পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তির নতুন সম্ভাবনা জাতীয়, নির্বাহী ও পরামর্শক—তিন কমিটিকে কার্যকর ভূমিকার আহ্বান নাগরিক পরিষদের
আবুবকর ছিদ্দিক,স্টাফ রিপোর্টারঃ
পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা সমাধান, স্থায়ী শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং পাহাড়ে বসবাসরত সব জাতিগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে গঠিত “জাতীয়, নির্বাহী ও পরামর্শক”—তিন কমিটিকে কার্যকর ও শক্তিশালী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ। একই সঙ্গে এ উদ্যোগের জন্য সরকার, প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের রিস্বংস্বং রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিক্রিয়া জানায় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা, দেশের সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখা এবং বৈষম্যহীন পরিবেশে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া এ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, পাহাড়ের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে শুধু কমিটি গঠন করলেই হবে না, এসব কমিটিকে বাস্তবমুখী, কার্যকর ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, সমস্যা ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কাজী মো. মজিবর রহমান বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এখানকার সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে পারস্পরিক আস্থা ও বৈষম্যহীন পরিবেশ তৈরি করতে হবে।”
জাতীয় কমিটি, নির্বাহী কমিটি ও পরামর্শক কমিটি গঠনের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার একটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এসব কমিটি কাজ করলে পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের পথ আরও সুগম হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয়ে এ ধরনের উদ্যোগ অতীতে কোনো সরকার গ্রহণ করেনি বলে তারা মনে করেন। এ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সংশ্লিষ্টরা সাহসিকতা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবেন। একই সঙ্গে শান্তি ও নিরাপত্তার পাশাপাশি পাহাড়ের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।
গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশে কাজী মো. মজিবর রহমান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা ও সম্ভাবনার প্রকৃত চিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ের মানুষের কথা, বাস্তব সমস্যা এবং উন্নয়নের সম্ভাবনা তুলে ধরতে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
উপস্থিত ছিলেন
সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. শাহজালাল, বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সব সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে নবগঠিত তিন কমিটিকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।











