‘বিশেষজ্ঞ ডাক্তার’ পরিচয়ে প্রতারণা, দুজনকে লাখ টাকা জরিমানা
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে আসছিলেন দুই পল্লী চিকিৎসক। তাঁদের নেই কোনো মেডিকেল ডিগ্রি, নেই কোনো সরকারি অনুমোদন। তবুও তারা নিজেদের পরিচয় দিতেন ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক’ হিসেবে। অবশেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ফাঁস হলো তাদের অপচিকিৎসার ভয়ংকর বাণিজ্য।
অভিযুক্তরা হলেন—সাতকানিয়া পৌরসভার ঠাকুরদিঘীর পাড় এলাকার মসজিদ মার্কেটের মো. এহসান হাবীব এবং ছমদিয়া পুকুর পাড় এলাকার সুকুমার দে।
স্থানীয়ভাবে পরিচিত হলেও, তাঁদের কেউই এমবিবিএস তো দূরের কথা, কোনো প্রকার অনুমোদিত চিকিৎসা ডিগ্রিও পাননি। অথচ বছরের পর বছর তাঁরা চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি গোপনে চালিয়ে গেছেন ছোট-বড় সার্জারি এবং জীবন রক্ষাকারী শক্তিশালী এন্টিবায়োটিক ও ইনজেকশনের প্রয়োগ।
জানা যায়, অভিযুক্তরা অপারেশনে ব্যবহার করতেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদনহীন, অনেক ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ উচ্চক্ষমতার ইনজেকশন ও ওষুধ। যে অপারেশনগুলো করার জন্য অভিজ্ঞ সার্জন, লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ্যানেসথেটিস্ট ও আধুনিক অস্ত্রোপচার সুবিধা প্রয়োজন—তা এসব পল্লী চিকিৎসক চালাতেন ভাঙা চেয়ারে, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, এই পল্লী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বহুদিন ধরেই নানা অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে কেউই বড় ধরনের আইনগত ঝুঁকিতে পড়েননি।
তবে বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেলে অভিযান চালান সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোন্দকার মাহমুদুল হাসান। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানে উপস্থিত থেকে দুই ভুয়া ‘বিশেষজ্ঞ’ চিকিৎসকের কর্মকাণ্ড ফাঁস করেন। অভিযানে অংশ নেন সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
তারা অভিযুক্তদের চিকিৎসালয়ে হানা দিয়ে দেখতে পান, চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে অনুমোদনহীন ওষুধ, অপারেশন থিয়েটার চলছে গোপনে, এবং রোগীদের দেওয়া হচ্ছে মিথ্যা আশ্বাস।
এ সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী অভিযুক্ত মো. এহসান হাবীব ও সুকুমার দে–কে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযুক্তদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর মুচলেকাও নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, মো. এহসান হাবিবের বিরুদ্ধে গত বছর একটি জাতীয় দৈনিকে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে উঠে এসেছিল কীভাবে অনুমোদনহীন একজন ব্যক্তি অবাধে চেম্বারকে ‘মিনি হাসপাতাল’ চালাচ্ছেন। সেই সময়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে তেমন কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ আছে, এহসান স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ছিলেন বলেই এতদিন এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যেতে পেরেছেন।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোন্দকার মাহমুদুল হাসান ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান।








