সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে কীভাবে চুক্তিতে রাজি করাল পাকিস্তান, কী হয়েছিল শেষ কয়েক ঘণ্টায়?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ১২:৪৪ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে কীভাবে চুক্তিতে রাজি করাল পাকিস্তান, কী হয়েছিল শেষ কয়েক ঘণ্টায়?

একশ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, বারবার ভেঙে পড়ার মুখে শান্তি আলোচনা, আর শেষ মুহূর্তে নতুন করে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা— সবকিছু পেরিয়ে অবশেষে সমঝোতার পথে হাঁটতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। কিন্তু কীভাবে এমন একটি চুক্তি সম্ভব হলো? পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের দাবি, আলোচনার শেষ কয়েক ঘণ্টা ছিল সবচেয়ে সংকটপূর্ণ। একাধিকবার আলোচনা থেমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা এবং ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতাই শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও তেহরানকে সমঝোতার টেবিলে ধরে রাখতে সক্ষম হয়। খবর আল জাজিরা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার শেষ পর্যায়ে এমন অনেক মুহূর্ত এসেছিল, যখন মনে হচ্ছিল আলোচনা ভেঙে যাবে। তবে প্রতিবারই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আলোচনাকে সচল রেখেছিলেন বলে সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় পরিষদে জানান তিনি।

শেহবাজ বলেন, ‘এই পুরো সময়ে তিনি দিন-রাত জেগে কাজ করেছেন’। তার ভাষায়, আসিম মুনির ‘যুদ্ধের আগুন নেভাতে দিন-রাত উৎসর্গ করেছেন’। তিনি বলেন, বহুবার মনে হয়েছিল আলোচনা থেমে যাবে, কিন্তু সেনাপ্রধান হাল ছাড়েননি। এই যাত্রা যদি অব্যাহত না থাকত, তাহলে শান্তির স্বপ্ন ভেঙে যেত বলেও জানান শেহবাজ।

ফিল্ড মার্শাল কী রাষ্ট্রীয় সম্মাননা না আন্তর্জাতিক, আসিম মুনির যেভাবে ছাপিয়ে গেলেন আইয়ূব খানকে
আল জাজিরা বলছে, জনসমক্ষে প্রায় পুরোপুরি আড়ালে থাকা এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে শেহবাজের এমন বিস্তারিত মন্তব্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে যে, কীভাবে পাকিস্তান এমন একটি সমঝোতা সম্ভব করেছে, যা অনেকের কাছেই প্রায় অসম্ভব বলে মনে হয়েছিল। তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননের নাগরিক। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।

আর পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক সাফল্যের পর শেহবাজ উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, তার দল এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভিরও প্রশংসা করেন। পাশাপাশি মধ্যস্থতায় ভূমিকার জন্য কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও চীনের নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আল জাজিরার পক্ষ থেকে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনও মন্তব্য করেনি।

‘অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি’

পাকিস্তান অস্তিত্বের সংকটে পড়লে অর্ধেক বিশ্বকে নিয়ে ডুববে: আসিম মুনির
আল জাজিরা বলছে, সোমবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেহবাজ শরিফ প্রথম এই চুক্তির ঘোষণা দেন। চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে। এর কিছুক্ষণ পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন হয়েছে।’

আগামী শুক্রবার জেনেভায় চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে এবং এর আয়োজক হবে পাকিস্তান। ইরানের মেহর বার্তাসংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং দেশটির আশপাশে মোতায়েন থাকা বাহিনী সরিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

চুক্তির আওতায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কার্যত বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালি আবার স্বাভাবিকভাবে চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ করা সম্পদও পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনার সময় ধাপে ধাপে ছাড় করা হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে দুই পক্ষ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা করবে।

‘আরও কঠোর জবাব দেয়া হবে’, ভারতকে আসিম মুনিরের হুঁশিয়ারি
তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থনের বিষয়টি আপাতত আলোচনার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মেহর। আর এই আলোচনা হয়েছে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে। তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত হওয়ার পর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সোমবার শেহবাজ শরিফ বিশেষভাবে মোজতবা খামেনির নাম উল্লেখ করে বলেন, আলোচনার সময় তিনি অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে অসাধারণ প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন।

‘হাল না ছাড়া কূটনীতি’

পরোক্ষ বৈঠক নয়, আসিম মুনিরের সভাপতিত্বে ইতিহাস গড়ল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
তবে এই পর্যায়ে পৌঁছানোর পথ মোটেও সহজ ছিল না। গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্পের দেয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা ছিল খুবই নাজুক।

