বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

ডান পা কাটা রায়হানের সেইদিন কি ঘটেছিল, বেরিয়ে আসলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩০ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ডান পা কাটা রায়হানের সেইদিন কি ঘটেছিল, বেরিয়ে আসলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

রায়হান সিকদার,লোহাগাড়াঃ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি ইউনিয়নের সাতগড় নোয়াপাড়ার ১২ বছরের শিশু মো. রায়হানকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানোর উদ্দেশ্যে রাজধানীর একটি সংঘবদ্ধ চক্র তার একটি পা কেটে দিয়েছে—সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়।

তবে অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য বলছে, ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার জন্য নয়, বরং রাজধানীতে ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তেই রায়হানের একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছিল। একই সঙ্গে রায়হান ও তার পরিবারকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্যেও দেখা গেছে অসংগতি, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

ঢাকা রেলওয়ে থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, রায়হান কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আল আমিন নামে এক যুবকের সঙ্গে লাভের অংশ ভাগাভাগির ভিত্তিতে পানি বিক্রি করত। পাশাপাশি সে ভিক্ষাও করত। গত ১১ জুন বিমানবন্দর এলাকা থেকে গোসল করে কমলাপুরে ফেরার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনের দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় সে।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২ জুলাই রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। মাথায় আঘাতের চিকিৎসার জন্য পরে জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, অস্ত্রোপচারের পর প্রায় দেড় মাস হাসপাতালে ছিল রায়হান। এ সময় সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে তার পরিচর্যার জন্য আরেছা নামের একজন আয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর সে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের জরিনা নামের এক নারীর কাছে আশ্রয় নেয়। স্টেশনে যিনি ‘মালির মা’ নামে পরিচিত ছিলেন। এরপর সেখানেই ভিক্ষা করত রায়হান।

পুলিশের ভাষ্য, একপর্যায়ে রায়হান জানায় তার মা মারা গেছেন এবং সে বাড়ি ফিরতে চায়। পরে তার বন্ধু জাকির তাকে যাত্রাবাড়ীতে নিয়ে একটি বাসে তুলে দেয়। রায়হানকে সহযোগিতার ক্ষেত্রে রেলওয়ে পুলিশের কনস্টেবল রিয়াজুল করিমও ভূমিকা রাখেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা। মিনা নামের স্টেশনের এক নারীও শিশুটির প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে দাবি পুলিশের ওই কর্মকর্তার।
ট্রেন দুর্ঘটনার পর রায়হানকে নিয়ে একটি ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে হাসপাতালের মেঝেতে বসে থাকা রায়হানকে বলতে শোনা যায়, ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে সে আহত হয়েছে। একই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, তার মা-বাবা নেই। ভিডিওতে তার মাথা ও পেটেও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
প্রায় সাত মাস আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছিল রায়হান। সে স্থানীয় একটি হেফজখানায় পড়াশোনা করত। ১৩ সেপ্টেম্বর ভোরে চুনতির সিরাত মাহফিলের মাঠে ভিক্ষা করার সময় স্থানীয়রা তাকে দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন।
রায়হানের বাবা নাজিম উদ্দীন পেশায় দিনমজুর। রায়হানের মায়ের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়েছে। বর্তমানে দুজনের আলাদা সংসার। বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার আগে রায়হান সৎমায়ের সঙ্গে থাকত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওকে কেন্দ্র করে তখনই অভিযোগ ওঠে, রাজধানীর কোনো চক্র তাকে ধরে নিয়ে পা কেটে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামিয়েছে।
কিন্তু রায়হান ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এ অভিযোগের সরাসরি সমর্থন পাওয়া যায়নি। বরং রায়হানের মা-বাবা, সৎ মা এবং শিশুটির নিজের বক্তব্যেও বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে রায়হানের মা মারা গেছেন—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও বাড়িতে গিয়ে তার আপন মা ও সৎমা দুজনের সঙ্গেই কথা বলার সুযোগ পাওয়া যায়। ফলে শিশুটির পারিবারিক পরিস্থিতি, বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার কারণ এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকায় তার অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, রায়হানের বাবা নাজিম উদ্দীনকে নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের কথা রয়েছে। তার দাবি, নাজিম উদ্দীন নিয়মিত মাদক সেবন করেন। রায়হানের পা কাটা অবস্থার ছবি ফেসবুকে দেখানোর পরও তিনি ছেলেকে দেখতে যাননি বলে দাবি করেন আবুল হোসেন।

