মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

আইনশৃঙ্খলা কমিটির দরজা সবার জন্য খোলা, গোপন তথ্যের কবর দিচ্ছে প্রশাসনই

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫, ১২:৪৬ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
আইনশৃঙ্খলা কমিটির দরজা সবার জন্য খোলা, গোপন তথ্যের কবর দিচ্ছে প্রশাসনই

সাতকানিয়া উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা—যেখানে মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চোরাকারবারি, চাঁদাবাজ এমনকি অস্ত্রবাজ ও সংশ্লিষ্টদের নাম উঠে আসে—সেই সভাতেই অনাহূতদের অবাধ আসা-যাওয়া! সংবেদনশীল আলোচনার এমন এক সভায় বসে থাকছেন এমন লোক, যাদের কোনো সরকারি দায়িত্ব নেই, নেই কমিটির আনুষ্ঠানিক সদস্যপদও। ফলে, এই সভা পরিণত হচ্ছে “তথ্য পাচারের উন্মুক্ত দরজায়”।

জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা সভায় নির্ধারিত সদস্যদের পাশাপাশি অচেনা মুখও দেখা যাচ্ছে। এদের কেউ পরিচিত রাজনৈতিক কর্মী, কেউ আবার ব্যবসায়ী, আবার কেউ ‘সাংবাদিক’ পরিচয় দিয়ে ঢুকে পড়ছেন। প্রবেশপত্র বা যাচাই-বাছাইয়ের কোনো বাধা না থাকায় আমন্ত্রিত নন এমন ব্যক্তিরাও চুপচাপ চেয়ার টেনে বসে পড়ছেন।

এই দৃশ্য একবারের নয়, বরং গত কয়েক মাস ধরেই এমন হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভা, যেখানে মাদক কারবারিদের নাম-ঠিকানা থেকে শুরু করে, সন্ত্রাসীদের গতিবিধি, চোরাকারবারি ও অস্ত্র চক্রের গতিপথ—সব বিশদে আলোচনা হয়, সেখানেই অবাঞ্ছিতদের এই অবাধ প্রবেশ। সভা পরিচালনাকারী কর্মকর্তারাও অনেক সময় অনাহূতদের সেখানেই বসে থাকতে দিচ্ছেন—যেন গোপন আলোচনা নয়, বরং উন্মুক্ত জনসভা চলছে।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই অবাঞ্ছিত উপস্থিতি শুধু শোভামণ্ডিত নয়, বরং ভয়ংকর ফল বয়ে আনছে। সভায় আলোচনার পরই তা অপরাধীদের কানে পৌঁছে যায়।

আইনশৃঙ্খলা কমিটি মূলত প্রশাসন, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় প্ল্যাটফর্ম। এখানে সন্ত্রাস, মাদক, নারী নির্যাতন, চোরাচালান, সামাজিক অপরাধ—সব বিষয়ে তথ্য শেয়ার হয় এবং অভিযানের পরিকল্পনা হয়।

আগে এই সভা ছিল কড়া নিয়ন্ত্রণে। সদস্য তালিকা, নিরাপত্তা প্রহরী—সব কিছু নিশ্চিত করা হতো। কিন্তু গত বছরের ৫ আগস্টের পর এই নিয়ন্ত্রণ শিথিল হতে শুরু করে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব, পরিচিতির জোর এবং কর্মকর্তাদের উদাসীনতার সুযোগে গোপন সভা এখন “যে কেউ ঢুকে বসতে পারে” এমন জায়গায় পরিণত হয়েছে।

কেন এমন হচ্ছে? সভায় অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা মাদক কারবারির নেটওয়ার্ক, সন্ত্রাসীদের অবস্থান, অভিযান পরিকল্পনা—সবই খোলামেলা বলি। কিন্তু যখন দেখি অপরিচিত লোক বসে শুনছে, তখন কথা বলতেও দ্বিধা হয়।

তিনি বলেন, আমরা জানি, এই লোকদের এখানে থাকার কথা নয়। কিন্তু কেউ যদি রাজনৈতিক নেতার ঘনিষ্ঠ হয়, কিংবা প্রভাবশালী মহলের লোক হয়, তখন তাদের বের করতে গেলে উল্টো বিপদ হতে পারে।

