চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক
সিএনজির ধাক্কা, ট্রাকের চাকায় পিষে মৃত্যু: পুলিশের চোখের সামনে চলছে এই হত্যাযন্ত্র!
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এক ভয়াবহ ত্রিমুখী সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন একই পরিবারের তিনজন—দুই ভাই ও তাদের মামা।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের সিকদার দিঘির পূর্বপাড় চিপবাড়ী সড়কের মাথায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, নিহত তিনজন একটি মোটরসাইকেলে করে চট্টগ্রামমুখী যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা মোটরসাইকেলটিকে সরাসরি ধাক্কা দেয়। ধাক্কার ফলে মোটরসাইকেলের তিন আরোহী ছিটকে রাস্তায় পড়ে গেলে পেছন থেকে আসা কক্সবাজারগামী একটি মহিষবোঝাই ট্রাক তাদের ওপর দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন।
নিহতরা হলেন—সাতকানিয়া উপজেলার বাহাদিরপাড়া এলাকার মো. হুমায়ুন (৩৭), মো. মামুন (৩২) এবং তাদের মামা করাইয়ানগর আকবরপাড়ার মনির হোসেন (৪৫)। মনির হোসেন ছিলেন তিন সন্তানের জনক।
এ দুর্ঘটনার পর আবারও সামনে এলো মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের বিষয়টি। সরকারের নির্ধারিত নীতিমতে মহাসড়কে সিএনজির চলাচল নিষিদ্ধ, কিন্তু বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ—পুলিশের নীরব প্রশ্রয়েই মহাসড়কে এই ‘হত্যাযন্ত্র’ সিএনজিগুলো চলছে অবাধে।
একজন দোকানদার বলেন, ‘মহাসড়কে সারাদিনই দেখি সিএনজি চলতে। পুলিশের সামনে দিয়েও চলে যায়, কেউ কিছু বলে না। শুনি নাকি মাসিক চাঁদা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করে রাখে।’
ত্রিমুখী সংঘর্ষ ও মৃত্যুজনিত ঘটনায় মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এতে করে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও চালকেরা।
লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আজাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সহায়তা করি।’
সাধারণ মানুষ বলছেন—নিয়মতান্ত্রিক যানবাহনের বদলে এইসব সিএনজি-অটোরিকশাই আজ মহাসড়কের প্রধান ঝুঁকি। পুলিশ, বিআরটিএ ও স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা দুর্ঘটনাকে নিত্যনৈমিত্তিক করে তুলেছে।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুব বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে নিহতদের পরিবার এখনো শোকে পাথর। হুমায়ুন ও মামুন দুই ভাই, আর মনির হোসেন তাদের মামা—এই তিনজন একসাথে এতটা নির্মমভাবে প্রাণ হারাবেন, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।
দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে সিএনজি চালকদের বেপরোয়া মনোভাব, কিন্তু বড় দায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থার।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—আর কত প্রাণ গেলে পুলিশ-প্রশাসন সজাগ হবে?








