সাতকানিয়ায় ‘অসভ্যতার চরম নমুনা’: প্রবাল এক্সপ্রেসে পাথর নিক্ষেপ
কোনোভাবেই যেন থামানো যাচ্ছে না চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ। এমন ঘটনায় ট্রেনের স্বাচ্ছন্দ্য আর আনন্দদায়ক ভ্রমণ যেন ম্লান হচ্ছে। ক্ষুন্ন হচ্ছে রেলওয়ের সুনাম। তৈরি হচ্ছে ভীতি। এবার পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা পর্যটকবাহী প্রবাল এক্সপ্রেস যখন সাতকানিয়ার তেমুহনী বিল ও দোহাজারী সাঙ্গু ব্রিজের মধ্যবর্তী এলাকায় পৌঁছায়, তখন কে বা কারা ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে মারে। এতে ট্রেনের জ বগিতে থাকা এক মহিলা যাত্রী তার শিশুকে রক্ষা করার চেষ্টায় মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। এমন ঘটনায় পুরো ট্রেনজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
যাত্রীরা অভিযোগ করেন, দোহাজারী–কক্সবাজার রুটে নিয়মিতই পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। তবে প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর সঙ্গে একই বগিতে থাকা যাত্রী রিদওয়ান সাইমুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করেই ট্রেনের ভিতর পাথর ঢুকে পড়ে। বাচ্চাকে বাঁচাতে গিয়ে এক মা মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। এটা সত্যিই অমানবিক এবং সাতকানিয়াবাসীর জন্য লজ্জাজনক।’
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে লিখেছেন—সাতকানিয়াবাসী হিসেবে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। যারা এ কাজ করছে, তারা আমাদের সমাজ ও এলাকার জন্য কলঙ্ক।
স্থানীয়রা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলেও দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে সংশ্লিষ্টরা উদাসীন। অথচ এ ধরনের দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে ‘সাঁড়াশি অভিযান’ চালালে অল্প সময়েই তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ একটি পরিকল্পিত অপরাধচক্রের কাজ হতে পারে। শুধু কৌতুক বা মজা করার মানসিকতা নয়, এর সঙ্গে সন্ত্রাসী মনোভাবও জড়িত থাকতে পারে। এভাবে চলতে থাকলে পর্যটকরা ভীত হয়ে পড়বে এবং দেশের পর্যটন খাতের জন্য বড় ক্ষতি ডেকে আনবে।
রেলওয়ে আইনের ১২৭ ধারা অনুযায়ী, ট্রেনে পাথর ছোড়া হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান আছে। ৩০২ ধারা অনুযায়ী, পাথর নিক্ষেপে কারও মৃত্যু হলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে এসব আইনে কারও শাস্তি হয়েছে, এমন নজির নেই। তবে এমন ঘটনা রোধে সাতকানিয়ায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, যারা চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুঁড়ছে, তারা সেটাকে অপরাধ বলে মনে করে না। শুধু আনন্দ পেতে অনেকে এই কাজ করছে। আবার অনেকে হয়তো ভাবে, পাথর ছোঁড়া হলে ট্রেন থামবে কিংবা কিছু জিনিসপত্র কুড়িয়ে পাওয়া যাবে। মূলত, এটা করে তারা অসুস্থ আনন্দ পাচ্ছে।








