুয়ালালামপুরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত রেনেসাঁ কুয়ালালামপুর হোটেল অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার এবং এর পাশের ফোর পয়েন্টস বাই শেরাটন কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টার।

হোটেল দুটির মালিক ভেনচুরা ইন্টারন্যাশনাল এসডিএন বিএইচডি (আগে নাম ছিল ক্যানালি লজিস্টিকস এসডিএন বিএইচডি)। এটি এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান বলে জানা গেছে। ২০১৬ সালে আইজিবি বিএইচডি (ওই সময় নাম ছিল আইজিবি কর্প বিএইচডি) মূল রেনেসাঁ হোটেলটি ৭৬৫ মিলিয়ন রিঙ্গিতে ভেনচুরা ইন্টারন্যাশনালের কাছে বিক্রি করেছিল।

কোম্পানি-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ভেনচুরা ইন্টারন্যাশনালের শতভাগ মালিকানা রয়েছে ওয়াইআইএফ হোল্ডিং মালয়েশিয়া এসডিএন বিএইচডির হাতে। আবার এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে আছেন ওং ওয়াই চিয়ং, পু সিন ইয়ি এবং আরিভালাগান চোকালিংগাম। প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ওয়াইআইএফ হোল্ডিং পিটিই লিমিটেডের মালিকানাধীন।

ওয়াইআইএফ হোল্ডিং পিটিই লিমিটেডের প্রধান কাজ হলো আর্থিক ও বিমাবহির্ভূত খাতে সক্রিয় কোম্পানিগুলোর হোল্ডিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করা। এর শেয়ারহোল্ডার হিলড্রিকস এশিয়া গ্রোথ ফান্ড ভিসিসি। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক চু কি সিয়ং। একইসঙ্গে তিনি হিলড্রিকস ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী, নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা।

হিলড্রিকস ক্যাপিটালের বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে রয়েছে মালয়েশিয়ার রাবার কম্পাউন্ড প্রস্তুতকারী ও পরিবেশক জিআইআইবি হোল্ডিংস বিএইচডি।

এর আগে হিলড্রিকস এশিয়া গ্রোথ ফান্ড–১-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান এইচএজিএফ ইনভেস্টমেন্ট (আই) পিটিই লিমিটেড জিআইআইবির ১৬.৫৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক ছিল। তবে কিছু শেয়ার বিক্রির পর তারা আর উল্লেখযোগ্য শেয়ারহোল্ডার হিসেবে থাকেনি।

জিআইআইবি দুর্নীতি তদন্ত, করপোরেট ভীতি প্রদর্শন, আইনি বিরোধ ও আর্থিক ক্ষতির মতো নানা কারণে আলোচনায় এসেছে।

অন্যদিকে, ২০২০ সালে বড় ধরনের সংস্কার কাজের জন্য ভেনচুরা ইন্টারন্যাশনাল রেনেসাঁ হোটেলটি বন্ধ করে দেয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে এটি মালয়েশিয়ায় ম্যারিয়টের প্রথম দ্বৈত-ব্র্যান্ডের সম্পত্তি হিসেবে পুনরায় চালু হয়। পশ্চিম অংশে রেনেসাঁ এবং পূর্ব অংশে নতুন ফোর পয়েন্টস বাই শেরাটন পরিচালিত হচ্ছে। ম্যারিয়টের সরকারি ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনো উভয় হোটেলের মালিক হিসেবে ভেনচুরা ইন্টারন্যাশনালের নাম উল্লেখ রয়েছে।

এ মুহূর্তে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ এই হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে বা সম্পত্তিগুলোর ওপর জব্দাদেশ জারি হয়েছে- এমন কোনো তথ্য নেই।

তবে সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুর, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস ও জার্সি পর্যন্ত বিস্তৃত আন্তর্জাতিক তদন্তের কারণে, বাংলাদেশের সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ায় থাকা এস আলম-সংশ্লিষ্ট সম্পদগুলোও তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। এ ঘটনার সময়কাল কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রীর সফর

নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথময় বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন। জানা গেছে, প্রথম আমন্ত্রণ এসেছিল ভারত থেকে, এরপর মালয়েশিয়া এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের কাছ থেকে।

গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার সফরটি নিশ্চিত হয়। সে হিসেবে আগামী ২১ ও ২২ জুন প্রধানমন্ত্রীর কুয়ালালামপুর সফরের কথা রয়েছে। সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ারও কথা রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ২৪ মে বাংলাদেশের হাইকমিশন মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করে। একই সপ্তাহে, ১৯ মে, সাইপ্রাসের আদালত এস আলমের সম্পত্তি জব্দ করেছিল। এরপর হাইকমিশনের সঙ্গে আলোচনার পর মালয়েশিয়া ইতিবাচক সাড়া দেয়। ১ জুন আনোয়ার ইব্রাহিম আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ নিশ্চিত করেন।