পরে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানান, আসিম মুনির ও শেহবাজ শরিফের ‘ব্যক্তিগত অনুরোধে’ ট্রাম্প সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দেন। ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭৯ সালের পর দুই দেশের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরাসরি যোগাযোগ।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ওই আলোচনায় অংশ নিলেও কোনও চুক্তি ছাড়াই তা শেষ হয়। এরপর কয়েক সপ্তাহ মুখোমুখি আলোচনা আর শুরু হয়নি। এক পর্যায়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রয়োজন হলে দুই পক্ষ ফোনেও কথা বলতে পারে।

যেভাবে বিশ্ব মঞ্চে প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়ে উঠলেন পাকিস্তানের আসিম মুনির
এদিকে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চালিয়ে গেলেও প্রকাশ্যে অগ্রগতির বিষয়ে খুব কমই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। পাকিস্তানের সাবেক কূটনীতিক জওহর সেলিম বলেন, ইসলামাবাদের মধ্যস্থতার এই প্রক্রিয়া আসলে কূটনীতিতে ‘হাল না ছাড়া’ মনোভাবের একটি উদাহরণ।

তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘এটা এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে কী বদলেছে, সেই প্রশ্ন নয়। বরং এটি দেখায় যে উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য কোনও মধ্যস্থতাকারী দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত সমাধান আনতে পারে।’

তার মতে, পাকিস্তানের কাজ ছিল শুধু দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে সেতুবন্ধন করা নয়, বরং বিশেষ করে ইরানের ভেতরে বাস্তববাদী ও কট্টরপন্থিদের মধ্যকার বিভাজন সামাল দিতেও সহায়তা করা।

সেলিম বলেন, ‘পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে— বিশ্বস্ত বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী ও নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা।’

চীনের সম্পৃক্ততা

তবে পাকিস্তান একা কাজ করেনি। চলতি বছরের ৩১ মার্চ পাকিস্তান ও চীন যুদ্ধ বন্ধে পাঁচ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করে। হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের কারণে চীনের তেল ও গ্যাস আমদানিতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থেকেই বেইজিং এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছিল।

এরপর মে মাসে আসিম মুনির দ্বিতীয়বারের মতো তেহরান সফর করেন। তার সঙ্গে ছিলেন মহসিন নকভি। পাকিস্তানের এই প্রভাবশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে সোমবার উল্লেখ করেন শেহবাজ শরিফ।

একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও একাধিকবার ইসলামাবাদ সফর করেন। তিনি আলাদাভাবে আসিম মুনির ও শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। এক সফরে আরাগচি বলেছিলেন, ‘ফল না আসা পর্যন্ত’ পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে তেহরান।

শেষ মুহূর্তের টানাপোড়েন

গত শনিবার আলোচনার শেষ পর্যায়ে ইসহাক দার সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন বলে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানান।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে পাকিস্তানের ধারাবাহিক ও অব্যাহত মধ্যস্থতার প্রশংসা করেন।

একই দিন শেহবাজ শরিফ ঘোষণা দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ‘চূড়ান্ত সম্মতিপূর্ণ খসড়া’ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা কখনও এতটা কাছে আসেনি’। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য তাদের আলোচক দল শিগগিরই কোথাও যাচ্ছে না। এতে বোঝা যায়, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা ছিল।

এছাড়া চুক্তির তথ্য ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলা হলে তেহরানে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ প্রশ্ন তোলেন, ওয়াশিংটনের আদৌ তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ইচ্ছা বা সক্ষমতা আছে কি না।

তবে কঠোর বক্তব্যের মধ্যেও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইঙ্গিত দেন যে কূটনীতির পথ এখনও খোলা রয়েছে।

পাকিস্তানি কর্মকর্তারা অবশ্য আলোচনার শেষ মুহূর্তের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে বা কীভাবে সমঝোতাটি টিকিয়ে রাখা গেল, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে ঠিক কী ঘটেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

তবে জানা গেছে, বৈরুতে হামলার জেরে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল, তার কিছুক্ষণের মধ্যেই শেহবাজ শরিফ এক্সে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তির ঘোষণা দেন। আর তার কয়েক মিনিট পর ট্রাম্পও সেটি নিশ্চিত করেন।

আর সেটাকে সামনে এনে সোমবার পার্লামেন্টে আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ বলেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টার জন্য পাকিস্তান যে সম্মান ও মর্যাদা পেয়েছে, তা অর্জনের জন্য বহু দেশ দশকের পর দশক চেষ্টা করেছে।’

সূত্র: চ্যানেল২৪

টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১১ পিএম
টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

