এ যেন ‘মানবিক’ চোর!
চোরের কাজ চুরি করা—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু চুরি করতে এসে সবকিছু নিয়ে না গিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস মালিকের জন্য রেখে যাওয়ার ঘটনাও যে ঘটতে পারে, তারই যেন ব্যতিক্রমী নজির তৈরি করেছে এক চোর।
বুধবার দিবাগত গভীর রাতে দৈনিক আমার দেশের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা প্রতিনিধি শহীদুল ইসলাম বাবরের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রান্নাঘরের জানালা দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে চোরটি দ্বিতীয় তলায় উঠে একটি আইফোনসহ মোট তিনটি মোবাইল ফোন এবং মানিব্যাগে থাকা আনুমানিক ১১ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।
তবে চুরির পরও ‘মানবিকতার’ পরিচয় দিয়েছে চোর। নগদ টাকা নিয়ে গেলেও পুরো মানিব্যাগটি নিয়ে যায়নি। বরং সেটি বাড়ির সিঁড়িতে ফেলে রেখে গেছে। শুধু তাই নয়, মানিব্যাগে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও ব্যাংকের কার্ডগুলোর কোনোটিতেই হাত দেয়নি।
চুরি যাওয়ার পর মানিব্যাগটি খুঁজে পেয়ে খুলে দেখেন সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম বাবর। ভেতরে নগদ টাকা না থাকলেও অক্ষত রয়েছে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। এর মধ্যে রয়েছে এনটিভি ও দৈনিক আমার দেশের পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ইসলামী ব্যাংকের ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড এবং প্রাইম ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডসহ বিভিন্ন মূল্যবান কাগজপত্র।
ফলে একদিকে তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা হারানোর ক্ষতি হলেও অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র, ব্যাংক কার্ড ও লাইসেন্স হারানোর বড় ধরনের ঝামেলা থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।
জানা যায়, বুধবার দিবাগত গভীর রাতে কোনো এক সময় চোর রান্নাঘরের জানালা দিয়ে দৈনিক আমার দেশের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা প্রতিনিধি শহীদুল ইসলামের সাতকানিয়ায় গ্রামের বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর দ্বিতীয় তলায় উঠে ঘরের বিভিন্ন স্থানে থাকা জিনিসপত্র তল্লাশি করে। একপর্যায়ে শহীদুল ইসলাম বাবরের ব্যবহৃত একটি আইফোনসহ মোট তিনটি মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। পরে তাঁর মানিব্যাগ থেকেও আনুমানিক ১১ হাজার টাকা বের করে নেয় চোর। তবে টাকা নেওয়ার পর মানিব্যাগটি সঙ্গে না নিয়ে সিঁড়িতে ফেলে যায়। পরবর্তীতে সেটি পাওয়া গেলে দেখা যায়, মানিব্যাগে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রগুলো অক্ষত।
চোরের এই আচরণই এখন ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। ‘চোর হলেও কাগজপত্রের গুরুত্ব বুঝেছে!’
ঘটনা সম্পর্কে শহীদুল ইসলাম বাবর বলেন, চোর তাঁর বাড়িতে ঢুকে তিনটি মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগে থাকা প্রায় ১১ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। তবে মানিব্যাগটি সিঁড়িতে ফেলে যাওয়ায় সেটি পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, মানিব্যাগের ভেতরে এনটিভি ও দৈনিক আমার দেশের আইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ইসলামী ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড এবং প্রাইম ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল। চোর এসব কিছুই নেয়নি।
হাস্যরসের সুরে তিনি বলেন, ‘চোর টাকা আর মোবাইল নিয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রগুলো রেখে গেছে। এটাকে চোরের মানবিকতা বলা যায়। অন্তত কাগজপত্রগুলো হারালে যে বাড়তি ঝামেলায় পড়তে হতো, সেটা থেকে রক্ষা পেয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘চোর মহাশয় হয়তো বুঝেছেন, টাকা ও মোবাইল তাঁর কাজে লাগবে, কিন্তু আমার আইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা ব্যাংকের কার্ড তাঁর কোনো কাজে আসবে না। তাই সেগুলো রেখে গেছেন। চোরের এমন মানবিকতা মনে রাখার মতো।’