সফরে কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত না হলেও অভিবাসন, শ্রমবাজার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শিক্ষা সহযোগিতার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বর্তমানে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন।

তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরের জন্য এমন একটি দেশকে বেছে নিয়েছেন, যেখানে এস আলম গ্রুপের সবচেয়ে দৃশ্যমান আন্তর্জাতিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত দুটি ম্যারিয়ট-ব্র্যান্ডের হোটেল রয়েছে। কুয়ালালামপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থিত এই সম্পদগুলোর উপস্থিতি পর্যবেক্ষকদের নজর এড়াবে না।

সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার চালু করা। আধুনিক যুগের ঋণদাসত্বের অভিযোগ এবং কর্মীদের অতিরিক্ত ঋণগ্রস্ততার মতো অভিযোগ ওঠার পর ২০২৪ সাল থেকে এই শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে।

২০২৩ সালে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায়, যখন অনেক শ্রমিক প্রায় ৬,৬০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করে মালয়েশিয়ায় এসে দেখতে পান, নিয়োগদাতাদের প্রতিশ্রুত চাকরিই বাস্তবে নেই। ২০২৪ সালের শুরুতে মালয়েশিয়া শ্রমিক প্রবেশ বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশে এজেন্টদের অর্থ পরিশোধ করা প্রায় ১৮ হাজার কর্মী আর দেশটিতে যেতে পারেননি।

নতুন সরকারের অভিযানের মুখে এসব নিয়োগ এজেন্টের অনেকেই আত্মগোপনে চলে যান। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের সময় রাজনীতিবিদ ও এই নিয়োগ এজেন্টরা যোগসাজশের মাধ্যমে শ্রম রপ্তানি খাত থেকে বড় ধরনের সুবিধা নিতেন।

জনশক্তি খাতের এক কর্মকর্তা বলেন, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে শ্রমিক নিয়োগ পুনরায় চালু করা তারেক রহমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লক্ষ্য। কারণ, প্রবাসী আয় বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।

তবে তার ভাষ্য- বাংলাদেশ বর্তমান নিয়োগব্যবস্থা চালু রাখতে চায় না। তারা চায়, মালয়েশিয়া সরকার প্রভাবশালী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আরও বেশি বাংলাদেশি কোম্পানিকে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের সুযোগ দিক।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে স্বীকৃত ১০২টি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে ৪৩২টি নিয়োগ সংস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

বেস্টিনেটের প্রতিষ্ঠাতা দাতুক সেরি আমিনুল ইসলাম আবদুল নূর জন্মসূত্রে বাংলাদেশি হলেও বর্তমানে মালয়েশিয়ার নাগরিক। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালে বাংলাদেশের নতুন সরকার আমিনুল এবং তার সহযোগী রুহুল আমিনকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানায়। বিষয়টি এখনো দুই দেশের সরকারের পর্যায়ে আলোচনাধীন।

দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় সম্পদ পুনরুদ্ধার ও আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে সহযোগিতা আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে স্থান পাবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এমন এক সময়ে বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্ক উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার মধ্যে রয়েছে, যখন মালয়েশিয়ায় এস আলমের সম্পদ নিয়ে নজরদারি এবং শ্রমবাজার পুনরায় চালুর চাপ উভয়ই বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, কুয়ালালামপুরে ৯১৯ কক্ষবিশিষ্ট এই হোটেল কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রির জন্য বাজারে তোলা না হলেও কয়েক বছর আগে সম্ভাব্য বিক্রিমূল্য হিসাবে প্রায় ১.২৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সম্পত্তি সংশ্লিষ্ট অনেক এজেন্টের মতে, দামটি বেশি এবং প্রকৃত মূল্যায়ন ৮৫০ থেকে ৯৫০ মিলিয়ন রিঙ্গিতের মধ্যে হওয়াই বেশি যৌক্তিক।

 

টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১১ পিএম
টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

