চরিত্র বদলাবে কি রিমন বড়ুয়ার?
নতুন এসিল্যান্ড সামছুজ্জামানের হাতে পরিবর্তনের হাওয়া
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম, ঘুষ ও দালালচক্রের দাপটে নাজেহাল ছিল সাধারণ মানুষ। ভূমি সংক্রান্ত কাজ করতে গেলে ফি নয়, আগে গুনতে হতো ঘুষের টাকা। কিন্তু নতুন এসিল্যান্ড সামছুজ্জামান যোগদানের পর সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। দুর্নীতির দুর্গে এখন ঢুকেছে সুশাসনের হাওয়া। জনগণ বলছে—অবশেষে এমন একজন এসিল্যান্ড এলেন, যিনি দুর্নীতিকে ভয় পান না, বরং দুর্নীতিবাজদের ভয় দেখাচ্ছেন।
এতোদিন ভূমি অফিসের ঘুষ বাণিজ্যের মূল চরিত্র হিসেবে বারবার উঠে আসে নাজির কাম ক্যাশিয়ার রিমন বড়ুয়ার নাম। অভিযোগ উঠে—শুনানির তারিখ নির্ধারণ, ফাইল এগিয়ে নেওয়া কিংবা রায়ের কপি প্রদান—সবক্ষেত্রেই তিনি খোলাখুলি ঘুষ দাবি করতেন।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, রিমন বড়ুয়ার হাতে টাকা না দিলে ফাইল মাসের পর মাস পড়ে থাকত। তিনি ঘুষ নেওয়াকে নিয়ম বানিয়ে ফেলেছিলেন।
নোমান নামে সাবেক এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ভূমি অফিসে গেলে মনে হতো আমরা দেশের নাগরিক না, ভিক্ষুক। শুনানির তারিখ নিতেও ঘুষ, রায়ের কপি নিতেও ঘুষ—এ কেমন রাষ্ট্র!
একজন স্থানীয় সাংবাদিক জানান, তার আত্মীয়ের কাছ থেকেও রিমন বড়ুয়া ৭ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন।
এদিকে, নতুন এসিল্যান্ড সামছুজ্জামান যোগদানের পর থেকেই বার্তা দিয়েছেন—সাতকানিয়া ভূমি অফিস হবে হয়রানিমুক্ত ও জনবান্ধব।
তিনি ফেসবুকে সাতকানিয়াবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিখেছেন— ‘উপজেলা ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসসমূহে হয়রানিমুক্ত ও জনবান্ধব সেবা প্রদানে আমরা আপনাদের নিকট প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
ফেসবুকে তিনি লিখেন, ‘নামজারি ফি ও ভূমি উন্নয়ন কর এখন শতভাগ অনলাইনে আদায় করা হয়। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন, সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন—০১৭২৩-৫৯৯৫১০।’
তিনি আরও সতর্ক করেছেন— ভূমি অফিসে নগদ লেনদেনের কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি টাকা এখন iBASS++ সিস্টেমের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা হয়।
জনগণের সচেতনতার জন্য এসিল্যান্ড সামছুজ্জামান বিস্তারিত জানিয়ে লিখেন— একটি নামজারি করতে সরকারের মোট খরচ মাত্র ১১৭০ টাকা, যা নিম্নরূপ— ১. কোর্ট ফি: ২০ টাকা ২. নোটিশ ফি: ৫০ টাকা ৩. রেকর্ড কারেকশন ফি: ১০০০ টাকা ৪. খতিয়ান কপি ফি: ১০০ টাকা।
তিনি লিখেন, এই অর্থ অনলাইনে জমা হয়, কোনো নগদ অর্থ প্রদানের প্রয়োজন নেই। ফি ছাড়াও কেউ যদি টাকা দাবি করে, সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ করুন।
ফেসবুকে সামছুজ্জামান জানিয়েছেন, ভূমিসেবা ওয়েব প্ল্যাটফর্ম (https://land.gov.bd) এখন ফেসবুক বা জিমেইলের মতোই সহজ। যারা সামান্য মোবাইল ব্যবহার করতে পারেন, তারাও নিজে নিজে নামজারি আবেদন, খতিয়ান সংগ্রহ বা ভূমি উন্নয়ন কর দিতে পারবেন।
তিনি আরও যোগ করেন, নিজের জমির কাজ নিজে করুন—দালালদের হাতে অর্থ তুলে দেবেন না। তৃতীয় পক্ষকে অতিরিক্ত টাকা দিলে সেটি সরকারী ফি নয়, ব্যক্তিগত লেনদেন।
এসিল্যান্ডের এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তির বার্তা ফিরলেও ঘুষের অভিযোগে অভিযুক্ত নাজির কাম ক্যাশিয়ার রিমন বড়ুয়ার বিষয়ে ক্ষোভ তুঙ্গে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, নতুন এসিল্যান্ড সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কিন্তু তার সাফল্যে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে রিমন বড়ুয়ার মতো দুর্নীতিবাজ কর্মচারীরা।
মানুষ এখন এসিল্যান্ডের কাছে দাবি জানাচ্ছে— রিমন বড়ুয়ার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হোক, যেন ভবিষ্যতে কেউ ভূমি অফিসকে ব্যক্তিগত ঘুষের দোকান বানাতে না পারে।