অথচ বিভিন্ন গণমাধ্যমে নাজিম উদ্দীন বলেছেন, ছেলেকে উদ্ধারের পর তিনি পা কাটা অবস্থায় দেখেছেন এবং এর আগে বিষয়টি জানতেন না। এসব বক্তব্যের মধ্যে অসংগতি রয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
তবে রায়হানের বাবা নাজিম উদ্দীনের বক্তব্যের বিভিন্ন অংশেও সময় ও ঘটনার বর্ণনায় ভিন্নতা পাওয়া গেছে। রায়হান বাড়ি থেকে কেন বের হয়েছিল, কার সঙ্গে ঢাকায় গিয়েছিল, সেখানে কীভাবে জীবন কাটিয়েছে এবং দুর্ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল—এসব বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যও পুরোপুরি এক নয়।

এদিকে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ-বিন-আখন্দ বলেন, রায়হানের বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সহযোগিতা করা হয়েছে। তবে ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রায়হানের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কোনো পারিবারিক সহিংসতা ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

নাইক্ষ্যংছড়িতে আগুনে পুড়ে ছাই ২ দোকান, ২ বসতবাড়ি ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক, অল্পের জন্য রক্ষা পেল গরুর খামার

দৈনিক নীলিগিরি ডেস্ক ✔️ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৫১ পিএম
নাইক্ষ্যংছড়িতে আগুনে পুড়ে ছাই ২ দোকান, ২ বসতবাড়ি ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক, অল্পের জন্য রক্ষা পেল গরুর খামার

জাহাঙ্গীর আলম কাজল,নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মালামালসহ দুটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। একই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুটি বসতবাড়িও। তবে স্থানীয় লোকজনের প্রচেষ্টায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে পাশের একটি গরুর খামার।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভোররাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের আদর্শগ্রাম এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সাহাবুদ্দিন জানান, তিনি ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির কর্মচারী। বৃহস্পতিবার ভোররাতে হঠাৎ আগুনের শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে বেরিয়ে আগুন দেখতে পেয়ে প্রথমে পাশের দোকানদার গোলাম কিবরিয়াকে ফোন করেন। প্রাথমিকভাবে গোলাম কিবরিয়ার দোকান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে আগুন পাশের হামিদ খলিফার কাপড়ের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকলে স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে এরই মধ্যে আগুনে গোলাম কিবরিয়ার দোকানের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদুল আলম জানান, অগ্নিকাণ্ডে গোলাম কিবরিয়ার মুদি দোকান ও হামিদ খলিফার কাপড়ের দোকানের সব মালামাল পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে ওই ভবনের দুই ভাড়াটিয়া সাহাবুদ্দিন ও চুই চা মং মার্মার বসতঘরও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলসংলগ্ন স্থানীয় খামারি মোহাম্মদ ইসলামের বড় একটি গরুর খামারও আগুনের ঝুঁকিতে পড়েছিল। তবে স্থানীয় লোকজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় খামারটি রক্ষা পায়।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার গোলাম কিবরিয়া জানান, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে তাঁর দোকানের তালা খুলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এতে তাঁর আনুমানিক ৮ থেকে ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
অপর দোকানদার হামিদ খলিফা জানান, তাঁর দোকানে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবারের সদস্যরাও তাঁদের ব্যাপক ক্ষতির কথা জানিয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এমপি জসীম উদ্দিনের বিশেষ সহকারী হলেন আবদুস সবুর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৪০ পিএম
এমপি জসীম উদ্দিনের বিশেষ সহকারী হলেন আবদুস সবুর