টাকা না দিলে থানায় আটক ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। সেই অর্থ না পেলে থানায় তোলা ছবি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আটক ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো প্রেস রিলিজে আটক ব্যক্তির ছবি ব্লার করা অবস্থায় দেওয়া হলেও, একই ব্যক্তির অব্লার ছবি এর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন ভিন্নতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন থাকে, তবে সেই নীতি সবক্ষেত্রেই সমানভাবে অনুসরণ করা উচিত। অন্যথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাঁর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হয়ে যায়। এতে আদালতে বিচার শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি, ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়া থানায় আটক একাধিক ব্যক্তির ছবি প্রেস রিলিজ প্রকাশের আগেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, থানার ভেতরে তোলা ছবি কীভাবে এত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌঁছে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক স্বজনকে আটকের পর বিভিন্নভাবে টাকার কথা বলা হয়। টাকা দিতে না পারার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি থানায় তোলা তাঁর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পরিচিতজনরা ফোন করে জানতে চান কী হয়েছে। এতে আমরা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, আইনি প্রক্রিয়া চলার আগেই একজনের ছবি এভাবে প্রকাশ করে দেওয়া ঠিক নয়। পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও সমাজের মানুষের কাছে সেই অপবাদ থেকেই যায়।

আরেকজন অভিযোগ করেন, ছবি প্রকাশ করে সামাজিক চাপ তৈরি করা হয় বলে আমাদের মনে হয়েছে। এতে পরিবার ভয় ও মানসিক চাপে থাকে। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া তাঁর সম্মান ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা তাঁর ছবি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সামাজিক ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে এমন ছবি প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যদিও এর আগে কয়েকবার এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেছিলেন, থানা থেকে কোনো ব্যক্তির ছবি ফাঁস করা হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবি ছড়ায়, সেগুলোর উৎস সম্পর্কে  জানা নেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব।

বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান  প্রতিনিধি:

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব মেলাসহ নানা আয়োজনে বান্দরবানে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় যুব ভবনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক অংজাই উই চাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা জামায়াতের আমীর এসএম আব্দুস সালাম আজাদ,বান্দরবান ইসলামিক ফাউণ্ডেশন উপপরিচালক মো সেলিম উদ্দিন,বান্দরবান প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,বিএনপি নেতা মো.আবু তাহের।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বান্দরবান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনায়েত করিম। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিপিসি মোখলেসুর রহমান, বান্দরবানের বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী, বালাঘাটা ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো:আলী’সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, যুব সংগঠক ও তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার লুবু প্রু মারমা।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি যুব মেলায় তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণের চেক বিতরণ ও ৩টি যুব সংগঠনের নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন,দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

মোহাম্মদ আবুল হাশেম লামা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ হলেও বরাবরের মতো এবারও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বোধিছড়াস্থ ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬০ জনেই পাশ করেছে। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পেয়েছে ১৭ জন, এতে পাশের হার শতভাগ। সে মতে জেলার অন্যান্য কলেজের চেয়ে ফলাফলে এগিয়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বান্দরবান জেলার ১৪ টি কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ থেকে ৩টি বিভাগে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪জন, এতে ‘এ’ প্লাস ৫জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৯জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১২জন, এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস ৪জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৮জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় ৩৪জন অংশ গ্রহণ করে ‘এ’ প্লাস ৮জন, ২৫ জন ‘এ’ গ্রেড ও ১ জন ‘এ’ মাইনেস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। প্রকাশিত ফলাফলে শতভাগ উত্তীর্ণ কলেজের মধ্যে শিক্ষার্থী ও ‘এ’ প্লাস সংখ্যায় কোয়ান্টাম কসমো কলেজের অবস্থান জেলায় শীর্ষে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার সরকারী মাতামুহুরী কলেজ থেকে একই পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৫৫জন। এর মধ্যে পাশ করে মাত্র ২৭৮জন। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পায় ৫জন, পাশের হার ৩৬.৮২ । চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পরীক্ষা দেয় ৪৯জন, এর মধ্যে পাশ করে ৬জন, পাশের হার ১২.৭৭। হেফাজতুর রহমান কলেজ থেকে পর এতে পাশের হার শরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২৪জন শিক্ষার্থী, পাশ করে ১১জন, পাশের হার ৪৬.০০। লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৭জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৬জন, পাশের হার ৩৫.২৯।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কলেজের হোস্টেলে ছিলাম। আমাদের শিক্ষকরা যে পরিমাণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সার্বক্ষনিক মনিটরিং এ রেখেছেন তাতে ভালো ফলাফল না করে উপায় নেই। তাই সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

দিক-নির্দেশনা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ক্লাশ পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রদান এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ-এ ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ।
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানায়, সর্বোচ্চ এ প্লাস ও শতভাগ পাশের হারে শীর্ষ স্থান অর্জন করে লামা উপজেলার ভারমূর্তি উজ্জ্বল করেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। কলেজগুলোর এ র‌্যাংকিং করা হয় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জিপিএ-৫ ও পাশের হারের ভিত্তিতে।