একাধিক সূত্র বলছে, সভা শেষ হতেই এসব অনাহূত অংশগ্রহণকারী তথ্য বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন। কোথাও কোথাও অভিযানের আগেই খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় পুলিশ বা প্রশাসনের তৎপরতা ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি সন্দেহভাজন অপরাধীদের সতর্কবার্তাও পৌঁছে যাচ্ছে তাদের হাতে।

অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা চাই, সভা হোক কেবল অনুমোদিত সদস্যদের নিয়ে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, অনাহূতদের প্রবেশ ঠেকানোর মতো ব্যবস্থা নেই। ফলে, আমরা যা বলি—তা সবার কানে পৌঁছে যায়।

একজন জনপ্রতিনিধি বলেন, সভায় আসা কিছু অচেনা মুখ আসলে কারও না কারও হয়ে কাজ করে। তারা তথ্য নিয়ে বাইরে গিয়ে বিক্রি করে বা সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে।

একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, আইনশৃঙ্খলা সভা যদি সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়, তাহলে অপরাধীরা আমাদের পরিকল্পনা আগেভাগেই জেনে যাবে। এটা পুরো সিস্টেমের জন্য মারাত্মক হুমকি।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা সভায় ডাকাই হয় না।’

তথ্য অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সভায় ঢোকা এখন একরকম নিয়মে পরিণত হয়েছে। নির্দিষ্ট আমন্ত্রণ না থাকলেও স্থানীয় রাজনৈতিক পরিচয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তরা আর বাধা দেন না। ফলে সভার গোপনীয়তা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে।

আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে সাতকানিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে। মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান চক্র এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সুরক্ষিত করছে। একইসঙ্গে প্রশাসনের ভেতরের সংবেদনশীল তথ্য এখন ‘বিক্রিযোগ্য পণ্য’ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের সরকারি মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, আইনশৃঙ্খলা সভা মানে গোপন তথ্য বিনিময়ের জায়গা, এখানে সবাইকে বসার সুযোগ দিলে এর কোনো অর্থই থাকবে না। তারা প্রবেশে কঠোরতা এবং প্রতিটি অংশগ্রহণকারীর পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক করার দাবি তুলেছেন।

যদি অবাঞ্ছিতদের এই অবাধ প্রবেশ বন্ধ না হয়, তবে প্রশাসনের গোপন পরিকল্পনা ও অভিযান সবই ব্যর্থ হতে পারে। অপরাধীরা আগেই সতর্ক হয়ে সরে যাবে, প্রমাণ মুছে ফেলবে, এমনকি প্রশাসনের ভেতরের লোকজনকেও চাপে ফেলতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা সভা—যা মূলত অপরাধ দমন ও নিরাপত্তা জোরদারের জন্য—এখন যদি অপরাধীদের জন্য আগাম সতর্কবার্তার উৎসে পরিণত হয়, তবে সাতকানিয়া শুধু নয়, পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রাম ভয়াবহ নিরাপত্তা সংকটে পড়বে।

টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

জাহেদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১১ পিএম
টাকা না পেলে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেন ওসি!

টাকা না দিলে থানায় আটক ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তি বা তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। সেই অর্থ না পেলে থানায় তোলা ছবি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আটক ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো প্রেস রিলিজে আটক ব্যক্তির ছবি ব্লার করা অবস্থায় দেওয়া হলেও, একই ব্যক্তির অব্লার ছবি এর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন ভিন্নতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন থাকে, তবে সেই নীতি সবক্ষেত্রেই সমানভাবে অনুসরণ করা উচিত। অন্যথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাঁর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হয়ে যায়। এতে আদালতে বিচার শুরুর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি, ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়া থানায় আটক একাধিক ব্যক্তির ছবি প্রেস রিলিজ প্রকাশের আগেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, থানার ভেতরে তোলা ছবি কীভাবে এত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌঁছে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক স্বজনকে আটকের পর বিভিন্নভাবে টাকার কথা বলা হয়। টাকা দিতে না পারার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি থানায় তোলা তাঁর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পরিচিতজনরা ফোন করে জানতে চান কী হয়েছে। এতে আমরা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।