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসীম উদ্দিন আহমেদের বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আবদুস সবুর।

তাঁর নিয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছার বন্যা বইছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সংসদ সদস্যের কার্যালয় থেকে জারি করা নিয়োগপত্রের মাধ্যমে তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সংসদ সদস্য জসীম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্রে বলা হয়েছে, আবদুস সবুর চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তদারকিসহ অর্পিত অন্যান্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় আবদুস সবুরকে একাধিক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা এই নেতার নতুন দায়িত্ব পাওয়াকে তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় আবদুস সবুর বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে অনেক নির্যাতন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েও রাজপথ ছাড়িনি।

সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসীম উদ্দিন আহমেদ আমার ওপর যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখে এই দায়িত্ব দিয়েছেন, তা যথাযথভাবে পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও তাঁর আস্থার প্রতিদান দিতে চাই। চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার মানুষের উন্নয়ন এবং সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখব।’

তাঁর নিয়োগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

তাঁদের মতে, আবদুস সবুর দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে।

সংসদ সদস্যের বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশা সংসদ সদস্যের কাছে তুলে ধরার সুযোগ আরও সহজ হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

এদিকে, নিয়োগের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবদুস সবুরকে অভিনন্দন জানিয়ে একের পর এক পোস্ট দিচ্ছেন তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। অনেকে তাঁর ছবি ও নিয়োগপত্র প্রকাশ করে নতুন দায়িত্বের সফলতা কামনা করছেন।

শুভাকাঙ্ক্ষীদের বিভিন্ন পোস্টে তাঁকে ত্যাগী ও পরীক্ষিত রাজনৈতিক কর্মী উল্লেখ করে এ নিয়োগকে রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে আবদুস সবুরের নতুন দায়িত্ব পাওয়াকে ঘিরে চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এখন নতুন দায়িত্বে তিনি এলাকার উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কতটা ভূমিকা রাখতে পারেন, সেটিই দেখার বিষয়।

এইচএসসিতে ৫ বিষয়ে ফেল করা ছাত্রশক্তি নেতা এবার ট্রাফিক পুলিশের কাছে তদবিরে ব্যস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম
এইচএসসিতে ৫ বিষয়ে ফেল করা ছাত্রশক্তি নেতা এবার ট্রাফিক পুলিশের কাছে তদবিরে ব্যস্ত

Oplus_131072

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ট্রাফিক পুলিশের কাছে বিভিন্ন যানবাহন ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তদবির করার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রশক্তির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মো. সাঈদ হোসেন মানিকের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ট্রাফিক পুলিশ কোনো যানবাহন আটক করলে তিনি পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে তা ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ধরনের তদবিরের কারণে ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিন বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে কেরানীহাট পুলিশ বক্স থেকে সাঈদ হোসেন মানিককে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। সূত্রের দাবি, তিনি একটি মোটরসাইকেল ছাড়িয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে এসেছিলেন। যদিও এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এটি প্রথম ঘটনা নয়। তাদের দাবি, সড়কে অভিযান চালিয়ে কোনো মোটরসাইকেল বা অন্য যানবাহন আটক করা হলে বিভিন্ন সময় ছাত্রশক্তি নেতা মো. সাঈদ হোসেন মানিক ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ছাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তদবির করেন। এমনকি দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিচয় ব্যবহার করে আইন প্রয়োগে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হলে তা সুশাসন ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। তারা এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাঁচ বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন সাঈদ হোসেন মানিক। এরপর থেকেই তাকে ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। এর মধ্যেই ট্রাফিক পুলিশের কাছে তদবিরের অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পুলিশ বক্সের সামনে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. সাঈদ হোসেন মানিক চুপ থাকেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন যুবক এ প্রতিবেদককে পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে অনুরোধ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেরানীহাট পুলিশ বক্সের ট্রাফিক ইনচার্জ (টিআই) মো. মাহবুব কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।