টাকা না দিলে থানায় আটক ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। সেই অর্থ না পেলে থানায় তোলা ছবি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আটক ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো প্রেস রিলিজে আটক ব্যক্তির ছবি ব্লার করা অবস্থায় দেওয়া হলেও, একই ব্যক্তির অব্লার ছবি এর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন ভিন্নতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন থাকে, তবে সেই নীতি সবক্ষেত্রেই সমানভাবে অনুসরণ করা উচিত। অন্যথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাঁর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হয়ে যায়। এতে আদালতে বিচার শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি, ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়া থানায় আটক একাধিক ব্যক্তির ছবি প্রেস রিলিজ প্রকাশের আগেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, থানার ভেতরে তোলা ছবি কীভাবে এত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌঁছে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক স্বজনকে আটকের পর বিভিন্নভাবে টাকার কথা বলা হয়। টাকা দিতে না পারার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি থানায় তোলা তাঁর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পরিচিতজনরা ফোন করে জানতে চান কী হয়েছে। এতে আমরা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, আইনি প্রক্রিয়া চলার আগেই একজনের ছবি এভাবে প্রকাশ করে দেওয়া ঠিক নয়। পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও সমাজের মানুষের কাছে সেই অপবাদ থেকেই যায়।

আরেকজন অভিযোগ করেন, ছবি প্রকাশ করে সামাজিক চাপ তৈরি করা হয় বলে আমাদের মনে হয়েছে। এতে পরিবার ভয় ও মানসিক চাপে থাকে। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া তাঁর সম্মান ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা তাঁর ছবি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সামাজিক ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে এমন ছবি প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যদিও এর আগে কয়েকবার এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেছিলেন, থানা থেকে কোনো ব্যক্তির ছবি ফাঁস করা হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবি ছড়ায়, সেগুলোর উৎস সম্পর্কে  জানা নেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব।

বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান  প্রতিনিধি:

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব মেলাসহ নানা আয়োজনে বান্দরবানে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় যুব ভবনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক অংজাই উই চাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা জামায়াতের আমীর এসএম আব্দুস সালাম আজাদ,বান্দরবান ইসলামিক ফাউণ্ডেশন উপপরিচালক মো সেলিম উদ্দিন,বান্দরবান প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,বিএনপি নেতা মো.আবু তাহের।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বান্দরবান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনায়েত করিম। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিপিসি মোখলেসুর রহমান, বান্দরবানের বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী, বালাঘাটা ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো:আলী’সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, যুব সংগঠক ও তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার লুবু প্রু মারমা।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি যুব মেলায় তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণের চেক বিতরণ ও ৩টি যুব সংগঠনের নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন,দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

মোহাম্মদ আবুল হাশেম লামা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ হলেও বরাবরের মতো এবারও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বোধিছড়াস্থ ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬০ জনেই পাশ করেছে। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পেয়েছে ১৭ জন, এতে পাশের হার শতভাগ। সে মতে জেলার অন্যান্য কলেজের চেয়ে ফলাফলে এগিয়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বান্দরবান জেলার ১৪ টি কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ থেকে ৩টি বিভাগে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪জন, এতে ‘এ’ প্লাস ৫জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৯জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১২জন, এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস ৪জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৮জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় ৩৪জন অংশ গ্রহণ করে ‘এ’ প্লাস ৮জন, ২৫ জন ‘এ’ গ্রেড ও ১ জন ‘এ’ মাইনেস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। প্রকাশিত ফলাফলে শতভাগ উত্তীর্ণ কলেজের মধ্যে শিক্ষার্থী ও ‘এ’ প্লাস সংখ্যায় কোয়ান্টাম কসমো কলেজের অবস্থান জেলায় শীর্ষে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার সরকারী মাতামুহুরী কলেজ থেকে একই পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৫৫জন। এর মধ্যে পাশ করে মাত্র ২৭৮জন। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পায় ৫জন, পাশের হার ৩৬.৮২ । চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পরীক্ষা দেয় ৪৯জন, এর মধ্যে পাশ করে ৬জন, পাশের হার ১২.৭৭। হেফাজতুর রহমান কলেজ থেকে পর এতে পাশের হার শরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২৪জন শিক্ষার্থী, পাশ করে ১১জন, পাশের হার ৪৬.০০। লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৭জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৬জন, পাশের হার ৩৫.২৯।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কলেজের হোস্টেলে ছিলাম। আমাদের শিক্ষকরা যে পরিমাণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সার্বক্ষনিক মনিটরিং এ রেখেছেন তাতে ভালো ফলাফল না করে উপায় নেই। তাই সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

দিক-নির্দেশনা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ক্লাশ পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রদান এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ-এ ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ।
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানায়, সর্বোচ্চ এ প্লাস ও শতভাগ পাশের হারে শীর্ষ স্থান অর্জন করে লামা উপজেলার ভারমূর্তি উজ্জ্বল করেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। কলেজগুলোর এ র‌্যাংকিং করা হয় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জিপিএ-৫ ও পাশের হারের ভিত্তিতে।