আরেক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, আইনি প্রক্রিয়া চলার আগেই একজনের ছবি এভাবে প্রকাশ করে দেওয়া ঠিক নয়। পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও সমাজের মানুষের কাছে সেই অপবাদ থেকেই যায়।

আরেকজন অভিযোগ করেন, ছবি প্রকাশ করে সামাজিক চাপ তৈরি করা হয় বলে আমাদের মনে হয়েছে। এতে পরিবার ভয় ও মানসিক চাপে থাকে। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া তাঁর সম্মান ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা তাঁর ছবি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সামাজিক ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে এমন ছবি প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যদিও এর আগে কয়েকবার এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেছিলেন, থানা থেকে কোনো ব্যক্তির ছবি ফাঁস করা হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবি ছড়ায়, সেগুলোর উৎস সম্পর্কে  জানা নেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব।

বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
বান্দরবানে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান  প্রতিনিধি:

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব মেলাসহ নানা আয়োজনে বান্দরবানে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় যুব ভবনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক অংজাই উই চাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা জামায়াতের আমীর এসএম আব্দুস সালাম আজাদ,বান্দরবান ইসলামিক ফাউণ্ডেশন উপপরিচালক মো সেলিম উদ্দিন,বান্দরবান প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,বিএনপি নেতা মো.আবু তাহের।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বান্দরবান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনায়েত করিম। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিপিসি মোখলেসুর রহমান, বান্দরবানের বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী, বালাঘাটা ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো:আলী’সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, যুব সংগঠক ও তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার লুবু প্রু মারমা।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি যুব মেলায় তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণের চেক বিতরণ ও ৩টি যুব সংগঠনের নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন,দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
বান্দরবানে এবারও শীর্ষে ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’

মোহাম্মদ আবুল হাশেম লামা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ হলেও বরাবরের মতো এবারও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বোধিছড়াস্থ ‘কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬০ জনেই পাশ করেছে। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পেয়েছে ১৭ জন, এতে পাশের হার শতভাগ। সে মতে জেলার অন্যান্য কলেজের চেয়ে ফলাফলে এগিয়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বান্দরবান জেলার ১৪ টি কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ থেকে ৩টি বিভাগে ৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪জন, এতে ‘এ’ প্লাস ৫জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৯জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১২জন, এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস ৪জন ও ‘এ’ গ্রেড পায় ৮জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় ৩৪জন অংশ গ্রহণ করে ‘এ’ প্লাস ৮জন, ২৫ জন ‘এ’ গ্রেড ও ১ জন ‘এ’ মাইনেস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। প্রকাশিত ফলাফলে শতভাগ উত্তীর্ণ কলেজের মধ্যে শিক্ষার্থী ও ‘এ’ প্লাস সংখ্যায় কোয়ান্টাম কসমো কলেজের অবস্থান জেলায় শীর্ষে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার সরকারী মাতামুহুরী কলেজ থেকে একই পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৫৫জন। এর মধ্যে পাশ করে মাত্র ২৭৮জন। এর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পায় ৫জন, পাশের হার ৩৬.৮২ । চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পরীক্ষা দেয় ৪৯জন, এর মধ্যে পাশ করে ৬জন, পাশের হার ১২.৭৭। হেফাজতুর রহমান কলেজ থেকে পর এতে পাশের হার শরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২৪জন শিক্ষার্থী, পাশ করে ১১জন, পাশের হার ৪৬.০০। লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৭জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৬জন, পাশের হার ৩৫.২৯।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কলেজের হোস্টেলে ছিলাম। আমাদের শিক্ষকরা যে পরিমাণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সার্বক্ষনিক মনিটরিং এ রেখেছেন তাতে ভালো ফলাফল না করে উপায় নেই। তাই সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

দিক-নির্দেশনা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ক্লাশ পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রদান এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ-এ ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ।
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানায়, সর্বোচ্চ এ প্লাস ও শতভাগ পাশের হারে শীর্ষ স্থান অর্জন করে লামা উপজেলার ভারমূর্তি উজ্জ্বল করেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। কলেজগুলোর এ র‌্যাংকিং করা হয় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জিপিএ-৫ ও পাশের হারের ভিত্তিতে।